Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে “সুখী মানুষ” এনজিও’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 07:06:22 pm, Tuesday, 10 May 2022
  • 363 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন “চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি” (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ “আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি” উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে সারা দেশে চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলার আটটি উপজেলার ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য চালু করা হয় অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। “সুখী মানুষ” নামক বেসরকারী সংস্থা বাগেরহাট জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য লিড এনজিও হিসেবে নির্বাচিত হয়। “সুখী মানুষ” লিড এনজিও এর দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই নানা ধরনের অনিয়মের মধ্যে দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্মসূচিতে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৭০ টি, মোল্লাহাটে ৭০টি, চিতলমারী ৭৯টি, ফকিরহাট ৬৬ টি, রামপাল ৬৫ টি, মোংলায় ৭০ টি, কচুয়ায় ৬৫ ও মোড়েলগঞ্জে ৭০ টি মোট ৫৫৫ টি কেন্দ্র চালুর কথা থাকলেও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বাস্তবে শিক্ষা কেন্দ্র পাওয়া যায় অনেক কম। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আছে অনেক কম, যাও আছে তার অধিকাংশ শিক্ষার্থীই লক্ষিত জনগোষ্ঠীর (টার্গেট পিপল) নয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই অধ্যায়ন করছে। এমন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় ভর্তি করার কোন বিধান নেই। শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য ঘর ভাড়া নেয়ার বিধান থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন মানুষের বারান্দায়, গোয়াল ঘরে, রান্না ঘর ও মুরগীর ফার্মে চলছে ক্লাস। শিক্ষা কেন্দ্র ডেকোরেশনের জন্য প্রতিটা কেন্দ্রে ৫০০/- টাকা (ফলের চার্ট, বর্নমালার চার্ট, বিভিন্ন ব্যক্তিদের ছবি, অন্যান্য আকর্ষনীয় চার্ট) থাকার কথা থাকলেও কোন কেন্দ্রে তা লক্ষ্য করা যায়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনায় উৎসাহিত করার জন্য স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি মাসে ১২০/- টাকা করে উপবৃত্তির বরাদ্দ রয়েছে। যার একটি টাকাও কোন শিক্ষার্থী পায় নাই। প্রতিটা কেন্দ্রে ২৪০ বর্গফুটের ফ্লোর ম্যাট দেওয়ার কথা থাকলেও নাম মাত্র ২/৩ টা প্লাস্টিকের মাদুর ব্যবহার করা হয়। প্রতিটা কেন্দ্রে ৩০০০/- টাকা বাজেটের মধ্যে ফ্যান থাকার কথা থাকলেও কোন কেন্দ্রেই ফ্যান পাওয়া যায়নি। স্কুল ভাড়া ছাড়াও টিউব লাইট, পানির জার, স্টিলের ট্রাঙ্ক, জাতীয় পতাকা, সাইনবোর্ড, হাতলওয়ালা চেয়ার, টুল, স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস, শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড, টিচিং এইডস এবং গেমস উপকরণ দেওয়ার কথা থাকলেও যে সকল কেন্দ্র গুলোতে ক্লাস চলছে সে সকল কেন্দ্রে এসব কোনটাই দেখা যায়নি। সদর উপজেলায় ৭০ টি কেন্দ্র চালু করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর সাথে কোন মিল নাই। সদর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর তালিকা করার কথা হলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। তালিকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী আছেন যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী যা সম্পূর্ন বে-আইনী। তেমনি তালিকাতে যে সকল শিক্ষার্থীদের নাম আছে তার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদেরই বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই।

 

“সুখী মানুষ” এনজিও

শিশুদের ক্লাস হয় রান্নাঘর, মুরগীর ফার্ম, ও গোয়ালঘর ও ঘরের বারান্দায়

