Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

দুর্যোগ মৌসুমেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে সুন্দরবনে

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:36:14 pm, Sunday, 4 September 2022
  • 139 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:পর্যটন মৌসুম না হলেও পদ্মা সেতুর সুবাদে অসময়ে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে সুন্দরবনে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর দুর্যোগ মৌসুম হওয়ায় এই সময়টাতে সুন্দরবনে পর্যটকের আগমন খুবই কম থাকে। কিন্তু বিগত সময়ের শূন্যতা কাটিয়ে এখন অনেকটা পর্যটকমুখর পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পদ্মা সেতুর কারণে দিনে দিনে সুন্দরবন ভ্রমণ করে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অসময়ে পর্যটকের এ আগমন বলে জানিয়েছেন বনবিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, ‘সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস মূলত দুর্যোগ মৌসুম। এই দুই মাস ঝড়-বৃষ্টির কারণে নদী উত্তাল থাকে। তাই এই সময় সুন্দরবন পর্যটকশূন্য থাকে। বিগত বছরে দেখা গেছে সেপ্টেম্বরে এ সময় দৈনিক গড়ে ৫-২৫ লোকের আগমন হতো। এখন সেই সংখ্যার কয়েকগুণ লোক আসছে সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে।’তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সুন্দরবন। উম্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই ১১৭ জন, দ্বিতীয় দিনে ২৫০ জন, তৃতীয় দিনে ২০০ জন এসেছেন। চতুর্থ দিন রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ১০০ লোক এসেছেন। বিকেল পর্যন্ত তা বেড়ে দেড় থেকে দুইশ হবে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা আজাদ কবির।

বনবিভাগ বলছে, আগামী নভেম্বরে পুরোপুরি পর্যটন মৌসুম শুরু হবে। তখন ব্যাপক চাপ বাড়বে সুন্দরবনে। তবে দেশের যে কোনো জায়গা থেকে এসে মোংলার সবচেয়ে কাছাকাছির পর্যটনকেন্দ্র হলো করমজল। তাই এখানে সবসময় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি।

করমজলে দর্শনার্থীদের ওঠানামার জন্য রয়েছে দুটি পন্টুন, একটি পাকা ঘাট, বনের ভেতরে প্রবেশ করার পাকা রাস্তা, টয়লেট, ফুট টেইল, ওয়াচ টাওয়ার ও গোলঘর। এছাড়া নির্মিত হচ্ছে ইন্টারপিটিশন সেন্টার। যেখানে সংরক্ষণ থাকবে বাঘ, হরিণ ও কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কংকাল এবং মমিসদৃশ নানা প্রাণী। যা অনেকটা মিউজিয়ামের মতোই হবে।

করমজল পর্যটন কেন্দ্রে আরও রয়েছে ডলফিনের মিউজিয়াম, বিলুপ্তপ্রায় লবণ পানি প্রজাতির কুমির ও বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র। দর্শনার্থীদের কাছে এ প্রজনন কেন্দ্রটি বাড়তি আকর্ষণীয় উপভোগ্য স্পট হিসেবে পরিণত হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, এখন পর্যটন মৌসুম নয়। তারপরও পদ্মা সেতুর সুফলে সুন্দরবনে পর্যটকরা ছুটে আসছেন। সামনের শীতকালের ভরা পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড় আগের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়বে। পর্যটকদের সেই চাপ সামলাতে ও ভ্রমণ সুবিধার্থে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ও আলীবান্দায় আরও দুটি নতুন পর্যটন স্পট এ বছরই গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি করমজল, হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী, নীলকমল ও দুবলার পর্যটন কেন্দ্রও সংস্কার করে আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

দুর্যোগ মৌসুমেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে সুন্দরবনে

আপডেট টাইম : 06:36:14 pm, Sunday, 4 September 2022

বাগেরহাট প্রতিনিধি:পর্যটন মৌসুম না হলেও পদ্মা সেতুর সুবাদে অসময়ে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে সুন্দরবনে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর দুর্যোগ মৌসুম হওয়ায় এই সময়টাতে সুন্দরবনে পর্যটকের আগমন খুবই কম থাকে। কিন্তু বিগত সময়ের শূন্যতা কাটিয়ে এখন অনেকটা পর্যটকমুখর পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পদ্মা সেতুর কারণে দিনে দিনে সুন্দরবন ভ্রমণ করে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অসময়ে পর্যটকের এ আগমন বলে জানিয়েছেন বনবিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, ‘সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস মূলত দুর্যোগ মৌসুম। এই দুই মাস ঝড়-বৃষ্টির কারণে নদী উত্তাল থাকে। তাই এই সময় সুন্দরবন পর্যটকশূন্য থাকে। বিগত বছরে দেখা গেছে সেপ্টেম্বরে এ সময় দৈনিক গড়ে ৫-২৫ লোকের আগমন হতো। এখন সেই সংখ্যার কয়েকগুণ লোক আসছে সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে।’তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সুন্দরবন। উম্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই ১১৭ জন, দ্বিতীয় দিনে ২৫০ জন, তৃতীয় দিনে ২০০ জন এসেছেন। চতুর্থ দিন রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ১০০ লোক এসেছেন। বিকেল পর্যন্ত তা বেড়ে দেড় থেকে দুইশ হবে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা আজাদ কবির।

বনবিভাগ বলছে, আগামী নভেম্বরে পুরোপুরি পর্যটন মৌসুম শুরু হবে। তখন ব্যাপক চাপ বাড়বে সুন্দরবনে। তবে দেশের যে কোনো জায়গা থেকে এসে মোংলার সবচেয়ে কাছাকাছির পর্যটনকেন্দ্র হলো করমজল। তাই এখানে সবসময় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি।

করমজলে দর্শনার্থীদের ওঠানামার জন্য রয়েছে দুটি পন্টুন, একটি পাকা ঘাট, বনের ভেতরে প্রবেশ করার পাকা রাস্তা, টয়লেট, ফুট টেইল, ওয়াচ টাওয়ার ও গোলঘর। এছাড়া নির্মিত হচ্ছে ইন্টারপিটিশন সেন্টার। যেখানে সংরক্ষণ থাকবে বাঘ, হরিণ ও কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কংকাল এবং মমিসদৃশ নানা প্রাণী। যা অনেকটা মিউজিয়ামের মতোই হবে।

করমজল পর্যটন কেন্দ্রে আরও রয়েছে ডলফিনের মিউজিয়াম, বিলুপ্তপ্রায় লবণ পানি প্রজাতির কুমির ও বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র। দর্শনার্থীদের কাছে এ প্রজনন কেন্দ্রটি বাড়তি আকর্ষণীয় উপভোগ্য স্পট হিসেবে পরিণত হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, এখন পর্যটন মৌসুম নয়। তারপরও পদ্মা সেতুর সুফলে সুন্দরবনে পর্যটকরা ছুটে আসছেন। সামনের শীতকালের ভরা পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড় আগের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়বে। পর্যটকদের সেই চাপ সামলাতে ও ভ্রমণ সুবিধার্থে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ও আলীবান্দায় আরও দুটি নতুন পর্যটন স্পট এ বছরই গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি করমজল, হাড়বাড়ীয়া, কটকা, কচিখালী, নীলকমল ও দুবলার পর্যটন কেন্দ্রও সংস্কার করে আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।