Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

‘আমের জিলাপি’ বলে প্রচার করায় রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 03:14:59 pm, Saturday, 16 April 2022
  • 200 বার
রাজশাহী প্রতিনিধি:

প্রতিষ্ঠানটির দুই মালিকের একজন আরাফাত রুবেল। তিনি বলছেন, এ ধরনের অভিযান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক। কারণ, প্রথম অভিযানটি চালানোর পর ভোক্তা অধিকার বলেছিল, এই জিলাপি তাঁরা বেচতে পারবেন। কিন্তু তাঁরা চলে যাওয়ার পরই সন্ধ্যায় আবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে জরিমানা করে। বিকেলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের নিয়ে অভিযানে যান। তিনি এই জিলাপিতে সবুজ রঙ আনার জন্য ফুড গ্রেড রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রমাণ পান। এই ফুড গ্রেড ব্যবহার করা যায় কি না তা জানার জন্য তিনি রাষ্ট্রায়াত্ত মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের ডেকে আনেন।

এরপর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধারাটিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রি বা সরবরাহ না করলে তিনি এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হবেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা হাসান-আল-মারুফ বলেন, ‘কাঁচা আমের জিলাপির প্রচারণায় প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। তাই জরিমানা করা হয়েছে।’

কী ধরনের প্রতারণা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমের পরিমাণ খুবই কম। ৫ কেজি খামিরে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম আম দেওয়া হয়। এটা খুবই কম।’ তাহলে কত বেশি আম দিতে হবে হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা ওরকম না। সে রকম কোনো হিসাবও নেই। কিন্তু পরিমিত তো দিতে হবে। আর জিলাপিতে ফুড গ্রেড ব্যবহার করা হয়। রসগোল্লা যদি বলত এটা আমের ফ্লেভারের জিলাপি, তাহলে কোনো অসুবিধা ছিল না।’

প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরাফাত রুবেল গত ১০ এপ্রিল আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, তিনি আম ব্লেন্ড করে দেন। কিন্তু এতে যথেষ্ট সবুজ রঙ হয় না। তাই মালয়েশিয়া থেকে আনা ফুড গ্রেড ব্যবহার করেন। এতে কোনো ক্ষতি নেই। আর এটার দাম প্রতিকেজি ৩০ হাজার টাকা। যত কম ব্যবহার করা যায় তিনি সেই চেষ্টাটাই করে থাকেন। তা না হলে খরচ বেড়ে যায়।

রুবেল দাবি করেন, বিকালে ভোক্তা অধিকারের অভিযান শেষে কর্মকর্তারা তাঁকে জানিয়ে যান যে এ জিলাপি তিনি বিক্রি করতে পারবেন। তবে ফেসবুকে প্রচারে ‘আমের জিলাপি’ না লিখে ‘আমের ফ্লেভারে জিলাপি’ লিখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেটি ফেসবুকে পরিবর্তন করেও দেন। এরপর জিলাপি বিক্রি করছিলেন। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই জিলাপি বিক্রির কারণে আবার ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। তিনি বিএসটিআইয়েরও একজন কর্মকর্তা এনেছিলেন। তখন এই কর্মকর্তাও বলেছেন ফুড গ্রেডের বিষয়টি তাঁদের অধিভুক্ত নয়।

অভিযানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুড গ্রেড তো কোন ফ্লেভার আনে না, এটা শুধু রং আনে। আমাকে যদি আম পরিমাণে কম দেওয়ার কারণেই জরিমানা করা হয়, তাহলে বলে দেওয়া হোক কী পরিমাণ খামিরে কী পরিমাণ আম দিতে হবে। আমি তাই দেব।’

জরিমানার পর জিলাপি বিক্রির অনুমতি দিয়ে আবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা হাসান-আল-মারুফ বলেন, ‘এই জিলাপি তিনি (রসগোল্লার মালিক) বিক্রি করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

