Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

পলিথিনমুক্ত গ্রাম গড়তে চার যুবকের উদ্যোগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:16:35 pm, Tuesday, 20 December 2022
  • 190 বার

চিতলমারী প্রতিনিধি:গ্রামের প্রতিটি বাড়ি আঙিনায় পলিথিনের স্তুপ। নোংরা আর আবর্জনায় ভরা। এ আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। খালে-বিলে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। এ দুষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ফসল এবং ফসলি জমি। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিবেককে। বিবেক মজুমদার (৩৮) পেশায় একজন সবজি ও মৎস্য চাষী। বাস করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খড়মখালী গ্রামে।

বিবেক মজুমদার বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় দেখি অব্যবহৃত পলিথিন মাটিতে পড়ে ময়লা-আবর্জনায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। যা খালে-বিলে ও ফসলের জমিতে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল।ঘটনাটি আমাকে খুব ব্যথিত করে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের গ্রামের দেবাশিষ রানা, প্রভাষ মন্ডল ও প্রসাদ মজুমদারের সাথে আলাপ করি। দীর্ঘ আলাচনা শেষে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহন করি যে গ্রামের প্রতিটি ঘরে, রাস্তার মোড়ে, দোকানের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে প্লাস্টিকের বস্তা ঝুলিয়ে দিব। সেই বস্তায় মানুষেরা ব্যবহার শেষে তাঁদের পলিথিন গুলো ফেলেবে এবং প্রতি সপ্তাহে সেগুলো আমরা একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলব।

কথানুযায়ী আমরা পৌঁছে দিয়েছি প্লাস্টিকের বস্তা। গ্রামের মানুষ সচেতন হয়েছেন। তাঁরা সাচ্ছন্দে বিভিন্ন ধরনের পলিথিনের প্যাকেট ব্যবহার শেষে বস্তায় ভরে রাখছে। এখন আগের চেয়ে অনেকটাই পলিথিন মুক্ত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আশাকরি আমাদের এ কার্যক্রম সফল হলে আগামীতে আমার উপজেলা ব্যাপী এ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। ভবিষ্যতে আমাদের উপজেলা পলিথিন ও দূষণমুক্ত হবে।’

খড়মখালী গ্রামের বৃদ্ধা কল্যানী বাড়ই বলেন, ‘চার যুবকের এ উদ্যোগ প্রসংশনীয়। গ্রামের গৃহবধুরাও পলিথিনের কুফল সম্পর্কে জেনেছে।বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরাও সচেতন হচ্ছে। এ ভাবে চললে একদিন অবশ্যই চার যুবকের চেষ্টা সার্থক হবে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পলিথিনমুক্ত গ্রাম গড়তে চার যুবকের উদ্যোগ

আপডেট টাইম : 05:16:35 pm, Tuesday, 20 December 2022

চিতলমারী প্রতিনিধি:গ্রামের প্রতিটি বাড়ি আঙিনায় পলিথিনের স্তুপ। নোংরা আর আবর্জনায় ভরা। এ আবর্জনা ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। খালে-বিলে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। এ দুষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ফসল এবং ফসলি জমি। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বিবেককে। বিবেক মজুমদার (৩৮) পেশায় একজন সবজি ও মৎস্য চাষী। বাস করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খড়মখালী গ্রামে।

বিবেক মজুমদার বলেন, ‘প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় দেখি অব্যবহৃত পলিথিন মাটিতে পড়ে ময়লা-আবর্জনায় স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমিতে। যা খালে-বিলে ও ফসলের জমিতে পড়ে মারাত্মক ভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল।ঘটনাটি আমাকে খুব ব্যথিত করে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের গ্রামের দেবাশিষ রানা, প্রভাষ মন্ডল ও প্রসাদ মজুমদারের সাথে আলাপ করি। দীর্ঘ আলাচনা শেষে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহন করি যে গ্রামের প্রতিটি ঘরে, রাস্তার মোড়ে, দোকানের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি করে প্লাস্টিকের বস্তা ঝুলিয়ে দিব। সেই বস্তায় মানুষেরা ব্যবহার শেষে তাঁদের পলিথিন গুলো ফেলেবে এবং প্রতি সপ্তাহে সেগুলো আমরা একত্রিত করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে পুঁড়িয়ে ফেলব।

কথানুযায়ী আমরা পৌঁছে দিয়েছি প্লাস্টিকের বস্তা। গ্রামের মানুষ সচেতন হয়েছেন। তাঁরা সাচ্ছন্দে বিভিন্ন ধরনের পলিথিনের প্যাকেট ব্যবহার শেষে বস্তায় ভরে রাখছে। এখন আগের চেয়ে অনেকটাই পলিথিন মুক্ত হয়েছে আমাদের গ্রাম। আশাকরি আমাদের এ কার্যক্রম সফল হলে আগামীতে আমার উপজেলা ব্যাপী এ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। ভবিষ্যতে আমাদের উপজেলা পলিথিন ও দূষণমুক্ত হবে।’

খড়মখালী গ্রামের বৃদ্ধা কল্যানী বাড়ই বলেন, ‘চার যুবকের এ উদ্যোগ প্রসংশনীয়। গ্রামের গৃহবধুরাও পলিথিনের কুফল সম্পর্কে জেনেছে।বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরাও সচেতন হচ্ছে। এ ভাবে চললে একদিন অবশ্যই চার যুবকের চেষ্টা সার্থক হবে।’