আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সম্প্রতি অভিযোগ করেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইমরানের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা প্রস্তাব ব্যর্থ হলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘হুমকিমূলক’ চিঠি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার মার্কিন সেই হুমকিদাতার নাম জানালেন ইমরান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর রোববার (৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কার্যালয়ে যান পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) বেশ কয়েকজন নেতা। এ সময় ইমরান তাদের বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবে একটি বিদেশি শক্তির ইন্ধন থাকার বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি) যখন নিন্দা জানিয়েছিল, তখনই মূলত বিষয়টি (অনাস্থা ভোট) ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হয়ে গেছে।
ইমরান খান জানান, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে হুমকির বার্তা পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজেদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং মাজেদকে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পার্লামেন্টে বিরোধীদের অনাস্থা ভোটের পরও যদি ইমরান খান ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে এর ফল ভালো হবে না।
এদিকে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত হওয়ায় ইমরান খান এখন আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নন বলে জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী ইমরানই দায়িত্বে থাকবেন। যদিও এ নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।
রোববার (৩ এপ্রিল) মধ্যরাতের পর দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সংবিধানের ২২৪ এ (৪) অনুচ্ছেদের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ইমরান আহমেদ খান নিয়াজি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকবেন।’
জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সংবিধানের ২২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খান ১৫ দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকতে পারবেন।
তবে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্টতা নেই। অনদিকে নির্ধারিত সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা সত্ত্বেও, একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেই ক্ষমতা থাকছে না ইমরান খানের।
তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের পর পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে সোমবার (৪ এপ্রিল) পাকিস্তনের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তান কার নেতৃত্বে চলবে, এ নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক।
Md.Liton 











