Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

বাগেরহাটে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় পাঠদান, ভিজল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 03:59:37 pm, Saturday, 11 July 2026
  • 78 বার

চিতলমারী প্রতিনিধি:বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভোর থেকে হচ্ছিল মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত। সোমবার দুপুর ২টা। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া। এরই মাঝে উপজেলার ৪৯ নং সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছিল। একহাতে মাথায় ছাতা আর অন্য হাতে কলম নিয়ে শিক্ষক লিলি মজুমদার বোর্ডে লিখছিলেন। আর বাতাসে ছুটে আসা বৃষ্টির পানিতে আধা-ভেজা শিক্ষার্থীরা পড়া বোঝার চেষ্টা করছিল। বারান্দার পাশে দেওয়া পলিথিন রক্ষা করতে পারেনি তাদের ভিজে যাওয়া। মাঝে-মধ্যে বাতাসের তোড়ে অনেকের বইÑখাতা উড়ে ভিজেছে।

জানা গেছে, সুরশাইল সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে চলে আসছে। বর্তমানে নতুন ভবনটি নির্মাণের পর পুরাতন স্কুল ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভবনটি ভেঙে নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দেয়। যার ফলে দুই শিফটে চলা এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি এবং তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস স্কুলের বারান্দায় নেওয়া হয়।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন ও আরাফাত জানায়, তাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে বারান্দায় ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিলি মজুমদার জানান, শ্রেণি সংকটের কারণে তাদের বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি রুম হলে তাদের এ সমস্যা থাকত না।

প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই জানান, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট চলে আসছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, “বরাদ্দ না থাকায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। আমরা আপাতত অন্য স্কুল থেকে একটি টিনের ঘর ওই স্কুলে দেওয়ার জন্য বলেছি।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় পাঠদান, ভিজল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

আপডেট টাইম : 03:59:37 pm, Saturday, 11 July 2026

চিতলমারী প্রতিনিধি:বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভোর থেকে হচ্ছিল মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত। সোমবার দুপুর ২টা। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া। এরই মাঝে উপজেলার ৪৯ নং সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান চলছিল। একহাতে মাথায় ছাতা আর অন্য হাতে কলম নিয়ে শিক্ষক লিলি মজুমদার বোর্ডে লিখছিলেন। আর বাতাসে ছুটে আসা বৃষ্টির পানিতে আধা-ভেজা শিক্ষার্থীরা পড়া বোঝার চেষ্টা করছিল। বারান্দার পাশে দেওয়া পলিথিন রক্ষা করতে পারেনি তাদের ভিজে যাওয়া। মাঝে-মধ্যে বাতাসের তোড়ে অনেকের বইÑখাতা উড়ে ভিজেছে।

জানা গেছে, সুরশাইল সরকারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে চলে আসছে। বর্তমানে নতুন ভবনটি নির্মাণের পর পুরাতন স্কুল ভবনটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভবনটি ভেঙে নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দেয়। যার ফলে দুই শিফটে চলা এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণি এবং তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস স্কুলের বারান্দায় নেওয়া হয়।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন ও আরাফাত জানায়, তাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে বারান্দায় ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিলি মজুমদার জানান, শ্রেণি সংকটের কারণে তাদের বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি রুম হলে তাদের এ সমস্যা থাকত না।

প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই জানান, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকট চলে আসছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, “বরাদ্দ না থাকায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না। আমরা আপাতত অন্য স্কুল থেকে একটি টিনের ঘর ওই স্কুলে দেওয়ার জন্য বলেছি।”