Dhaka , Saturday, 19 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাট রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পিলার ভাংচুর ও রড লুটের অভিযোগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 12:13:03 am, Thursday, 7 July 2022
  • 151 বার

সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের জমির পিলার ভাংচুর, রড ও টিনের বেড়া লুটের অভিযোগ উঠেছে রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আঃ কুদ্দুস শিকদারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মোল্লাহাট উপজেলার গাফড়া এলাকার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্থ সৈয়দ মোঃ রইছুল ইসলাম এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মোল্লাহাট উপজেলার ৫২ নং গাফড়া মৌজায় আঃ গফুরের কাছ থেকে ৮৩ শতক এবং আদিলুদ্দি খা‘র কাছ থেকে ১৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। এই জমির মধ্যে গাফড়া এলাকার কুদ্দুস শিদার ও তার ভাইদের কোন প্রকার স্বত্ত¡ নেই। তারপরেও কুদ্দুস শিদার ও তার ভাই বাদল শিকদার, মামুন শিকদার, চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর শিকদার, তুরান শিকদার, আজিজ শিকদার, আলিম শিকদার, মেজবা শিকদার, জুয়েল শিকদারসহ একটি কুচক্রী মহল আদিলুদ্দি খা‘র কাছ থেকে ক্রয়কৃত ১৮শতক জমি জোপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। ২০২১ সালের ১লা নভেম্বর আমাদের ভোগদখলীয় বসতবাড়িতে নির্মান কাজ শুরু করলে কুদ্দুস শিকদার তা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে থানায় শালীস বৈঠক হয়, সেখানে কুদ্দুস শিকদার তার মালিকানার কোন ধরণের কাজ দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে ১লা ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট বরাবর ১৪৪ ধারায় নিশেষধাজ্ঞার আবেদন করেন। কুদ্দুস শিকদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মোল্লাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আদিলুদ্দি খা এর ক্রয়কৃত ১৮ শতক জমি তার ওয়ারেশ ও ক্রয় ওয়ারেশদের কাছ থেকে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করে ১৯৭২ সাল থেকে অদ্যবধি বিবাদী সৈয়দ মোঃ রইছুল ইসলাম ভোগ দখল করেন। নালীশি জমিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদনকারী কুদ্দুস শিকদারের কোন স্বত্ত¡ নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরপর তিন তারিখ হাজিরা না দেওয়ায় চলতি বছরের ১৬ জুন মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
সৈয়দ মোঃ রইছুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে ২৫ জুন ওই জমিতে মালিকানা সাইনবোর্ডসহ পাকা পিলার ও বাঁশ খুটি দিয়ে টিনের বেড়া স্থাপন করি এবং নির্মান কাজের প্রস্তুতি নেই। কুদ্দুস শিকদারে ভাই বাদল শিকদার আমাকে বেড়া খুলে নিতে বলে নানা রকম হুমকি-ধামকী দিয়ে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ জুন থানায় শালীস বৈঠক বসে। শালীসের মধ্যেই তারা বেড়া খুলে নেওয়ার জন্য আমাকে শাসায় এবং মারপিট করার জন্য তেড়ে আসে। উপস্থিত লোকজন ঠেকিয়ে দিলে, তারা থানা থেকে বেরিয়ে এসে আমার জমির পাকা পিলার ভেঙ্গে মালিকানা সাইনবোর্ড, টিরে বেড়া ও নির্মান কাজের জন্য আনা ৩০০ কেজি রড লুট করে নিয়ে যায়। আমাকে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে যায়। এই অবস্থায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ক্রয়কৃত জমি ও জীবন রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অভিযুক্ত কুদ্দুস শিকদার বলেন, ওই জমির মালিক আমরা। ওই জমির মালিকানার সব ধরণের কাগজপত্র আমাদের রয়েছে। রইছুল ইসলাম শুধু শুধু অভিযোগ দিচ্ছেন।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত মতিয়ার রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বেড়া দেওয়া ও কেটে ফেলার ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা হয়। ঘটনাস্থলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাট রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পিলার ভাংচুর ও রড লুটের অভিযোগ