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সুখী মানুষের জরীপ অনুযায়ী ছাত্র ছাত্রীর তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রদান করেছেন তার মধ্য দিয়ে কথা হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার রনবিজয়পুর এলাকার মাফুজ চাকলাদার পিতা আকবর চাকলাদার সে রনবিজয়পুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ে। কথাহয় সানজিদা খাতুন সে রনবিজয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে তার রোল ২৭। এরকম অধিকাংশ শিক্ষাথীর নাম দেওয়া আছে অথচ তারা নিয়মিত পড়াশুনা করছে। এ বিষয়ে সুখী মানুষ এনজিওর নিয়োগ প্রাপ্ত একাধিক শিক্ষিকা জানান, ঝড়েপড়া শিক্ষার্থী ২/৪ জন পাওয়া যায় এখন এসব এলাকায় ঝড়েপড়া শিশু পাওয়া যায় না। তারপরও আমরা চেষ্ঠা করছি ঐ সকল শিশু শিখন কেন্দ্রে আনার। তারা জানান খাতা কলমে ২৭ থেকে ৩০ জনার নাম থাকলেও প্রতিদিন হাজির হয় ১০/১২ জন। তাদের মধ্যে ২/৪ জন ঝড়ে পড়া শিশু রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে ডেমা ইউনিয়নের কাশেমপুর শিখন কেন্দ্রে নাই কোন সাইনবোড,একটি মুরগীর ফার্মে ক্লাস হচ্ছে ৭ জন শিশু তাদের মধ্যে একজন ও ঝড়ে পড়া শিশু না। তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এরকম চিত্র সারা জেলাতেই। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিষ্ঠানের (সুখী মানুষের) কাছে একাধিকবার কেন্দ্র সমূহের তালিকা চাইলে ও নানান বাহানায় তালিকা দিতে ব্যর্থ হন। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এনজিও “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার অন্য প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্রের অবিভাবক জানান, আমাদের সন্তানদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার কথা জানালেও তারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা বলে ছেলে মেয়ের তালিকা নিয়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে আর আমাদের সন্তানদেরকে তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াতে আগ্রহী নই।
অন্যদিকে প্রত্যেক উপজেলায় জরিপের জন্য আলাদা করে ১ লক্ষ টাকা করে মোট ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও জরিপকারিরা কোন ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক জরিপকারী। সদর উপজেলার একাধিক জরিপকারী বলেন, প্রথম থেকে জরিপের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে শুরু করে ফটোকপি, যাতায়াত, ভাতার জন্য কোন টাকাই পাই নাই। আজ না কাল বলে কালক্ষেপন করছে। কবে টাকা ফেরত পাব তা জানি না। লীড এনজিও “সুখী মানুষ” ৮টি উপজেলায় উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদে লোক নিয়োগ করে। তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে জামানতের নামে অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করেছে। তাদের কাউকে কোন বেতন প্রদান করেনি। এছাড়া এসকল কর্মকর্তাদের দিয়ে নানাবিধ, দুর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারণা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করে। রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ হুমকী-ধামকী ও হয়রানীমুলক পদক্ষেপ গ্রহন করতো। এসব বিষয়ে ৮জন উপজেলা কর্মকর্তা ও জেলা ম্যানেজার (ডিপিএম) বিভিন্ন সময় সহকারী পরিচালক, বাগেরহাট এর নিকট একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছেন। সদর উপজেলার কয়েকটি স্কুলের শিক্ষীকা জানান, প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে চাকরী শুরু করি। প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষকতা করছি এখনো কোন বেতন পাইনি।
বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ইউপিএম) প্রতিমা চক্রবর্তী বলেন, ‘সুখী মানুষ’ এনজিওতে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে নভেম্বর/২০২০ মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করি। চাকুরির শুরুতে ল্যাবটবসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার থাকলেও তারা কোন প্রতিশ্রæতি রাখেনি। আমাদের নিজেদের খরচ দিয়ে ফটোকপি, ডাটাএন্ট্রি,যাতায়তসহ প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। জুন২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানের বাজেট আসলে আমাদের বেতন বিলে সাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করে তারা। আমি টাকা চাইলে কোন টাকা পরিশোধ না করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। তবে বাগেরহাট জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো থেকে আমাকে এখন ও পযর্ন্ত বরখাস্ত করেন নাই আমি অফিসিয়ালী এখন ও উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার আছি। তিনি আরো বলেন, আমি সহ জেলার ৮টি উপজেলার ইউপিএমদের প্রত্যেকের নিকট থেকে জামানতের নামে অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া এসকল কর্মকর্তাদের দিয়ে নানাবিধ, দুর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারণা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে অর্থ আত্মসাথের পরিকল্পনা করে। রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ হুমকী-ধামকী ও হয়রানীমুলক পদক্ষেপ গ্রহন করতো। এসব বিষয়ে ৮জন উপজেলা কর্মকর্তা ও জেলা পোগ্রাম ম্যানেজার (ডিপিএম) বিভিন্ন সময় সহকারী পরিচালকের নিকট একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এদিকে একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার কাজ “সুখী মানুষ” প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে বাগিয়ে নিয়েছে। টেন্ডার ডকুমেন্ট ও চুক্তিপত্রে “সুখী মানুষ” মার্কেন্টাইল ব্যাংকের যে হিসাব নম্বরের তথ্য দিয়েছে বাস্তবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে উক্ত নম্বরে “সুখী মানুষ” শিরোনামে কোন হিসাব নম্বর নেই। যদিও ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট টেন্ডার ডকুমেন্টের একটি আবশ্যিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে প্রতারনা প্রমানিত হলে টেন্ডার এমনকি প্রাপ্ত কার্যাদেশ বাতিলের বিধান রয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো “সুখী মানুষ” এর ব্যাংক হিসাব জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য পেয়েও রহস্যজনক কারনে “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এছাড়াও “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে এসোসিয়েট এনজিও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসোসিয়েট এনজিও হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে “সুখী মানুষ” অনেক এনজিও’র কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ বিষয়ে ছায়া কুঞ্জ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ও শাপলাফুল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক দুটি এনজিও লিড এনজিও “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। লিড এনজিও “সুখী মানুষ” রামপাল ও মোংলা উপজেলায় সিডোপ, কচুয়া উপজেলায় নিকেতন সেবা সংস্থা এবং মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় প্রতিভা সংস্থার সাথে এসোসিয়েট এনজিও হিসেবে কাজ করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। হঠাৎ করেই কর্মসূচি চলমান থাকতেই মিথ্যা অজুহাতে চুক্তির শর্ত সম্পুর্ণ লঙ্ঘন করে এসোসিয়েট এনজিও’র চুক্তি বাতিল করে এবং মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে উক্ত উপজেলাগুলোতে নতুন করে এসোসিয়েট এনজিও নিয়োগ করে। এসোসিয়েট এনজিও’র সাথে চুক্তি বাতিলের পূর্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অনুমোদন নেয়ার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা অবৈধ লেনদেনের অংশের বিনিময়ে “সুখী মানুষ” এর সব অনিয়ম দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে দাবী করছেন এসোসিয়েট এনজিও’র প্রতিনিধিরা।
সদর উপজেলার নাম প্রকাশে অনীহা কয়েকজন শিক্ষিকা জানান, ২ বছর ধরে প্রজেক্টের সাথে যুক্ত আছি। মাঠ জরিপ,ফটোকপি,যাতায়ত সকল খরচ নিজে করলেও একটি টাকাও প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো পাইনি। প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ঘর তৈরী করেও এখনো কোন মাসের ভাড়া পাইনি। পিকনিকের কথা বলে প্রত্যেকের কাজ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে বলে শিক্ষীকারা জানান।
প্রকল্পের পার্টনার এনজিও (প্রতিভা সংস্থার) পরিচালক গোবিন্দ দাস বলেন, শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ অনুসরণে আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচিতে লীড এনজিও “সুখি মানুষ” এনজিওর মাধ্যমে আমরা পার্টনার এনজিও হিসেবে কাজ পাই। ২০২১ থেকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় কাজ করে আসছি। চুক্তি করার সময় সুখি মানুষ আমাদের সাথে গড়িমসি করতে থাকে। অধিদপ্তর থেকে তাদের চিঠি দিয়ে দ্রæত চুক্তি করবার চাপ প্রয়োগ করে। তারা চুক্তি করলে আমরা মাঠ পর্যায়ে জরিপের কাজ শুরু করি। কিন্তু সুখী মানুষ এনজিও নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ মুঠো ফোনের মাধ্যমে আমাদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। পরে প্রকল্প পরিচালক সোহেল আহমেদের হস্তক্ষেপে কাজ পুনরায় শুরু করি ও জরিপ কাজ সম্পন্ন করি। পরবর্তীতে আমাদের কাগজপত্র নেই মর্মে চিঠি দেওয়া হয় ও বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে টাকা দাবি করলে আমার দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার পায়তারা করে। তিনি বলেন বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক অগ্রজ কুমার রায় আমার সকল কাগজপত্র দেখেছে ও তা সঠিক আছে এ মর্মে চিঠি ও দিয়েছে। আমরা ঢাকায় ডিজি মহোদয়ের কাছে আমাদের কাগজপত্র ও জমা দেই। “সুখী মানুষ” জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রকল্পের বরাদ্দ ৩৬ কোটি টাকার কোন কাজ না করেই আত্মসাতের পায়তারা করছে বলে একাধিক সূত্রে অভিযোগ রয়েছে। যারাই তার এ ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করে না, তাকেই বাতিল ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করে। “সুখী মানুষ” এর অবৈধ কর্মকান্ডে সহযোগিতা না করায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালককে নানা ভাবে হয়রানী ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাকে বদলী করে একজন অনুগত ও বিতর্কিত সহকারী পরিচালককে বাগেরহাটে পোস্টিং করার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে প্রস্তাব প্রেরণ ও মন্ত্রনালয়ে তদবীর করছে বলে জানা গেছে। “সুখী মানুষ” এনজিওর বাগেরহাটে জরীপ করা ঝরেপড়া শিশুদের ও শিখন কেন্দ্রের তালিকা চাইলে জেলা ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান রবিন বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নাই। আর হেড অফিসের অনুমতি ছাড়া আমি কোন তথ্য প্রদান করতে পারব না। তিনি আরো বলেন, “সুখী মানুষ” এর নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্ন মাসের ১৫ দিন বাগেরহাট অফিস করেন। কোন কোন মাসের পূরা সময় অফিস করেন । অথচ গত ১৬ মার্চ ২০২২ তারিখ বেলা সাড়ে এগারোটায় শুভ বনিক সহকারী পরিচালক (অতিঃদাঃ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পিইডিপি-৪ এর আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভার রেজুলেশনে বলা হয়েছে সভায় প্রোগ্রাম হেড অনুপস্থিত তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। এবিষয়ে “সুখী মানুষ” এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্নোর সাথে একাধিকবার ০১৭১২৫৫৫৭৮৮ এই নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নাই।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর, ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ আসছে। এখানে যে সকল কেন্দ্র গুলোতে শিক্ষক তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালায় সেখানে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান শিক্ষকের মতামত ও কাউন্টার সাইন করে নিতে হবে যাতে প্রমান হয় এরা আসলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমরা “সুখী মানুষ” এর ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কেন্দ্রের তালিকা একাধিকবার চাইলেও তারা দিতে ব্যর্থ হন। বিষয়টি বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জানানো হবে।
এবিষয়ে বাগেরহাট জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক শুভ বনিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে ১৫ শে মার্চ-২০২২ তারিখে যোগদান করেছি এবং যোগদানের পরেই বাগেরহাট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত লিড এনজিও’র সাথে মিটিং করি। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছি। লিড এনজিও “সুখী মানুষ” প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা বলেও অদ্যাবধি আমাকে দেয়নি। জনবল ও শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন পূর্বে যে সকল উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে সহকারী পরিচালক অনুমোদন দিয়েছেন। বর্তমানে নতুন করে “সুখী মানুষ” যে সকল জনবল নিয়োগ দিয়েছে তাতে সহকারী পরিচালকের অনুমোদন নেইনি। বর্তমানে লিড এনজিও “সুখী মানুষ” এর সাথে যারা কাজ করছে তাদের সবাইকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা নিয়ম বহির্ভূত। বাস্তবতার নিরীখে বাগেরহাট জেলায় “আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি” বাস্তবায়ন নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান, সংশয় ও উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি আরো জানান . শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর সদস্য সচিব উপজেলা ম্যানেজার এখানে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিবই অবৈধ সেখানে সকল নিয়োগই অবৈধ নিয়ম বহির্ভূত । তারা কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছা খুশি মত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এভাবে আইন বহির্ভূত ভাবে কোন প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে “সুখী মানুষ” এনজিও’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট টাইম : 07:06:22 pm, Tuesday, 10 May 2022

