Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

আজ রামপাল হানাদার মুক্ত দিবস

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:58:41 pm, Tuesday, 13 December 2022
  • 115 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ডাকরা গণহত্যা হিসাবে আলোচিত বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়।মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৫০-৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা রামপাল মুক্ত করে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ কালীন কমান্ডার শেখ আঃ জলিলের নেতৃত্বে হানাদার মুক্ত করা হয়। রামপাল মুক্ত দিবসটি ছিলো স্বজন, সহযোদ্ধাদের হারানো দীর্ঘশ্বাস ও বিজয় উল্লাসের দিন। এর আগে ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম শেখ আ. জলিলের নেতৃত্বে বাগেরহাটের মোংলাতে অপারেশনের একটি প্রস্তুতি চলছিলো এবং ৫০-৬০ জনের একটি দল মোংলা আশপাশের এলাকায় অবস্থা নেন। পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা একটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়। এতে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ওই সময় গুরুতর আহত হন চিতলমারীর নিজামসহ ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। ওই তারিখ মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন করলে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটে। এর পরেই ১২ ডিসেম্বর রাতে রামপাল থানাকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করতে মুক্তিযোদ্ধারা রামপাল পেড়িখালী বাজারে অবস্থা নেন।

১৩ ডিসেম্বর সকালে রামপাল থানায় হাজির হলে তৎকালীন থানার ওসি আমিনুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের অভ্যার্থনা জানান।

এদিনে মুক্তিযোদ্ধারা রামপাল থানায় লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে জয় বাংলা শ্লোগান দেন। এ সময় শেখ আব্দুল জলিল, সম্মুখ সমর যোদ্ধা বড়দিয়ার টি. আহম্মদ, বাহারুলসহ সকলে উপস্থিত ছিলেন। বিজয় পতাকা উড়ানোর পর হানাদার বাহিনীর ৪৫ জন দালাল ও তার দোসরদের থানায় ধরে নিয়ে আসা হয়। তাদের থানায় কয়েকদিন আটকে রেখে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতি প্রদানের শপথ পড়িয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। রামপাল উপজেলা হানাদার মুক্ত ঘোষণা বিষয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এ তথ্য জানান মুক্তিযুদ্ধকালীন ডেপুটি কমান্ডার অতিন্দ্রনাথ হালদার দুলাল। তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি চেতনা। একটি কনসেপ্ট। এটা এখনও চলমান। আমরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে নিরন্তর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। সেটি শিক্ষা, মৌলিক অধিকার পূরণ ও বাংঙ্গালীর সংস্কৃতি। বর্তমান সরকার সময়ে রামপালের ডাকরা গণহত্যা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণ এ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মকে জাগ্রত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

আজ রামপাল হানাদার মুক্ত দিবস

আপডেট টাইম : 05:58:41 pm, Tuesday, 13 December 2022

বাগেরহাট প্রতিনিধি:স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ডাকরা গণহত্যা হিসাবে আলোচিত বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়।মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৫০-৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা রামপাল মুক্ত করে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ কালীন কমান্ডার শেখ আঃ জলিলের নেতৃত্বে হানাদার মুক্ত করা হয়। রামপাল মুক্ত দিবসটি ছিলো স্বজন, সহযোদ্ধাদের হারানো দীর্ঘশ্বাস ও বিজয় উল্লাসের দিন। এর আগে ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম শেখ আ. জলিলের নেতৃত্বে বাগেরহাটের মোংলাতে অপারেশনের একটি প্রস্তুতি চলছিলো এবং ৫০-৬০ জনের একটি দল মোংলা আশপাশের এলাকায় অবস্থা নেন। পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা একটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়। এতে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ওই সময় গুরুতর আহত হন চিতলমারীর নিজামসহ ৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। ওই তারিখ মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমন করলে পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা পিছু হটে। এর পরেই ১২ ডিসেম্বর রাতে রামপাল থানাকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করতে মুক্তিযোদ্ধারা রামপাল পেড়িখালী বাজারে অবস্থা নেন।

১৩ ডিসেম্বর সকালে রামপাল থানায় হাজির হলে তৎকালীন থানার ওসি আমিনুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের অভ্যার্থনা জানান।

এদিনে মুক্তিযোদ্ধারা রামপাল থানায় লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে জয় বাংলা শ্লোগান দেন। এ সময় শেখ আব্দুল জলিল, সম্মুখ সমর যোদ্ধা বড়দিয়ার টি. আহম্মদ, বাহারুলসহ সকলে উপস্থিত ছিলেন। বিজয় পতাকা উড়ানোর পর হানাদার বাহিনীর ৪৫ জন দালাল ও তার দোসরদের থানায় ধরে নিয়ে আসা হয়। তাদের থানায় কয়েকদিন আটকে রেখে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ক্ষতি প্রদানের শপথ পড়িয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। রামপাল উপজেলা হানাদার মুক্ত ঘোষণা বিষয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এ তথ্য জানান মুক্তিযুদ্ধকালীন ডেপুটি কমান্ডার অতিন্দ্রনাথ হালদার দুলাল। তিনি এ প্রতিবেদক কে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি চেতনা। একটি কনসেপ্ট। এটা এখনও চলমান। আমরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে নিরন্তর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। সেটি শিক্ষা, মৌলিক অধিকার পূরণ ও বাংঙ্গালীর সংস্কৃতি। বর্তমান সরকার সময়ে রামপালের ডাকরা গণহত্যা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও তার রক্ষণাবেক্ষণ এ দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মকে জাগ্রত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।