উপজেলার ভোলা নদীর পাশের বাসিন্দা আবজাল হাওলাদার বলেন, লবণ পানি ওঠায় এই এলাকায় কোনো টিউবওয়েল বসানো হয় না। পুকুর ও বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এ বছর প্রচণ্ড গরমের কারণে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। আশপাশের খালে লবণ পানি। বাধ্য হয়ে লবণ পানি গোসল, রান্না ও খাওয়ার কাজে ব্যবহার করতে হয়। এই পানি খেয়ে মাঝে মাঝে পেটে ব্যথাসহ নানা রোগ দেখা দেয়। তাঁরা খুব সমস্যায় আছেন।
উপজেলার বান্ধাকাটা এলাকার গৃহবধূ জিনিয়া বেগম বলেন, মেশিনে পানি দিচ্ছে; এমন খবর পেয়ে কলস নিয়ে পানি নিতে এসেছেন। তাঁরা শুকনা মৌসুমে স্থায়ীভাবে সরকারের কাছে পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
পশ্চিম ধানসাগর গ্রামের আমিন চৌকিদার বলেন, গাড়িতে করে পানি দিচ্ছে। দুই ঘণ্টা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকে পানি নিয়েছেন। গরমের মধ্যে এইভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ একটু খাবার পানির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, শরণখোলায় চারটি ইউনিয়নে লবণাক্ততার কারণে অগভীর নলকূপ স্থাপন হয় না। প্রায় দেড় লাখ মানুষ পুকুর ও বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু এবার একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বৃষ্টি না হওয়ায় পানির উৎসগুলোতে কোনো পানি নেই। ফলে খাবার পানির জন্য হাহাকার চলছে। বর্তমানে যে ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানি দেওয়া হচ্ছে, তাও অপ্রতুল। তারপরও মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বাগেরহাটের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক বলেন, উপকূল জুড়ে তীব্র পানির সংকটের খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। শরণখোলায় ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্ল্যান্ট থেকে ঘণ্টায় ৭০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে। যত দিন পর্যন্ত পানির সংকট দূর না হবে এবং এলাকায় পানির চাহিদা থাকবে তত দিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
Md.Liton 











