Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

আজ ডাকরা গণহত্যা দিবস, হত্যা করা হয় ছয় শতাধিক মানুষকে

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 12:10:08 pm, Sunday, 22 May 2022
  • 162 বার
স্টাফ রিপোর্টার: ১৯৭১ সালের ২১ মে দুপুর একটা। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কুমারখালী নদী দিয়ে দুটি নৌকায় ২৫-৩০ জন লোক ডাকরা হাইস্কুল দিকে আসেন। একটি নৌকা ডাকরা হাইস্কুলের পুর্ব পাশে কুমারখালী খালে ঢোকে, অন্যটি একটু পশ্চিমে এগিয়ে মাদারতলী খালের মধ্যে ঢুকে ডাকরা বাজারে থামায়। নৌকার লোকগুলো দ্রুত সমতল ভূমিতে নেমে যায়। মুহুর্তের মধ্যে ডাকরা বাজারের পাশে থাকা শতবর্ষী কালি মন্দিরে পূর্ব থেকে আশ্রয় নেওয়া নিরিহ মানুষদের লক্ষ করে গুলি ছুড়তে থাকে। বন্ধুকের গুলি থেকে বেঁচে যাওয়া অনেককে জবাইও করা হয়। এদিন রাজাকারদের নেতৃত্বে অন্তত ৬ শতাধিক মানুষকে হত্যা করে ডাকরায়। এরপর শুরু হয় লুটপাট আর অগ্নিসংযোগ।

রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের ডাকরা গ্রামে সেদিন এভাবেই ব্যাপক গণহত্যা ও লুটতরাজ চালানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় এটিই ছিল জেলার সবচেয়ে বড় হত্যাকান্ডের ঘটনা। সেদিন ভাগ্যের জোড়ে বেঁচে যাওয়া ভীত সন্ত্রস্ত লোকগুলো আজও আতকে ওঠেন সেই দিনের কথা মনে করে।

গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী শিশির মজুমদার বলেন, ভারতে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক লোক ডাকরা এলাকায় নোয়া ঠাকুরের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু রাজাকার বাহিনী দুই দিক থেকে নৌকায় এসে এলাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। শুধু হত্যা করেই থেমে থাকেনি তারা ধর্ষণ ও মূল্যবান সম্পদও লুট করেছিল সেদিন রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা। সেদিনের ঘটনা মনে পড়লে আজও গা শিওরে ওঠে। কষ্টে চোখে জল চলে আসে।

বাগেরহাট ৩ আসনের (রামপাল-মোংলা) সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকে মনে করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সহজেই চলে এসেছে। এজন্য কাউকে কোন ত্যাগ বা মূল্য দিতে হয়নি। আসলে স্বাধীনতা অর্জন যে আমাদের জন্য কত কঠিন ছিল, শুধু মক্তিযোদ্ধা নয়, সাধারণ মানুষকেও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কত মূল্য দিতে হয়েছে, তা চিন্তার বাইরে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আজ ডাকরা গণহত্যা দিবস, হত্যা করা হয় ছয় শতাধিক মানুষকে

আপডেট টাইম : 12:10:08 pm, Sunday, 22 May 2022
স্টাফ রিপোর্টার: ১৯৭১ সালের ২১ মে দুপুর একটা। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কুমারখালী নদী দিয়ে দুটি নৌকায় ২৫-৩০ জন লোক ডাকরা হাইস্কুল দিকে আসেন। একটি নৌকা ডাকরা হাইস্কুলের পুর্ব পাশে কুমারখালী খালে ঢোকে, অন্যটি একটু পশ্চিমে এগিয়ে মাদারতলী খালের মধ্যে ঢুকে ডাকরা বাজারে থামায়। নৌকার লোকগুলো দ্রুত সমতল ভূমিতে নেমে যায়। মুহুর্তের মধ্যে ডাকরা বাজারের পাশে থাকা শতবর্ষী কালি মন্দিরে পূর্ব থেকে আশ্রয় নেওয়া নিরিহ মানুষদের লক্ষ করে গুলি ছুড়তে থাকে। বন্ধুকের গুলি থেকে বেঁচে যাওয়া অনেককে জবাইও করা হয়। এদিন রাজাকারদের নেতৃত্বে অন্তত ৬ শতাধিক মানুষকে হত্যা করে ডাকরায়। এরপর শুরু হয় লুটপাট আর অগ্নিসংযোগ।

রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের ডাকরা গ্রামে সেদিন এভাবেই ব্যাপক গণহত্যা ও লুটতরাজ চালানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় এটিই ছিল জেলার সবচেয়ে বড় হত্যাকান্ডের ঘটনা। সেদিন ভাগ্যের জোড়ে বেঁচে যাওয়া ভীত সন্ত্রস্ত লোকগুলো আজও আতকে ওঠেন সেই দিনের কথা মনে করে।

গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী শিশির মজুমদার বলেন, ভারতে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক লোক ডাকরা এলাকায় নোয়া ঠাকুরের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু রাজাকার বাহিনী দুই দিক থেকে নৌকায় এসে এলাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। শুধু হত্যা করেই থেমে থাকেনি তারা ধর্ষণ ও মূল্যবান সম্পদও লুট করেছিল সেদিন রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা। সেদিনের ঘটনা মনে পড়লে আজও গা শিওরে ওঠে। কষ্টে চোখে জল চলে আসে।

বাগেরহাট ৩ আসনের (রামপাল-মোংলা) সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকে মনে করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সহজেই চলে এসেছে। এজন্য কাউকে কোন ত্যাগ বা মূল্য দিতে হয়নি। আসলে স্বাধীনতা অর্জন যে আমাদের জন্য কত কঠিন ছিল, শুধু মক্তিযোদ্ধা নয়, সাধারণ মানুষকেও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কত মূল্য দিতে হয়েছে, তা চিন্তার বাইরে।