‘আমের জিলাপি’ বলে প্রচার করায় রাজশাহীর প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা

আপডেট টাইম : 03:14:59 pm, Saturday, 16 April 2022
রাজশাহী প্রতিনিধি:

প্রতিষ্ঠানটির দুই মালিকের একজন আরাফাত রুবেল। তিনি বলছেন, এ ধরনের অভিযান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানিমূলক। কারণ, প্রথম অভিযানটি চালানোর পর ভোক্তা অধিকার বলেছিল, এই জিলাপি তাঁরা বেচতে পারবেন। কিন্তু তাঁরা চলে যাওয়ার পরই সন্ধ্যায় আবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে জরিমানা করে। বিকেলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের নিয়ে অভিযানে যান। তিনি এই জিলাপিতে সবুজ রঙ আনার জন্য ফুড গ্রেড রাসায়নিক রং ব্যবহারের প্রমাণ পান। এই ফুড গ্রেড ব্যবহার করা যায় কি না তা জানার জন্য তিনি রাষ্ট্রায়াত্ত মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের ডেকে আনেন।

এরপর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ধারাটিতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রি বা সরবরাহ না করলে তিনি এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হবেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা হাসান-আল-মারুফ বলেন, ‘কাঁচা আমের জিলাপির প্রচারণায় প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। তাই জরিমানা করা হয়েছে।’

কী ধরনের প্রতারণা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমের পরিমাণ খুবই কম। ৫ কেজি খামিরে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম আম দেওয়া হয়। এটা খুবই কম।’ তাহলে কত বেশি আম দিতে হবে হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা ওরকম না। সে রকম কোনো হিসাবও নেই। কিন্তু পরিমিত তো দিতে হবে। আর জিলাপিতে ফুড গ্রেড ব্যবহার করা হয়। রসগোল্লা যদি বলত এটা আমের ফ্লেভারের জিলাপি, তাহলে কোনো অসুবিধা ছিল না।’

প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরাফাত রুবেল গত ১০ এপ্রিল আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, তিনি আম ব্লেন্ড করে দেন। কিন্তু এতে যথেষ্ট সবুজ রঙ হয় না। তাই মালয়েশিয়া থেকে আনা ফুড গ্রেড ব্যবহার করেন। এতে কোনো ক্ষতি নেই। আর এটার দাম প্রতিকেজি ৩০ হাজার টাকা। যত কম ব্যবহার করা যায় তিনি সেই চেষ্টাটাই করে থাকেন। তা না হলে খরচ বেড়ে যায়।

রুবেল দাবি করেন, বিকালে ভোক্তা অধিকারের অভিযান শেষে কর্মকর্তারা তাঁকে জানিয়ে যান যে এ জিলাপি তিনি বিক্রি করতে পারবেন। তবে ফেসবুকে প্রচারে ‘আমের জিলাপি’ না লিখে ‘আমের ফ্লেভারে জিলাপি’ লিখতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেটি ফেসবুকে পরিবর্তন করেও দেন। এরপর জিলাপি বিক্রি করছিলেন। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই জিলাপি বিক্রির কারণে আবার ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। তিনি বিএসটিআইয়েরও একজন কর্মকর্তা এনেছিলেন। তখন এই কর্মকর্তাও বলেছেন ফুড গ্রেডের বিষয়টি তাঁদের অধিভুক্ত নয়।

অভিযানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুড গ্রেড তো কোন ফ্লেভার আনে না, এটা শুধু রং আনে। আমাকে যদি আম পরিমাণে কম দেওয়ার কারণেই জরিমানা করা হয়, তাহলে বলে দেওয়া হোক কী পরিমাণ খামিরে কী পরিমাণ আম দিতে হবে। আমি তাই দেব।’

জরিমানার পর জিলাপি বিক্রির অনুমতি দিয়ে আবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা হাসান-আল-মারুফ বলেন, ‘এই জিলাপি তিনি (রসগোল্লার মালিক) বিক্রি করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।’