বাগেরহাট প্রতিনিধি: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন “চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি” (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ “আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি” উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে সারা দেশে চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলার আটটি উপজেলার ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য চালু করা হয় অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। “সুখী মানুষ” নামক বেসরকারী সংস্থা বাগেরহাট জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য লিড এনজিও হিসেবে নির্বাচিত হয়। “সুখী মানুষ” লিড এনজিও এর দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই নানা ধরনের অনিয়মের মধ্যে দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্মসূচিতে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৭০ টি, মোল্লাহাটে ৭০টি, চিতলমারী ৭৯টি, ফকিরহাট ৬৬ টি, রামপাল ৬৫ টি, মোংলায় ৭০ টি, কচুয়ায় ৬৫ ও মোড়েলগঞ্জে ৭০ টি মোট ৫৫৫ টি কেন্দ্র চালুর কথা থাকলেও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বাস্তবে শিক্ষা কেন্দ্র পাওয়া যায় অনেক কম। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০জন শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আছে অনেক কম, যাও আছে তার অধিকাংশ শিক্ষার্থীই লক্ষিত জনগোষ্ঠীর (টার্গেট পিপল) নয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যেই অধ্যায়ন করছে। এমন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় ভর্তি করার কোন বিধান নেই। শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য ঘর ভাড়া নেয়ার বিধান থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন মানুষের বারান্দায়, গোয়াল ঘরে, রান্না ঘর ও মুরগীর ফার্মে চলছে ক্লাস। শিক্ষা কেন্দ্র ডেকোরেশনের জন্য প্রতিটা কেন্দ্রে ৫০০/- টাকা (ফলের চার্ট, বর্নমালার চার্ট, বিভিন্ন ব্যক্তিদের ছবি, অন্যান্য আকর্ষনীয় চার্ট) থাকার কথা থাকলেও কোন কেন্দ্রে তা লক্ষ্য করা যায়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনায় উৎসাহিত করার জন্য স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি মাসে ১২০/- টাকা করে উপবৃত্তির বরাদ্দ রয়েছে। যার একটি টাকাও কোন শিক্ষার্থী পায় নাই। প্রতিটা কেন্দ্রে ২৪০ বর্গফুটের ফ্লোর ম্যাট দেওয়ার কথা থাকলেও নাম মাত্র ২/৩ টা প্লাস্টিকের মাদুর ব্যবহার করা হয়। প্রতিটা কেন্দ্রে ৩০০০/- টাকা বাজেটের মধ্যে ফ্যান থাকার কথা থাকলেও কোন কেন্দ্রেই ফ্যান পাওয়া যায়নি। স্কুল ভাড়া ছাড়াও টিউব লাইট, পানির জার, স্টিলের ট্রাঙ্ক, জাতীয় পতাকা, সাইনবোর্ড, হাতলওয়ালা চেয়ার, টুল, স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস, শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড, টিচিং এইডস এবং গেমস উপকরণ দেওয়ার কথা থাকলেও যে সকল কেন্দ্র গুলোতে ক্লাস চলছে সে সকল কেন্দ্রে এসব কোনটাই দেখা যায়নি। সদর উপজেলায় ৭০ টি কেন্দ্র চালু করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর সাথে কোন মিল নাই। সদর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর তালিকা করার কথা হলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। তালিকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী আছেন যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী যা সম্পূর্ন বে-আইনী। তেমনি তালিকাতে যে সকল শিক্ষার্থীদের নাম আছে তার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদেরই বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই।

 

“সুখী মানুষ” এনজিও

শিশুদের ক্লাস হয় রান্নাঘর, মুরগীর ফার্ম, ও গোয়ালঘর ও ঘরের বারান্দায়

