Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ফাটল, আতংকে এলাকাবাসী

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:01:29 pm, Saturday, 14 May 2022
  • 130 বার
বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন বলেশ্বর নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এ বাঁধে বৃহৎকারে ফাটল দেখা দেয়ায় বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে চরম আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে এ বাঁধ আওতাধীন মানুষ। শরণখোলা উপজেলার গাবতলা বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের মাঝে বুধবার বিকালে ১৫ থেকে ২০ ফুট লম্বা এই ফাটল দেখা যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফাটলের স্থানে জড় হতে থাকে। এর আগে ফেটে যাওয়া এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা গাবতলা গ্রামের ছফেদ খানের ১০ কাঠা জমি গাছপালাসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে তিন বছর মেয়াদী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ৬ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া নির্মাণের বাঁধের মধ্যে মাটি না দিয়ে বালু দেয়ায় এমন ফাটল ধরেছে বলে দাবি করেছেন জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের গাবতলা ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে বলেশ্বর নদীর তীরে নির্মিত নতুন ওয়াপদা বেড়ীবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৫/২০ ফুট জায়গা জুড়ে বাঁধে ফাটল ধরায় এলাকাবাসীর মাঝে আতংক ছড়িয়েছে। বাধ নির্মাণে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে মাটির বদলে বাঁধে বেশিরভাগ বালু ব্যবহার করা হয়েছে এবং নদী শাসন না করায় বাঁধে ফাটল দেখা দেয় বলে ওই ইউপি সদস্য মনে করেন।

স্থানীয় হাফেজ কাজী, খালেক হাওলাদার, আসাদ খান ও তরিকুল ইসলামসহ অনেক গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম দুর্নীতি করায় বাঁধ মজবুত হয়নি। তাছাড়া নদী শাসন না হওয়ায় শত শত কোটি টাকার বেড়িবাঁধ মানুষের কাজে আসছে না।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীন মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বলেশ্বর নদী শাসন ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মীত বেড়িবাঁধ পানিতে বিলীন হয়ে যাবে বলে চেয়ারম্যান আশংকা ব্যক্ত করেছেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই আলম সিদ্দিকি বলেন, নির্মাণাধীন বলেশ্বর নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধে ফাটল ও ভাঙ্গনের খবর পেয়ে আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি। বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিইআইপি প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তারা।

সিইআইপি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব ফাটলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর এই দিনে সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বাগেরহাটসহ উপকূলীয় কয়েকটি জেলা। সিডরের আঘাতে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয় শুধু শরণখোলা উপজেলায় এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছিলো কয়েকশ কোটি টাকার। স্বজন হারানো বেদনা ও আর্থিক ক্ষতি ভুলে শরণখোলাবাসীর একমাত্র দাবি ছিলো টেকসই বেড়িবাঁধ। গণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সরকার ২০১৫ সালে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প (সিইআইপি)’ নামে একটি প্রকল্পের অধীনে মোরেলগঞ্জের কুমারখালী থেকে শরণখোলা উপজেলার বগী-গাবতলা পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। এই বেড়িবাঁধের প্রায় ৫৮ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ফাটল, আতংকে এলাকাবাসী

আপডেট টাইম : 09:01:29 pm, Saturday, 14 May 2022
বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন বলেশ্বর নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এ বাঁধে বৃহৎকারে ফাটল দেখা দেয়ায় বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে চরম আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে এ বাঁধ আওতাধীন মানুষ। শরণখোলা উপজেলার গাবতলা বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের মাঝে বুধবার বিকালে ১৫ থেকে ২০ ফুট লম্বা এই ফাটল দেখা যায়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফাটলের স্থানে জড় হতে থাকে। এর আগে ফেটে যাওয়া এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা গাবতলা গ্রামের ছফেদ খানের ১০ কাঠা জমি গাছপালাসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে তিন বছর মেয়াদী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ৬ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া নির্মাণের বাঁধের মধ্যে মাটি না দিয়ে বালু দেয়ায় এমন ফাটল ধরেছে বলে দাবি করেছেন জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের গাবতলা ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে বলেশ্বর নদীর তীরে নির্মিত নতুন ওয়াপদা বেড়ীবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৫/২০ ফুট জায়গা জুড়ে বাঁধে ফাটল ধরায় এলাকাবাসীর মাঝে আতংক ছড়িয়েছে। বাধ নির্মাণে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে মাটির বদলে বাঁধে বেশিরভাগ বালু ব্যবহার করা হয়েছে এবং নদী শাসন না করায় বাঁধে ফাটল দেখা দেয় বলে ওই ইউপি সদস্য মনে করেন।

স্থানীয় হাফেজ কাজী, খালেক হাওলাদার, আসাদ খান ও তরিকুল ইসলামসহ অনেক গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণে ব্যপক অনিয়ম দুর্নীতি করায় বাঁধ মজবুত হয়নি। তাছাড়া নদী শাসন না হওয়ায় শত শত কোটি টাকার বেড়িবাঁধ মানুষের কাজে আসছে না।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীন মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বলেশ্বর নদী শাসন ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মীত বেড়িবাঁধ পানিতে বিলীন হয়ে যাবে বলে চেয়ারম্যান আশংকা ব্যক্ত করেছেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই আলম সিদ্দিকি বলেন, নির্মাণাধীন বলেশ্বর নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধে ফাটল ও ভাঙ্গনের খবর পেয়ে আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি। বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিইআইপি প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তারা।

সিইআইপি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে রয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব ফাটলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর এই দিনে সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বাগেরহাটসহ উপকূলীয় কয়েকটি জেলা। সিডরের আঘাতে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয় শুধু শরণখোলা উপজেলায় এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছিলো কয়েকশ কোটি টাকার। স্বজন হারানো বেদনা ও আর্থিক ক্ষতি ভুলে শরণখোলাবাসীর একমাত্র দাবি ছিলো টেকসই বেড়িবাঁধ। গণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সরকার ২০১৫ সালে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প (সিইআইপি)’ নামে একটি প্রকল্পের অধীনে মোরেলগঞ্জের কুমারখালী থেকে শরণখোলা উপজেলার বগী-গাবতলা পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ শুরু হয়। এই বেড়িবাঁধের প্রায় ৫৮ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।