Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি
সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে বিএনপির নারী নেত্রীদের অবমূল্যায়ন ও হাইব্রিড নেতাদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 03:27:04 pm, Sunday, 10 May 2026
  • 89 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃবাগেরহাটে বিএনপির ত্যাগী নারী নেত্রীদের অবমূল্যায়ন ও সুবিধাবাদী ‘হাইব্রিড’ নেতাদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা আক্তার। শনিবার (১০ মে) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। এসময়, জেলা বিএনপির সদস্য রুনা গাজী, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস আক্তার ইভা, সহ সভাপতি শিরিনা আক্তারসহ জেলার ১২টি ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহিদা আক্তার বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৯১ সালে প্রয়াত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ স ম মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত নানা ঘাত-প্রতিঘাত, হামলা, হুমকি-ধামকী ও জীবনের ঝুকি নিয়ে বিএনপির রাজনীতি সক্রিয় রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক থেকে শুরু করে ইউনিয়ন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক,উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক,উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ও জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক,জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিপুল
ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দলের জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি কিন্তু এখন দলে বসন্তের কোকিল ও হাইব্রিড নেতাদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ মে বাগেরহাট বাস টার্মিনালে মে দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় শ্রমিক দলের স্বঘোষিত নেতা সেলিম ভূঁইয়া তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন। ৫ আগস্ট এর পরে এসে টাকার বিনিময়ে তাদের নাম আসে ব্যানারে। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজরা তার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেয়। ওই দিন মূলত শ্রমিক দলের স্বঘোষিতা নেতা সেলিম ভূঁইয়া আমার
মাইক কেড়ে নিয়েছিল। তখন বাগেরহাট ১,২,ও ৪ আসনের প্রার্থীরা মঞ্চে বসা ছিলেন। এছাড়াও জেলা বি,এন,পির সদস্য সচিব, বি এন পির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপসহ আরও কয়েক জন জেলা বি এন পির সদস্য। নেতারা মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করেননি।

সেলিম ভূইয়া সম্পর্কে শাহিদা আক্তার বলেন, সেলিম ভূঁইয়া আওয়ামী লীগেরআমলেও সুবিধাভোগী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে বাসস্ট্যান্ড দখলে নেওয়ার জন্য অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ নানা প্রকার অন্যায় করেছে। চাঁদাবাজীও করেছে অসংখ্য স্থানে। তার মত একজন সুবিধাবাদী মানুষ আমার মাইক কেড়ে নিয়ে আমার রাজনৈতিক ত্যাগকে অস্বীকার করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত পূর্বক আমি এই ঘটনার সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই জেলা বিএনপির কাছে। ৫ আগস্টের পরে বাগেরহাটের রাজনীতিতে আলোচিত মুখ রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে মহিলা দলের সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলায় রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াঙ্কা নামের এক নারী নেত্রীর আবির্ভাব ঘটেছে, যিনি নিজেকে পাইলট পরিচয়ে পরিচিত করলেও অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও আর্থিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিভিন্ন পদ-পদবি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শাহিদা আক্তার বলেন, নির্বাচনের আগে বাগেরহাট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কপিল চন্দ্র মন্ডলের প্রভাবে মোল্লাহাটে মহিলা দলের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া লবিং-গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হওয়াকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে যারা সক্রিয় ছিলেন না, তারা এখন সুসময়ে এসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন। আমার বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত রয়েছি। আমাকে নানা ভাবে হেয় প্রতিপন্য করা হচ্ছে । আমি এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই ।

শাহিদা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সব সময় মূল্যায়ন করেন। যেসব হাইব্রিড নেতা-নেত্রীরা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন ও হেয় প্রতিপন্য করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দলকে সম্মৃদ্ধ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে বিএনপির নারী নেত্রীদের অবমূল্যায়ন ও হাইব্রিড নেতাদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

আপডেট টাইম : 03:27:04 pm, Sunday, 10 May 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃবাগেরহাটে বিএনপির ত্যাগী নারী নেত্রীদের অবমূল্যায়ন ও সুবিধাবাদী ‘হাইব্রিড’ নেতাদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা আক্তার। শনিবার (১০ মে) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। এসময়, জেলা বিএনপির সদস্য রুনা গাজী, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস আক্তার ইভা, সহ সভাপতি শিরিনা আক্তারসহ জেলার ১২টি ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহিদা আক্তার বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৯১ সালে প্রয়াত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ স ম মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত নানা ঘাত-প্রতিঘাত, হামলা, হুমকি-ধামকী ও জীবনের ঝুকি নিয়ে বিএনপির রাজনীতি সক্রিয় রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনে, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক থেকে শুরু করে ইউনিয়ন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক,উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক,উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ও জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক,জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিপুল
ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দলের জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি কিন্তু এখন দলে বসন্তের কোকিল ও হাইব্রিড নেতাদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ মে বাগেরহাট বাস টার্মিনালে মে দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় শ্রমিক দলের স্বঘোষিত নেতা সেলিম ভূঁইয়া তার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন। ৫ আগস্ট এর পরে এসে টাকার বিনিময়ে তাদের নাম আসে ব্যানারে। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজরা তার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেয়। ওই দিন মূলত শ্রমিক দলের স্বঘোষিতা নেতা সেলিম ভূঁইয়া আমার
মাইক কেড়ে নিয়েছিল। তখন বাগেরহাট ১,২,ও ৪ আসনের প্রার্থীরা মঞ্চে বসা ছিলেন। এছাড়াও জেলা বি,এন,পির সদস্য সচিব, বি এন পির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপসহ আরও কয়েক জন জেলা বি এন পির সদস্য। নেতারা মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করেননি।

সেলিম ভূইয়া সম্পর্কে শাহিদা আক্তার বলেন, সেলিম ভূঁইয়া আওয়ামী লীগেরআমলেও সুবিধাভোগী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে বাসস্ট্যান্ড দখলে নেওয়ার জন্য অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ নানা প্রকার অন্যায় করেছে। চাঁদাবাজীও করেছে অসংখ্য স্থানে। তার মত একজন সুবিধাবাদী মানুষ আমার মাইক কেড়ে নিয়ে আমার রাজনৈতিক ত্যাগকে অস্বীকার করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত পূর্বক আমি এই ঘটনার সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই জেলা বিএনপির কাছে। ৫ আগস্টের পরে বাগেরহাটের রাজনীতিতে আলোচিত মুখ রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে মহিলা দলের সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলায় রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াঙ্কা নামের এক নারী নেত্রীর আবির্ভাব ঘটেছে, যিনি নিজেকে পাইলট পরিচয়ে পরিচিত করলেও অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও আর্থিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে বিভিন্ন পদ-পদবি বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শাহিদা আক্তার বলেন, নির্বাচনের আগে বাগেরহাট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কপিল চন্দ্র মন্ডলের প্রভাবে মোল্লাহাটে মহিলা দলের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া লবিং-গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হওয়াকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে যারা সক্রিয় ছিলেন না, তারা এখন সুসময়ে এসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন। আমার বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই সম্পৃক্ত রয়েছি। আমাকে নানা ভাবে হেয় প্রতিপন্য করা হচ্ছে । আমি এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই ।

শাহিদা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সব সময় মূল্যায়ন করেন। যেসব হাইব্রিড নেতা-নেত্রীরা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন ও হেয় প্রতিপন্য করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দলকে সম্মৃদ্ধ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।