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সুখী মানুষের জরীপ অনুযায়ী ছাত্র ছাত্রীর তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রদান করেছেন তার মধ্য দিয়ে কথা হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার রনবিজয়পুর এলাকার মাফুজ চাকলাদার পিতা আকবর চাকলাদার সে রনবিজয়পুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ে। কথাহয় সানজিদা খাতুন সে রনবিজয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে তার রোল ২৭। এরকম অধিকাংশ শিক্ষাথীর নাম দেওয়া আছে অথচ তারা নিয়মিত পড়াশুনা করছে। এ বিষয়ে সুখী মানুষ এনজিওর নিয়োগ প্রাপ্ত একাধিক শিক্ষিকা জানান, ঝড়েপড়া শিক্ষার্থী ২/৪ জন পাওয়া যায় এখন এসব এলাকায় ঝড়েপড়া শিশু পাওয়া যায় না। তারপরও আমরা চেষ্ঠা করছি ঐ সকল শিশু শিখন কেন্দ্রে আনার। তারা জানান খাতা কলমে ২৭ থেকে ৩০ জনার নাম থাকলেও প্রতিদিন হাজির হয় ১০/১২ জন। তাদের মধ্যে ২/৪ জন ঝড়ে পড়া শিশু রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে ডেমা ইউনিয়নের কাশেমপুর শিখন কেন্দ্রে নাই কোন সাইনবোড,একটি মুরগীর ফার্মে ক্লাস হচ্ছে ৭ জন শিশু তাদের মধ্যে একজন ও ঝড়ে পড়া শিশু না। তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এরকম চিত্র সারা জেলাতেই। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিষ্ঠানের (সুখী মানুষের) কাছে একাধিকবার কেন্দ্র সমূহের তালিকা চাইলে ও নানান বাহানায় তালিকা দিতে ব্যর্থ হন। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এনজিও “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার অন্য প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্রের অবিভাবক জানান, আমাদের সন্তানদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার কথা জানালেও তারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা বলে ছেলে মেয়ের তালিকা নিয়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে আর আমাদের সন্তানদেরকে তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াতে আগ্রহী নই।
অন্যদিকে প্রত্যেক উপজেলায় জরিপের জন্য আলাদা করে ১ লক্ষ টাকা করে মোট ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও জরিপকারিরা কোন ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক জরিপকারী। সদর উপজেলার একাধিক জরিপকারী বলেন, প্রথম থেকে জরিপের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে শুরু করে ফটোকপি, যাতায়াত, ভাতার জন্য কোন টাকাই পাই নাই। আজ না কাল বলে কালক্ষেপন করছে। কবে টাকা ফেরত পাব তা জানি না। লীড এনজিও “সুখী মানুষ” ৮টি উপজেলায় উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদে লোক নিয়োগ করে। তাদের প্রত্যেকের নিকট থেকে জামানতের নামে অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করেছে। তাদের কাউকে কোন বেতন প্রদান করেনি। এছাড়া এসকল কর্মকর্তাদের দিয়ে নানাবিধ, দুর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারণা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করে। রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ হুমকী-ধামকী ও হয়রানীমুলক পদক্ষেপ গ্রহন করতো। এসব বিষয়ে ৮জন উপজেলা কর্মকর্তা ও জেলা ম্যানেজার (ডিপিএম) বিভিন্ন সময় সহকারী পরিচালক, বাগেরহাট এর নিকট একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছেন। সদর উপজেলার কয়েকটি স্কুলের শিক্ষীকা জানান, প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে চাকরী শুরু করি। প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষকতা করছি এখনো কোন বেতন পাইনি।
বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ইউপিএম) প্রতিমা চক্রবর্তী বলেন, ‘সুখী মানুষ’ এনজিওতে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে নভেম্বর/২০২০ মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করি। চাকুরির শুরুতে ল্যাবটবসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার থাকলেও তারা কোন প্রতিশ্রæতি রাখেনি। আমাদের নিজেদের খরচ দিয়ে ফটোকপি, ডাটাএন্ট্রি,যাতায়তসহ প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। জুন২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানের বাজেট আসলে আমাদের বেতন বিলে সাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করে তারা। আমি টাকা চাইলে কোন টাকা পরিশোধ না করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। তবে বাগেরহাট জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো থেকে আমাকে এখন ও পযর্ন্ত বরখাস্ত করেন নাই আমি অফিসিয়ালী এখন ও উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার আছি। তিনি আরো বলেন, আমি সহ জেলার ৮টি উপজেলার ইউপিএমদের প্রত্যেকের নিকট থেকে জামানতের নামে অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া এসকল কর্মকর্তাদের দিয়ে নানাবিধ, দুর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারণা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে অর্থ আত্মসাথের পরিকল্পনা করে। রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ হুমকী-ধামকী ও হয়রানীমুলক পদক্ষেপ গ্রহন করতো। এসব বিষয়ে ৮জন উপজেলা কর্মকর্তা ও জেলা পোগ্রাম ম্যানেজার (ডিপিএম) বিভিন্ন সময় সহকারী পরিচালকের নিকট একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এদিকে একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার কাজ “সুখী মানুষ” প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে বাগিয়ে নিয়েছে। টেন্ডার ডকুমেন্ট ও চুক্তিপত্রে “সুখী মানুষ” মার্কেন্টাইল ব্যাংকের যে হিসাব নম্বরের তথ্য দিয়েছে বাস্তবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে উক্ত নম্বরে “সুখী মানুষ” শিরোনামে কোন হিসাব নম্বর নেই। যদিও ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট টেন্ডার ডকুমেন্টের একটি আবশ্যিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে প্রতারনা প্রমানিত হলে টেন্ডার এমনকি প্রাপ্ত কার্যাদেশ বাতিলের বিধান রয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো “সুখী মানুষ” এর ব্যাংক হিসাব জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য পেয়েও রহস্যজনক কারনে “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এছাড়াও “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে এসোসিয়েট এনজিও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসোসিয়েট এনজিও হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে “সুখী মানুষ” অনেক এনজিও’র কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ বিষয়ে ছায়া কুঞ্জ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ও শাপলাফুল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামক দুটি এনজিও লিড এনজিও “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। লিড এনজিও “সুখী মানুষ” রামপাল ও মোংলা উপজেলায় সিডোপ, কচুয়া উপজেলায় নিকেতন সেবা সংস্থা এবং মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় প্রতিভা সংস্থার সাথে এসোসিয়েট এনজিও হিসেবে কাজ করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। হঠাৎ করেই কর্মসূচি চলমান থাকতেই মিথ্যা অজুহাতে চুক্তির শর্ত সম্পুর্ণ লঙ্ঘন করে এসোসিয়েট এনজিও’র চুক্তি বাতিল করে এবং মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে উক্ত উপজেলাগুলোতে নতুন করে এসোসিয়েট এনজিও নিয়োগ করে। এসোসিয়েট এনজিও’র সাথে চুক্তি বাতিলের পূর্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অনুমোদন নেয়ার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা অবৈধ লেনদেনের অংশের বিনিময়ে “সুখী মানুষ” এর সব অনিয়ম দূর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে দাবী করছেন এসোসিয়েট এনজিও’র প্রতিনিধিরা।
সদর উপজেলার নাম প্রকাশে অনীহা কয়েকজন শিক্ষিকা জানান, ২ বছর ধরে প্রজেক্টের সাথে যুক্ত আছি। মাঠ জরিপ,ফটোকপি,যাতায়ত সকল খরচ নিজে করলেও একটি টাকাও প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো পাইনি। প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ঘর তৈরী করেও এখনো কোন মাসের ভাড়া পাইনি। পিকনিকের কথা বলে প্রত্যেকের কাজ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে বলে শিক্ষীকারা জানান।
প্রকল্পের পার্টনার এনজিও (প্রতিভা সংস্থার) পরিচালক গোবিন্দ দাস বলেন, শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ অনুসরণে আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচিতে লীড এনজিও “সুখি মানুষ” এনজিওর মাধ্যমে আমরা পার্টনার এনজিও হিসেবে কাজ পাই। ২০২১ থেকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় কাজ করে আসছি। চুক্তি করার সময় সুখি মানুষ আমাদের সাথে গড়িমসি করতে থাকে। অধিদপ্তর থেকে তাদের চিঠি দিয়ে দ্রæত চুক্তি করবার চাপ প্রয়োগ করে। তারা চুক্তি করলে আমরা মাঠ পর্যায়ে জরিপের কাজ শুরু করি। কিন্তু সুখী মানুষ এনজিও নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ মুঠো ফোনের মাধ্যমে আমাদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। পরে প্রকল্প পরিচালক সোহেল আহমেদের হস্তক্ষেপে কাজ পুনরায় শুরু করি ও জরিপ কাজ সম্পন্ন করি। পরবর্তীতে আমাদের কাগজপত্র নেই মর্মে চিঠি দেওয়া হয় ও বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে টাকা দাবি করলে আমার দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার পায়তারা