স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট:
পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে বাগেরহাটের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নাছিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা। এরপর ক্লিনিকজুড়ে কান্না ও আহাজারির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই নাছিমার মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক সুনীল কুমার দাসের দাবি, অপারেশন থিয়েটারেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে নাছিমার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাগেরহাট শহরের পুরাতন বাজার মোড় এলাকায় অবস্থিত পলি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাছিমা আক্তার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বারোদাঁড়িয়া গ্রামের সুমন হাওলাদারের স্ত্রী। সাত মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে তার।
নিহতের স্বজনরা জানান, পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচারের জন্য নাছিমাকে পলি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের বিস্তারিত জানানো হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্বজনদের দাবি, মঙ্গলবার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে ক্লিনিকের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন নাছিমা মারা গেছেন। পরে ক্লিনিকে গিয়ে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ক্লিনিক ও আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
নাছিমার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে পলি ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক সুনীল কুমার দাস বলেন, “অপারেশন থিয়েটারেই নাছিমা আক্তারের হার্ট অ্যাটাক হয়। তাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল না।”
এদিকে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই ক্লিনিকে একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নাছিমার স্বামী সুমন হাওলাদার বলেন, “আমার স্ত্রী সুস্থ অবস্থায় অপারেশনের জন্য ক্লিনিকে গিয়েছিল। এখন তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্লিনিকটি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন বলেন, “রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নাছিমার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, অস্ত্রোপচারের সময় কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবী জানিয়েছেন স্বজনরা।
Md.Liton 











