Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

সুন্দরবনে প্রবেশবন্ধ, ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের ভীড়

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 11:47:52 pm, Tuesday, 12 July 2022
  • 293 বার

সুন্দরবন ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটকে বেছে নিয়েছেন ভ্রমনপীপাসুরা।

বাগেরহাট প্রতিনিধি:সুন্দরবন বন্ধ থাকায় বাগেরহাটের আরেক বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে ভীড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। রবিবার (১০ জুলাই) ঈদের দিন বিকেল থেকেই ষাটগম্বুজে দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য ভীড় ছিল। শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ নয়, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার, বাগেরহাটের চন্দ্রমহল, সুন্দরবন রিসোর্ট, পৌর পার্কসহ মুনিগঞ্জ ও দড়াটানা সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব বিনোদন কেন্দ্রে এসেছেন দর্শনার্থীরা। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন শিশুরা। সুন্দরবন ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটকে বেছে নিয়েছেন ভ্রমনপীপাসুরা। গেল তিন দিনে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বাগেরহাট ভ্রমন করেছেন বলে ধারণা করছেন পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িতরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সপ্তাহজুড়ে জেলার ঐতিহ্যাসিক ও দর্শণীয় এসব স্থানে পর্যটকদের ভিড় থাকবে বলে জানিয়েছে বাগেরহাট প্রত্মতত্ব বিভাগ।
পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে ঘুরতে আসা লিলি মাহবুব বলেন, বই পুস্তকে পড়েছি বাগেরহাট হলো মসজিদের শহর। এত বছরের প্রাচীন সব মসজিদ দেশের কোথাও দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে ছিল বাগেরহাটে আসার। কিন্তু সময় করতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করে এবার সবাই মিলে আসলাম, খুব ভাল লাগছে।
ঢাকা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে পরিবার নিয়ে ঘুড়তে আসা মমো চৌধুরী বলেন, অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিলো, মসজিদের শহর বাগেরহাট বেড়াতে আসার। কিন্তু সময়ের অভাবে আশা হয়নি। তাই এ বছর ঈদের ছুটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে আসলাম। পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ভালো। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহানের মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে। এক কথায় বলতে গেলে বাগেরহাটের সব কিছু আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। আমাদের দেশে দেখার মত যে অনেক কিছু আছে এখানে না আসলে বুঝতাম না। এছাড়া ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রঙ্গনে শিশুদের জন্য নানা ধরনের রাউডের ব্যবস্থা আছে। আমার ছেলে-মেয়েরাও জায়গাটা খুব পছন্দ করেছে। সময় পেলে আবারও আসার ইচ্ছা আছে।
রহিম উদ্দিন নামের আকের দর্শনার্থী বলেন, ঈদের ছুটিতে নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসলাম। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ হলো হযরত খানজাহানের একটি অন্যন্যো সৃষ্টি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মসহ সবার এ মসজিদটি দেখতে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।
ঢাকার মীরপুর থেকে ষাটগম্বুজে আসা তামান্না বিনতে বলেন, ইচ্ছে থাকলেও ফেরীর বিড়ম্বনার ভয়ে বাগেরহাটে আসিনি। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসলাস। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহানের মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে।
মৌসুমী দেবনাথ নামের এক নারী বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, আমি এই নীতিতে বিশ্বাস করি। আমার শশুর বাড়ী বাগেরহাটে। আমি ও আমার স্বামী কর্মের সুবাদে ঢাকাতে থাকি। বিয়ের পর এ বছরই বাগেরহাটে ঘুরতে আসলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে।
হেলপজোন টুরস এ্যান্ড ট্যাভেলস-এর সমন্বয়ক শেখ সায়মন বলেন, গেল কয়েকদিন ধরে ষাটগম্বুজসহ বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রচুর পরিমান দর্শনার্থী এসেছে। আমাদের ধারণা ষাটগম্বুজ, মাজার, চন্দ্রমহল, কোদলা মঠ, চুনখোলা মসজিদসহ বাগেরহাটের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে লক্ষাধিক দর্শনার্থী এসেছে গেল তিন চার দিনে। পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় এবং সুন্দরবন বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীর পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন সায়মন।
প্রত্মতত্ত¡ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মোঃ যায়েদ বলেন, ঈদের ছুটিতে গেল তিনদিন ষাটগম্বুজ মসজিদসহ জেলার ঐতিহ্যাসিক সব স্থাপনা গুলোতে দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল। ঘুরতে আসা এসব পর্যটকদের জন্য ২০ জন আনসার সদস্য ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সপ্তাহজুড়ে জেলার ঐতিহ্যাসিক ও দর্শণীয় এসব স্থানে পর্যটকদের ভিড় থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের ছুটিতে অন্তত অর্ধলক্ষ দর্শনার্থী ষাটগম্বুজ ভ্রমন করবে বলে জানান তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

সুন্দরবনে প্রবেশবন্ধ, ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীদের ভীড়