করে। তিনি বলেন বাগেরহাটের সহকারী পরিচালক অগ্রজ কুমার রায় আমার সকল কাগজপত্র দেখেছে ও তা সঠিক আছে এ মর্মে চিঠি ও দিয়েছে। আমরা ঢাকায় ডিজি মহোদয়ের কাছে আমাদের কাগজপত্র ও জমা দেই। “সুখী মানুষ” জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রকল্পের বরাদ্দ ৩৬ কোটি টাকার কোন কাজ না করেই আত্মসাতের পায়তারা করছে বলে একাধিক সূত্রে অভিযোগ রয়েছে। যারাই তার এ ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করে না, তাকেই বাতিল ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করে। “সুখী মানুষ” এর অবৈধ কর্মকান্ডে সহযোগিতা না করায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালককে নানা ভাবে হয়রানী ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাকে বদলী করে একজন অনুগত ও বিতর্কিত সহকারী পরিচালককে বাগেরহাটে পোস্টিং করার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে প্রস্তাব প্রেরণ ও মন্ত্রনালয়ে তদবীর করছে বলে জানা গেছে। “সুখী মানুষ” এনজিওর বাগেরহাটে জরীপ করা ঝরেপড়া শিশুদের ও শিখন কেন্দ্রের তালিকা চাইলে জেলা ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান রবিন বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নাই। আর হেড অফিসের অনুমতি ছাড়া আমি কোন তথ্য প্রদান করতে পারব না। তিনি আরো বলেন, “সুখী মানুষ” এর নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্ন মাসের ১৫ দিন বাগেরহাট অফিস করেন। কোন কোন মাসের পূরা সময় অফিস করেন । অথচ গত ১৬ মার্চ ২০২২ তারিখ বেলা সাড়ে এগারোটায় শুভ বনিক সহকারী পরিচালক (অতিঃদাঃ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পিইডিপি-৪ এর আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভার রেজুলেশনে বলা হয়েছে সভায় প্রোগ্রাম হেড অনুপস্থিত তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। এবিষয়ে “সুখী মানুষ” এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্নোর সাথে একাধিকবার ০১৭১২৫৫৫৭৮৮ এই নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নাই।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর, ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ আসছে। এখানে যে সকল কেন্দ্র গুলোতে শিক্ষক তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালায় সেখানে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান শিক্ষকের মতামত ও কাউন্টার সাইন করে নিতে হবে যাতে প্রমান হয় এরা আসলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমরা “সুখী মানুষ” এর ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কেন্দ্রের তালিকা একাধিকবার চাইলেও তারা দিতে ব্যর্থ হন। বিষয়টি বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জানানো হবে।
এবিষয়ে বাগেরহাট জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক শুভ বনিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখানে ১৫ শে মার্চ-২০২২ তারিখে যোগদান করেছি এবং যোগদানের পরেই বাগেরহাট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত লিড এনজিও’র সাথে মিটিং করি। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছি। লিড এনজিও “সুখী মানুষ” প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার কথা বলেও অদ্যাবধি আমাকে দেয়নি। জনবল ও শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন পূর্বে যে সকল উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে সহকারী পরিচালক অনুমোদন দিয়েছেন। বর্তমানে নতুন করে “সুখী মানুষ” যে সকল জনবল নিয়োগ দিয়েছে তাতে সহকারী পরিচালকের অনুমোদন নেইনি। বর্তমানে লিড এনজিও “সুখী মানুষ” এর সাথে যারা কাজ করছে তাদের সবাইকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা নিয়ম বহির্ভূত। বাস্তবতার নিরীখে বাগেরহাট জেলায় “আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি” বাস্তবায়ন নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান, সংশয় ও উদ্বেগের মধ্যে আছি। তিনি আরো জানান . শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর সদস্য সচিব উপজেলা ম্যানেজার এখানে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিবই অবৈধ সেখানে সকল নিয়োগই অবৈধ নিয়ম বহির্ভূত । তারা কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছা খুশি মত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এভাবে আইন বহির্ভূত ভাবে কোন প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।