আপডেট টাইম : 12:13:03 am, Thursday, 7 July 2022

সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের জমির পিলার ভাংচুর, রড ও টিনের বেড়া লুটের অভিযোগ উঠেছে রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আঃ কুদ্দুস শিকদারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মোল্লাহাট উপজেলার গাফড়া এলাকার বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্থ সৈয়দ মোঃ রইছুল ইসলাম এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মোল্লাহাট উপজেলার ৫২ নং গাফড়া মৌজায় আঃ গফুরের কাছ থেকে ৮৩ শতক এবং আদিলুদ্দি খা‘র কাছ থেকে ১৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। এই জমির মধ্যে গাফড়া এলাকার কুদ্দুস শিদার ও তার ভাইদের কোন প্রকার স্বত্ত¡ নেই। তারপরেও কুদ্দুস শিদার ও তার ভাই বাদল শিকদার, মামুন শিকদার, চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর শিকদার, তুরান শিকদার, আজিজ শিকদার, আলিম শিকদার, মেজবা শিকদার, জুয়েল শিকদারসহ একটি কুচক্রী মহল আদিলুদ্দি খা‘র কাছ থেকে ক্রয়কৃত ১৮শতক জমি জোপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। ২০২১ সালের ১লা নভেম্বর আমাদের ভোগদখলীয় বসতবাড়িতে নির্মান কাজ শুরু করলে কুদ্দুস শিকদার তা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে থানায় শালীস বৈঠক হয়, সেখানে কুদ্দুস শিকদার তার মালিকানার কোন ধরণের কাজ দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে ১লা ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট বরাবর ১৪৪ ধারায় নিশেষধাজ্ঞার আবেদন করেন। কুদ্দুস শিকদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মোল্লাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আদিলুদ্দি খা এর ক্রয়কৃত ১৮ শতক জমি তার ওয়ারেশ ও ক্রয় ওয়ারেশদের কাছ থেকে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করে ১৯৭২ সাল থেকে অদ্যবধি বিবাদী সৈয়দ মোঃ রইছুল ইসলাম ভোগ দখল করেন। নালীশি জমিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদনকারী কুদ্দুস শিকদারের কোন স্বত্ত¡ নেই। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরপর তিন তারিখ হাজিরা না দেওয়ায় চলতি বছরের ১৬ জুন মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
সৈয়দ মোঃ রইছুল ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীতে ২৫ জুন ওই জমিতে মালিকানা সাইনবোর্ডসহ পাকা পিলার ও বাঁশ খুটি দিয়ে টিনের বেড়া স্থাপন করি এবং নির্মান কাজের প্রস্তুতি নেই। কুদ্দুস শিকদারে ভাই বাদল শিকদার আমাকে বেড়া খুলে নিতে বলে নানা রকম হুমকি-ধামকী দিয়ে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৭ জুন থানায় শালীস বৈঠক বসে। শালীসের মধ্যেই তারা বেড়া খুলে নেওয়ার জন্য আমাকে শাসায় এবং মারপিট করার জন্য তেড়ে আসে। উপস্থিত লোকজন ঠেকিয়ে দিলে, তারা থানা থেকে বেরিয়ে এসে আমার জমির পাকা পিলার ভেঙ্গে মালিকানা সাইনবোর্ড, টিরে বেড়া ও নির্মান কাজের জন্য আনা ৩০০ কেজি রড লুট করে নিয়ে যায়। আমাকে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে যায়। এই অবস্থায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ক্রয়কৃত জমি ও জীবন রক্ষায় পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অভিযুক্ত কুদ্দুস শিকদার বলেন, ওই জমির মালিক আমরা। ওই জমির মালিকানার সব ধরণের কাগজপত্র আমাদের রয়েছে। রইছুল ইসলাম শুধু শুধু অভিযোগ দিচ্ছেন।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত মতিয়ার রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বেড়া দেওয়া ও কেটে ফেলার ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা হয়। ঘটনাস্থলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।