Dhaka , Saturday, 19 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে অঝোরে কাঁদলেন বৃদ্ধ বাবা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 08:34:06 pm, Thursday, 21 July 2022
  • 139 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:বাগেরহাটে সন্তান হতার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হতভাগা এক বাবা। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বৈদ্যমারি গ্রামের আনোয়ার ব্যাপারি। এসময়, নিহত গৃহবধুর ভাই হাফিজুর ব্যাপারি, দুলাভাই মাসুম শেখ ও চাচা ইউসুফ ব্যাপারি উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের বিচার চেয়ে হাউ-মাউ করে কাঁদেন আনোয়ার ব্যাপারি।
কাঁদতে কাঁদতে আনোয়ার ব্যাপারি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে মোংলা উপজেলা সুন্দরবন ইউনিয়নের গোরাবাসতলা গ্রামের সেকেন্দার শেখের ছেলে মহিদুল শেখের (৩০) সাথে পারিবারিকভাবে আমার ছোট মেয়ে তাসলিমা বেগম (২৫) এর বিবাহ হয়। তাদের সংসারে সাব্বির (৭) ও সামিয়া (৩) দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় মহিদুল শেখ আমার মেয়েকে মারধর ও নানা ভাবে অত্যাচর করত।এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় ভাবে ও থানা পুলিশের মাধ্যমে কয়েকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে। তারপরও আমার জামাই ভালো হয়নি এবং পুনরায় সে আমার মেয়ের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু অবুজ দুটি সন্তানের কথা চিন্তা করে শত অত্যাচার নির্যাতন সয্য করে সংসার চালিয়ে যেতে থাকে আমার মেয়ে । এরই মধ্যে গত ১৪ জুলাই ২০২২ রাত ৮টার দিকে একই এলাকার “মহিত ব্যাপারি” এর মাধ্যমে জানতে পারি আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি জানার পর আমি মোংলা হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে শুনতে পারি, আমার মেয়ের লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মোংলা থানায় গিয়ে দেখি আমার মেয়ের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারপিট ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবী করে থানা পুলিশকে জানাই। থানা পুলিশ আমার মেয়ের মরদেহ ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করে। আমার জামাই মহিদুল শেখ আটক করার বিষয়ে বললে পুলিশ আমার কথার কোন গুরুত্ব দেয় না। এছাড়া পরবর্তিতে এলাকাবাসির মাধ্যমে জানতে পারি আমার মেয়েকে মারপিট করে হত্যা করেছে জামাই মহিদুল। হত্যা করে কাউকে কিছু না জানিয়ে কালক্ষেপন করে সন্ধ্যার দিকে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।
আনোয়ার ব্যাপারি আরও বলেন, আমার জামাই একজন মাদকসেবী ও পেশাদার জুয়া খেলোয়ার। আমি তার কঠিন শাস্তি চাই।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মরদেহের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলে এ বিষয়ে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে অঝোরে কাঁদলেন বৃদ্ধ বাবা

আপডেট টাইম : 08:34:06 pm, Thursday, 21 July 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:বাগেরহাটে সন্তান হতার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হতভাগা এক বাবা। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বৈদ্যমারি গ্রামের আনোয়ার ব্যাপারি। এসময়, নিহত গৃহবধুর ভাই হাফিজুর ব্যাপারি, দুলাভাই মাসুম শেখ ও চাচা ইউসুফ ব্যাপারি উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের বিচার চেয়ে হাউ-মাউ করে কাঁদেন আনোয়ার ব্যাপারি।
কাঁদতে কাঁদতে আনোয়ার ব্যাপারি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে মোংলা উপজেলা সুন্দরবন ইউনিয়নের গোরাবাসতলা গ্রামের সেকেন্দার শেখের ছেলে মহিদুল শেখের (৩০) সাথে পারিবারিকভাবে আমার ছোট মেয়ে তাসলিমা বেগম (২৫) এর বিবাহ হয়। তাদের সংসারে সাব্বির (৭) ও সামিয়া (৩) দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় মহিদুল শেখ আমার মেয়েকে মারধর ও নানা ভাবে অত্যাচর করত।এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় ভাবে ও থানা পুলিশের মাধ্যমে কয়েকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে। তারপরও আমার জামাই ভালো হয়নি এবং পুনরায় সে আমার মেয়ের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু অবুজ দুটি সন্তানের কথা চিন্তা করে শত অত্যাচার নির্যাতন সয্য করে সংসার চালিয়ে যেতে থাকে আমার মেয়ে । এরই মধ্যে গত ১৪ জুলাই ২০২২ রাত ৮টার দিকে একই এলাকার “মহিত ব্যাপারি” এর মাধ্যমে জানতে পারি আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি জানার পর আমি মোংলা হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে শুনতে পারি, আমার মেয়ের লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মোংলা থানায় গিয়ে দেখি আমার মেয়ের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারপিট ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবী করে থানা পুলিশকে জানাই। থানা পুলিশ আমার মেয়ের মরদেহ ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করে। আমার জামাই মহিদুল শেখ আটক করার বিষয়ে বললে পুলিশ আমার কথার কোন গুরুত্ব দেয় না। এছাড়া পরবর্তিতে এলাকাবাসির মাধ্যমে জানতে পারি আমার মেয়েকে মারপিট করে হত্যা করেছে জামাই মহিদুল। হত্যা করে কাউকে কিছু না জানিয়ে কালক্ষেপন করে সন্ধ্যার দিকে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।
আনোয়ার ব্যাপারি আরও বলেন, আমার জামাই একজন মাদকসেবী ও পেশাদার জুয়া খেলোয়ার। আমি তার কঠিন শাস্তি চাই।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার মরদেহের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলে এ বিষয়ে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।