Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

পলিথিনমুক্ত গ্রাম গড়তে চার যুবকের উদ্যোগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:16:35 pm, Tuesday, 20 December 2022
  • 159 বার

চিতলমারী প্রতিনিধি:গ্রামের প্রতিটি বাড়ি আঙিনায় পলিথিনের স্তুপ। নোংরা আর আবর্জনায় ভরা। এ আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। খালে-বিলে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। এ দুষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ফসল এবং ফসলি জমি। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিবেককে। বিবেক মজুমদার (৩৮) পেশায় একজন সবজি ও মৎস্য চাষী। বাস করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খড়মখালী গ্রামে।

বিবেক মজুমদার বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় দেখি অব্যবহৃত পলিথিন মাটিতে পড়ে ময়লা-আবর্জনায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। যা খালে-বিলে ও ফসলের জমিতে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল।ঘটনাটি আমাকে খুব ব্যথিত করে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের গ্রামের দেবাশিষ রানা, প্রভাষ মন্ডল ও প্রসাদ মজুমদারের সাথে আলাপ করি। দীর্ঘ আলাচনা শেষে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহন করি যে গ্রামের প্রতিটি ঘরে, রাস্তার মোড়ে, দোকানের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে প্লাস্টিকের বস্তা ঝুলিয়ে দিব। সেই বস্তায় মানুষেরা ব্যবহার শেষে তাঁদের পলিথিন গুলো ফেলেবে এবং প্রতি সপ্তাহে সেগুলো আমরা একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলব।

কথানুযায়ী আমরা পৌঁছে দিয়েছি প্লাস্টিকের বস্তা। গ্রামের মানুষ সচেতন হয়েছেন। তাঁরা সাচ্ছন্দে বিভিন্ন ধরনের পলিথিনের প্যাকেট ব্যবহার শেষে বস্তায় ভরে রাখছে। এখন আগের চেয়ে অনেকটাই পলিথিন মুক্ত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আশাকরি আমাদের এ কার্যক্রম সফল হলে আগামীতে আমার উপজেলা ব্যাপী এ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। ভবিষ্যতে আমাদের উপজেলা পলিথিন ও দূষণমুক্ত হবে।’

খড়মখালী গ্রামের বৃদ্ধা কল্যানী বাড়ই বলেন, ‘চার যুবকের এ উদ্যোগ প্রসংশনীয়। গ্রামের গৃহবধুরাও পলিথিনের কুফল সম্পর্কে জেনেছে।বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরাও সচেতন হচ্ছে। এ ভাবে চললে একদিন অবশ্যই চার যুবকের চেষ্টা সার্থক হবে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

পলিথিনমুক্ত গ্রাম গড়তে চার যুবকের উদ্যোগ

আপডেট টাইম : 05:16:35 pm, Tuesday, 20 December 2022

চিতলমারী প্রতিনিধি:গ্রামের প্রতিটি বাড়ি আঙিনায় পলিথিনের স্তুপ। নোংরা আর আবর্জনায় ভরা। এ আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। খালে-বিলে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। এ দুষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ফসল এবং ফসলি জমি। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিবেককে। বিবেক মজুমদার (৩৮) পেশায় একজন সবজি ও মৎস্য চাষী। বাস করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খড়মখালী গ্রামে।

বিবেক মজুমদার বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় দেখি অব্যবহৃত পলিথিন মাটিতে পড়ে ময়লা-আবর্জনায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। যা খালে-বিলে ও ফসলের জমিতে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল।ঘটনাটি আমাকে খুব ব্যথিত করে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের গ্রামের দেবাশিষ রানা, প্রভাষ মন্ডল ও প্রসাদ মজুমদারের সাথে আলাপ করি। দীর্ঘ আলাচনা শেষে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহন করি যে গ্রামের প্রতিটি ঘরে, রাস্তার মোড়ে, দোকানের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে প্লাস্টিকের বস্তা ঝুলিয়ে দিব। সেই বস্তায় মানুষেরা ব্যবহার শেষে তাঁদের পলিথিন গুলো ফেলেবে এবং প্রতি সপ্তাহে সেগুলো আমরা একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলব।

কথানুযায়ী আমরা পৌঁছে দিয়েছি প্লাস্টিকের বস্তা। গ্রামের মানুষ সচেতন হয়েছেন। তাঁরা সাচ্ছন্দে বিভিন্ন ধরনের পলিথিনের প্যাকেট ব্যবহার শেষে বস্তায় ভরে রাখছে। এখন আগের চেয়ে অনেকটাই পলিথিন মুক্ত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আশাকরি আমাদের এ কার্যক্রম সফল হলে আগামীতে আমার উপজেলা ব্যাপী এ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। ভবিষ্যতে আমাদের উপজেলা পলিথিন ও দূষণমুক্ত হবে।’

খড়মখালী গ্রামের বৃদ্ধা কল্যানী বাড়ই বলেন, ‘চার যুবকের এ উদ্যোগ প্রসংশনীয়। গ্রামের গৃহবধুরাও পলিথিনের কুফল সম্পর্কে জেনেছে।বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরাও সচেতন হচ্ছে। এ ভাবে চললে একদিন অবশ্যই চার যুবকের চেষ্টা সার্থক হবে।’