Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

আড়াই কোটির সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:30:34 pm, Tuesday, 26 April 2022
  • 214 বার

বরগুনা প্রতিনিধি: সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় পাশে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেন গ্রামবাসী। বরগুনার বামনা উপজেলায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু কোনো কাজে আসছে না। বাধ্য হয়ে সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে তা দিয়েই খাল পার হচ্ছে ২০ গ্রামের মানুষ। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের উত্তর রামনা খোলপটুয়া, গোলাঘাটা ও ডৌয়াতলা এই চার এলাকার বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি। রামনা ইউনিয়নের এলাকার বাসিন্দাদের বামনা উপজেলা সদরে যাতায়াতে খোলপটুয়া হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের দাবি, স্থানীয়রা সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমি দিতে চাচ্ছেন না। ফলে ব্যবহার উপযোগী করা যাচ্ছে না সেতুটি।
সেতুর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে গোলাঘাটা-ডৌয়াতলা সড়ক। উত্তর পাড়ে উত্তর রামনা থেকে খোলপটুয়া সড়ক। এই দুই সড়কের সংযোগে সেতুটি। সেতুর উত্তর পাড়ে রামনা শেরেবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের জুন মাসে ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের অনুমোদন দেয় এলজিইডি। এম এম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান পুরোনো লোহার সেতু ভেঙে গার্ডার সেতুর কাজ শুরু করে। পিলার বসানো নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।

২০১৯ সালের শেষের দিকে ফের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে সেতুর উভয় পাড়ের সড়ক অপ্রশস্ত হওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এ অবস্থায় সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে স্থানীয়রা সেতুর পশ্চিম পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে খাল পার হওয়ার ব্যবস্থা করেন।

রামনা শেরেবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন  বলেন, ‘সেতু হওয়ার পরও খাল পার হতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ হওয়াটা জরুরি।’

স্থানীয় রাসেল আহম্মেদ তানু  বলেন, ‘সংযোগ সড়ক না থাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স এই সেতু পার হতে পারে না। আমরা অভিশপ্ত এই জীবন থেকে মুক্তি চাই।’

কলেজ শিক্ষার্থী নিশি আক্তার  বলেন, ‘প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে কলেজে যেতে হয়। সময়মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। কলেজে যেতে দেরি হয়ে যায়। এটি খুবই বিড়ম্বনার ও ভোগান্তির।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার  বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভিটেমাটির জমি ছাড়তে হবে। এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় কাজটি বন্ধ হয়েছে। আমি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলে তারা সড়কের জন্য জমি ছেড়ে দেবেন।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের বরগুনা কার্যালের নির্বাহী প্রকৌশলী সুপ্রিয় মুখার্জি  বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক পুনরায় নির্মাণের জন্য বিভাগীয় প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

আড়াই কোটির সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো

আপডেট টাইম : 09:30:34 pm, Tuesday, 26 April 2022

বরগুনা প্রতিনিধি: সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় পাশে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেন গ্রামবাসী। বরগুনার বামনা উপজেলায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু কোনো কাজে আসছে না। বাধ্য হয়ে সেতুর পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে তা দিয়েই খাল পার হচ্ছে ২০ গ্রামের মানুষ। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের উত্তর রামনা খোলপটুয়া, গোলাঘাটা ও ডৌয়াতলা এই চার এলাকার বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি। রামনা ইউনিয়নের এলাকার বাসিন্দাদের বামনা উপজেলা সদরে যাতায়াতে খোলপটুয়া হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের দাবি, স্থানীয়রা সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমি দিতে চাচ্ছেন না। ফলে ব্যবহার উপযোগী করা যাচ্ছে না সেতুটি।
সেতুর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে গোলাঘাটা-ডৌয়াতলা সড়ক। উত্তর পাড়ে উত্তর রামনা থেকে খোলপটুয়া সড়ক। এই দুই সড়কের সংযোগে সেতুটি। সেতুর উত্তর পাড়ে রামনা শেরেবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের জুন মাসে ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের অনুমোদন দেয় এলজিইডি। এম এম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান পুরোনো লোহার সেতু ভেঙে গার্ডার সেতুর কাজ শুরু করে। পিলার বসানো নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়।

২০১৯ সালের শেষের দিকে ফের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে সেতুর উভয় পাড়ের সড়ক অপ্রশস্ত হওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এ অবস্থায় সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে স্থানীয়রা সেতুর পশ্চিম পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে খাল পার হওয়ার ব্যবস্থা করেন।

রামনা শেরেবাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন  বলেন, ‘সেতু হওয়ার পরও খাল পার হতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ হওয়াটা জরুরি।’

স্থানীয় রাসেল আহম্মেদ তানু  বলেন, ‘সংযোগ সড়ক না থাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স এই সেতু পার হতে পারে না। আমরা অভিশপ্ত এই জীবন থেকে মুক্তি চাই।’

কলেজ শিক্ষার্থী নিশি আক্তার  বলেন, ‘প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে কলেজে যেতে হয়। সময়মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। কলেজে যেতে দেরি হয়ে যায়। এটি খুবই বিড়ম্বনার ও ভোগান্তির।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার  বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভিটেমাটির জমি ছাড়তে হবে। এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় কাজটি বন্ধ হয়েছে। আমি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলে তারা সড়কের জন্য জমি ছেড়ে দেবেন।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের বরগুনা কার্যালের নির্বাহী প্রকৌশলী সুপ্রিয় মুখার্জি  বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক পুনরায় নির্মাণের জন্য বিভাগীয় প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।