আপডেট টাইম : 11:47:52 pm, Tuesday, 12 July 2022

সুন্দরবন ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটকে বেছে নিয়েছেন ভ্রমনপীপাসুরা।

বাগেরহাট প্রতিনিধি:সুন্দরবন বন্ধ থাকায় বাগেরহাটের আরেক বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে ভীড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। মঙ্গলবার (১২ জুলাই) ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। রবিবার (১০ জুলাই) ঈদের দিন বিকেল থেকেই ষাটগম্বুজে দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য ভীড় ছিল। শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ নয়, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার, বাগেরহাটের চন্দ্রমহল, সুন্দরবন রিসোর্ট, পৌর পার্কসহ মুনিগঞ্জ ও দড়াটানা সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।পরিবার-পরিজন নিয়ে এসব বিনোদন কেন্দ্রে এসেছেন দর্শনার্থীরা। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন শিশুরা। সুন্দরবন ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ঐতিহাসিক মসজিদের শহর বাগেরহাটকে বেছে নিয়েছেন ভ্রমনপীপাসুরা। গেল তিন দিনে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বাগেরহাট ভ্রমন করেছেন বলে ধারণা করছেন পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িতরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সপ্তাহজুড়ে জেলার ঐতিহ্যাসিক ও দর্শণীয় এসব স্থানে পর্যটকদের ভিড় থাকবে বলে জানিয়েছে বাগেরহাট প্রত্মতত্ব বিভাগ।
পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে ঘুরতে আসা লিলি মাহবুব বলেন, বই পুস্তকে পড়েছি বাগেরহাট হলো মসজিদের শহর। এত বছরের প্রাচীন সব মসজিদ দেশের কোথাও দেখা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছে ছিল বাগেরহাটে আসার। কিন্তু সময় করতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করে এবার সবাই মিলে আসলাম, খুব ভাল লাগছে।
ঢাকা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে পরিবার নিয়ে ঘুড়তে আসা মমো চৌধুরী বলেন, অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিলো, মসজিদের শহর বাগেরহাট বেড়াতে আসার। কিন্তু সময়ের অভাবে আশা হয়নি। তাই এ বছর ঈদের ছুটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে আসলাম। পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর এখন যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক ভালো। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহানের মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে। এক কথায় বলতে গেলে বাগেরহাটের সব কিছু আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। আমাদের দেশে দেখার মত যে অনেক কিছু আছে এখানে না আসলে বুঝতাম না। এছাড়া ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রঙ্গনে শিশুদের জন্য নানা ধরনের রাউডের ব্যবস্থা আছে। আমার ছেলে-মেয়েরাও জায়গাটা খুব পছন্দ করেছে। সময় পেলে আবারও আসার ইচ্ছা আছে।
রহিম উদ্দিন নামের আকের দর্শনার্থী বলেন, ঈদের ছুটিতে নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসলাম। তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ হলো হযরত খানজাহানের একটি অন্যন্যো সৃষ্টি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মসহ সবার এ মসজিদটি দেখতে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।
ঢাকার মীরপুর থেকে ষাটগম্বুজে আসা তামান্না বিনতে বলেন, ইচ্ছে থাকলেও ফেরীর বিড়ম্বনার ভয়ে বাগেরহাটে আসিনি। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসলাস। ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখলাম, খানজাহানের মাজার দেখলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে।
মৌসুমী দেবনাথ নামের এক নারী বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, আমি এই নীতিতে বিশ্বাস করি। আমার শশুর বাড়ী বাগেরহাটে। আমি ও আমার স্বামী কর্মের সুবাদে ঢাকাতে থাকি। বিয়ের পর এ বছরই বাগেরহাটে ঘুরতে আসলাম। আমার অনেক ভালো লেগেছে।
হেলপজোন টুরস এ্যান্ড ট্যাভেলস-এর সমন্বয়ক শেখ সায়মন বলেন, গেল কয়েকদিন ধরে ষাটগম্বুজসহ বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রচুর পরিমান দর্শনার্থী এসেছে। আমাদের ধারণা ষাটগম্বুজ, মাজার, চন্দ্রমহল, কোদলা মঠ, চুনখোলা মসজিদসহ বাগেরহাটের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে লক্ষাধিক দর্শনার্থী এসেছে গেল তিন চার দিনে। পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় এবং সুন্দরবন বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীর পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন সায়মন।
প্রত্মতত্ত¡ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মোঃ যায়েদ বলেন, ঈদের ছুটিতে গেল তিনদিন ষাটগম্বুজ মসজিদসহ জেলার ঐতিহ্যাসিক সব স্থাপনা গুলোতে দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল। ঘুরতে আসা এসব পর্যটকদের জন্য ২০ জন আনসার সদস্য ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সপ্তাহজুড়ে জেলার ঐতিহ্যাসিক ও দর্শণীয় এসব স্থানে পর্যটকদের ভিড় থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের ছুটিতে অন্তত অর্ধলক্ষ দর্শনার্থী ষাটগম্বুজ ভ্রমন করবে বলে জানান তিনি।