Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার থাপ্পরে আহত সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:43:55 pm, Thursday, 2 March 2023
  • 136 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমানকে থাপ্পর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু থাপ্পর নয়, জোরপূর্বক গালিগালাজ করে গাড়ির পিছনে উঠিয়ে বেশকিছুক্ষন আটকে রাখেন। পরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে মোঃ মিজানুর রহমানকে। বুধবার (০১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের কাঠালতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন মারধরের শিকার মোঃ মিজানুর রহমান। চোখ ও কানে গুরুত্বর আঘাত থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মোঃ মিজানুর রহমানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আহত মোঃ মিজানুর রহমান ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের দুই বারের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা।
কাঠালতলা এলাকায় থাকা একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, খুলনা-মাওয়া মহাসড়ক দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটি ফলতিতার দিকে যাচ্ছিল। মাত্র তিন সেকেন্ডের ব্যবধানে গাড়িটি ব্যাকে আসেন। তখন পার্শ্ব রাস্তা থেকে উঠে আসা মিজানুর রহমানের মোটরসাইকেলের সাথে ইউএন‘র গাড়িটির সামান্য ঘষা লাগে। প্রথমে গাড়ি চালক নিচে আসেন। পরে ইউএনও গাড়ি থেকে নামেন এবং মোঃ মিজানুর রহমানকে থাপ্পর দেন। পরে গাড়ির পিছনে উঠিয়ে নিয়ে চলে যান ইউএনও।
প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রথমে গাড়ি চালক নেমে এসে মিজানুর রহমানকে ধমকায়। পরে ইউএনও গাড়ি থেকে নেমে মিজানুর রহমানকে থাপ্পর দেন।
আহত মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে গরুর ফার্মে যাচ্ছিলাম। কাঠালতলা মোড় এলাকায় পৌছালে দ্রæত গতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটি ব্যাকে (পিছনে) আসে। তখন ইউএনও‘র গাড়ির সাথে আমার মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগে। সাথে সাথে ইউএনও‘র গাড়ি চালক এসে আমাকে গাড়িতে উঠতে বলে। গাড়িতে না উঠলে, ইউএনও গাড়ি থেকে নেমে এসে আমাকে থাপ্পর দেয়। ধাক্কা দিয়ে গাড়ির পেছনে ওঠায় এবং গালিগালাজ করে। গাড়িতে করে কয়েক কিলোমিটার নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে ছেড়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, পরে আমি ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। চিকিৎসক আমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাক, গান গলা বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনায় বিচার চাওয়ার মত ভাষা নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে উপজেলার প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাবেক জনপ্রতিনিধিকে মারধরের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনও‘র কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খান মোহাম্মাদ আরিফুল হক বলেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিকে মারধরস করা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। একজন ইউএনও‘র কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না। ইউএনও মোঃ মনোয়ার হোসেন শুধু মোঃ মিজানুর রহমানকে মারধর করেনি, এর আগেও একাধিক নাগরিক তার হাতে লাঞ্চিত হয়েছে। তিনি যা করেছেন তা চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের মত অপরাধ। ইউএনও-কে বহিস্কার পূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক প্রত্যয় দাস বলেন, মোঃ মিজানুর রহমান বেশ অসুস্থ্য এবং মুখ-কান ফোলা থাকায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থাপ্পর দেওয়ার বিষয়টি অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, তাকে কথা বলার জন্য গাড়িতে ওঠানো হয়েছে। পরিচয় জানার পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার থাপ্পরে আহত সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান

আপডেট টাইম : 05:43:55 pm, Thursday, 2 March 2023

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমানকে থাপ্পর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু থাপ্পর নয়, জোরপূর্বক গালিগালাজ করে গাড়ির পিছনে উঠিয়ে বেশকিছুক্ষন আটকে রাখেন। পরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে মোঃ মিজানুর রহমানকে। বুধবার (০১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের কাঠালতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন মারধরের শিকার মোঃ মিজানুর রহমান। চোখ ও কানে গুরুত্বর আঘাত থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মোঃ মিজানুর রহমানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আহত মোঃ মিজানুর রহমান ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের দুই বারের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা।
কাঠালতলা এলাকায় থাকা একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, খুলনা-মাওয়া মহাসড়ক দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটি ফলতিতার দিকে যাচ্ছিল। মাত্র তিন সেকেন্ডের ব্যবধানে গাড়িটি ব্যাকে আসেন। তখন পার্শ্ব রাস্তা থেকে উঠে আসা মিজানুর রহমানের মোটরসাইকেলের সাথে ইউএন‘র গাড়িটির সামান্য ঘষা লাগে। প্রথমে গাড়ি চালক নিচে আসেন। পরে ইউএনও গাড়ি থেকে নামেন এবং মোঃ মিজানুর রহমানকে থাপ্পর দেন। পরে গাড়ির পিছনে উঠিয়ে নিয়ে চলে যান ইউএনও।
প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রথমে গাড়ি চালক নেমে এসে মিজানুর রহমানকে ধমকায়। পরে ইউএনও গাড়ি থেকে নেমে মিজানুর রহমানকে থাপ্পর দেন।
আহত মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে গরুর ফার্মে যাচ্ছিলাম। কাঠালতলা মোড় এলাকায় পৌছালে দ্রæত গতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িটি ব্যাকে (পিছনে) আসে। তখন ইউএনও‘র গাড়ির সাথে আমার মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কা লাগে। সাথে সাথে ইউএনও‘র গাড়ি চালক এসে আমাকে গাড়িতে উঠতে বলে। গাড়িতে না উঠলে, ইউএনও গাড়ি থেকে নেমে এসে আমাকে থাপ্পর দেয়। ধাক্কা দিয়ে গাড়ির পেছনে ওঠায় এবং গালিগালাজ করে। গাড়িতে করে কয়েক কিলোমিটার নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তিনি আমাকে ছেড়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, পরে আমি ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। চিকিৎসক আমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাক, গান গলা বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনায় বিচার চাওয়ার মত ভাষা নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে উপজেলার প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাবেক জনপ্রতিনিধিকে মারধরের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনও‘র কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খান মোহাম্মাদ আরিফুল হক বলেন, একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিকে মারধরস করা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। একজন ইউএনও‘র কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করা যায় না। ইউএনও মোঃ মনোয়ার হোসেন শুধু মোঃ মিজানুর রহমানকে মারধর করেনি, এর আগেও একাধিক নাগরিক তার হাতে লাঞ্চিত হয়েছে। তিনি যা করেছেন তা চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের মত অপরাধ। ইউএনও-কে বহিস্কার পূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক প্রত্যয় দাস বলেন, মোঃ মিজানুর রহমান বেশ অসুস্থ্য এবং মুখ-কান ফোলা থাকায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
থাপ্পর দেওয়ার বিষয়টি অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, তাকে কথা বলার জন্য গাড়িতে ওঠানো হয়েছে। পরিচয় জানার পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।