Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় পাঠদান, ভিজল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 03:59:37 pm, Saturday, 11 July 2026
  • 60 বার

চিতলমারী প্রতিনিধি:বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভোর থেকে হচ্ছিল মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত। সোমবার দুপুর ২টা। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া। এরই মাঝে উপজেলার ৪৯ নং সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছিল। একহাতে মাথায় ছাতা আর অন্য হাতে কলম নিয়ে শিক্ষক লিলি মজুমদার বোর্ডে লিখছিলেন। আর বাতাসে ছুটে আসা বৃষ্টির পানিতে আধা-ভেজা শিক্ষার্থীরা পড়া বোঝার চেষ্টা করছিল। বারান্দার পাশে দেওয়া পলিথিন রক্ষা করতে পারেনি তাদের ভিজে যাওয়া। মাঝে-মধ্যে বাতাসের তোড়ে অনেকের বইÑখাতা উড়ে ভিজেছে।

জানা গেছে, সুরশাইল সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে চলে আসছে। বর্তমানে নতুন ভবনটি নির্মাণের পর পুরাতন স্কুল ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভবনটি ভেঙে নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দেয়। যার ফলে দুই শিফটে চলা এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি এবং তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস স্কুলের বারান্দায় নেওয়া হয়।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন ও আরাফাত জানায়, তাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে বারান্দায় ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিলি মজুমদার জানান, শ্রেণি সংকটের কারণে তাদের বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি রুম হলে তাদের এ সমস্যা থাকত না।

প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই জানান, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট চলে আসছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, “বরাদ্দ না থাকায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। আমরা আপাতত অন্য স্কুল থেকে একটি টিনের ঘর ওই স্কুলে দেওয়ার জন্য বলেছি।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় পাঠদান, ভিজল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

আপডেট টাইম : 03:59:37 pm, Saturday, 11 July 2026

চিতলমারী প্রতিনিধি:বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভোর থেকে হচ্ছিল মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত। সোমবার দুপুর ২টা। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া। এরই মাঝে উপজেলার ৪৯ নং সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছিল। একহাতে মাথায় ছাতা আর অন্য হাতে কলম নিয়ে শিক্ষক লিলি মজুমদার বোর্ডে লিখছিলেন। আর বাতাসে ছুটে আসা বৃষ্টির পানিতে আধা-ভেজা শিক্ষার্থীরা পড়া বোঝার চেষ্টা করছিল। বারান্দার পাশে দেওয়া পলিথিন রক্ষা করতে পারেনি তাদের ভিজে যাওয়া। মাঝে-মধ্যে বাতাসের তোড়ে অনেকের বইÑখাতা উড়ে ভিজেছে।

জানা গেছে, সুরশাইল সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে চলে আসছে। বর্তমানে নতুন ভবনটি নির্মাণের পর পুরাতন স্কুল ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভবনটি ভেঙে নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দেয়। যার ফলে দুই শিফটে চলা এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি এবং তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস স্কুলের বারান্দায় নেওয়া হয়।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন ও আরাফাত জানায়, তাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে বারান্দায় ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিলি মজুমদার জানান, শ্রেণি সংকটের কারণে তাদের বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি রুম হলে তাদের এ সমস্যা থাকত না।

প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই জানান, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট চলে আসছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, “বরাদ্দ না থাকায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। আমরা আপাতত অন্য স্কুল থেকে একটি টিনের ঘর ওই স্কুলে দেওয়ার জন্য বলেছি।”