Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ টাকারও বেশি

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:18:58 pm, Wednesday, 22 March 2023
  • 142 বার

আমার ডেস্ক:‘ঠিকমতো ভাতই জোটে না। এত দামের খেজুর খামু কীভাবে? বাজারে এসে খেজুরের দাম শুইনা ভয় পাইছি। জিনিসপাতির যে দাম, রমজান মাসে চলমু কীভাবে হেইডা নিয়াই চিন্তায় আছি। খেজুর কেনাতো দূরের কথা। খেজুরের দাম বাড়ায় বাজারে এসে এভাবে নিজের আক্ষেপের কথা বলছিলেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ফুটপাথের কাপড় ব্যবসায়ী রোকন উদ্দিন। তিনি বলেন, খেজুর ছাড়া ইফতারি জমে না। কিন্তু এইবার মনে হয় খেজুর খেতে পারমু না। দোকানে গেলাম নরমাল খেজুরই কেজি ৩০০ টাকা চায়। এই খেজুর কয়েকমাস আগেই ১২০ টাকায় নিয়েছি। রমজান আইলেই সবকিছুর দাম বাড়ে।

পল্টনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সানজিদা আক্তার বলেন, রমজানে পুরো মাসের খেজুর একবারে কিনে রাখি। এবারও ৫ কেজি খেজুর কিনে রাখতে চেয়েছিলাম। তা আর হবে না। বাজারে গিয়ে দেখি খেজুরের দাম অনেক বেড়ে গেছে। দাম এতো বেড়েছে যে ১ কেজি কিনতেই সাহস পাচ্ছি না। ৫ কেজিতো দূরের কথা। মনে হচ্ছে এই রমজানে ফলমূল পাতে তোলা কষ্ট হবে। তিনি বলেন, আগে নিয়মিত ফল খেতাম, এখন আর খাই না। এখন ৩ বেলা খেতে পারলেই বাঁচি। খুচরা বাজারে সাধারণ খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। ভালো মানের খেজুরের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রকারভেদে কিছু কিছু ব্র্যান্ডের খেজুরে ১০০ থেকে ১৫০ টাকাও বেড়েছে।
ফল আমদানিকারক মো. নাসের আহমেদ বলেন, আগে আমরা এলসি খুললে ব্যাংকে বাকি করতাম। এখন বাকির কোনো সিস্টেম নাই। আগে টাকা দেও, পরে সিরিয়ালে থাকো। ১০ কনটেইনার চাহিদা থাকলে দেয় দুই কনটেইনার। এতে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারি না। কোনো ব্যাংক যদি এলসি না দেয়, তাহলে খেজুর-ফল সব জিনিসেরই বাজারে সংকট থাকবে। এতে দাম এমনিতেই বেড়ে যাবে।

পল্টনের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রব মিয়া মানবজমিনকে বলেন, খেজুরের দাম যে নতুন বেড়েছে তা নয়। তিন চার মাস আগেই বেড়েছে। তবে রমজানের আগে আবার বাড়ানো হয়েছে। এখন জাতভেদে বিভিন্ন খেজুর কেজিতে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে উন্নত জাতের খেজুর ১৫০ থকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। দাম বেশি হওয়ায় খেজুরের ক্রেতাও কমে গেছে। আগে রমজানের এক সপ্তাহ আগেই খেজুরের টান থাকতো, এখন কেউই খেজুর নিতে চায় না। দাম শুনেই, চলে যায়। দাম বাড়ায় ক্রেতাদের নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে আমাদের কিন্তু কিছু করার নেই।

কাওরান বাজারের খেজুর বিক্রেতা রহমত উল্যাহ মানবজমিনকে বলেন, সবাই কম দামে খেজুর ও ফলমূল কিনতে কাওরান বাজারে আসে। কিন্তু আমরাও এখন কম দামে দিতে পারছি না। তাই অনেকে দাম শুনে ফেরত যাচ্ছে। বেচা-বিক্রিও অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে চললে ব্যবসা লাটে উঠবে। আর সব জিনিসের দাম বাড়ছে, খেজুরের দাম তো বাড়বেই। এই দোকানি জানান, তার দোকানে ১০-১২ পদের খেজুর আছে। সব খেজুরেই কেজিতে গড়ে ৫০-১০০ টাকা দাম বেড়েছে।

বায়তুল মোকাররম ও কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে খেজুরের দাম অনেক বেড়েছে। মানভেদে ফলটির দাম বেড়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। জাত ও আকারভেদে দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। মাবরুর খেজুর প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, দাবাস প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, নাগাল খেজুর কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে, জাহিদী খেজুর প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, মেডজুল খেজুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, আম্বার খেজুর ৮০০ টাকা, কালমী খেজুর ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, আজওয়া কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, দাবাস খেজুর ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, সাদা খুরমা ৩২০ টাকা, তিউনিশিয়ান ফিট প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, মাশরুখ কেজি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, খালাশ ২২০ টাকা, বরই খেজুর ২৮০ টাকা, ফরিদা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, সুতকারি ৬০০ টাকা, মিনিখি ২৫০ টাকা, নারকেল ৩০০ টাকা।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম শেখ মানবজমিনকে বলেন, কয়েক মাস ধরেই এলসি খোলা যাচ্ছে না। ছোট ছোট আমদানিকারকরা বড় ইম্পোর্টারদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে এতে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ বড় ইম্পোর্টারদেরও খেজুর আনতে টাকা দিতে হচ্ছে। আবার ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। আমদানিতে যেটুকু খরচ বেড়েছে, খেজুরের দাম সেটুকু সমন্বয় হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ টাকারও বেশি

আপডেট টাইম : 06:18:58 pm, Wednesday, 22 March 2023

আমার ডেস্ক:‘ঠিকমতো ভাতই জোটে না। এত দামের খেজুর খামু কীভাবে? বাজারে এসে খেজুরের দাম শুইনা ভয় পাইছি। জিনিসপাতির যে দাম, রমজান মাসে চলমু কীভাবে হেইডা নিয়াই চিন্তায় আছি। খেজুর কেনাতো দূরের কথা। খেজুরের দাম বাড়ায় বাজারে এসে এভাবে নিজের আক্ষেপের কথা বলছিলেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ফুটপাথের কাপড় ব্যবসায়ী রোকন উদ্দিন। তিনি বলেন, খেজুর ছাড়া ইফতারি জমে না। কিন্তু এইবার মনে হয় খেজুর খেতে পারমু না। দোকানে গেলাম নরমাল খেজুরই কেজি ৩০০ টাকা চায়। এই খেজুর কয়েকমাস আগেই ১২০ টাকায় নিয়েছি। রমজান আইলেই সবকিছুর দাম বাড়ে।

পল্টনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সানজিদা আক্তার বলেন, রমজানে পুরো মাসের খেজুর একবারে কিনে রাখি। এবারও ৫ কেজি খেজুর কিনে রাখতে চেয়েছিলাম। তা আর হবে না। বাজারে গিয়ে দেখি খেজুরের দাম অনেক বেড়ে গেছে। দাম এতো বেড়েছে যে ১ কেজি কিনতেই সাহস পাচ্ছি না। ৫ কেজিতো দূরের কথা। মনে হচ্ছে এই রমজানে ফলমূল পাতে তোলা কষ্ট হবে। তিনি বলেন, আগে নিয়মিত ফল খেতাম, এখন আর খাই না। এখন ৩ বেলা খেতে পারলেই বাঁচি। খুচরা বাজারে সাধারণ খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। ভালো মানের খেজুরের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রকারভেদে কিছু কিছু ব্র্যান্ডের খেজুরে ১০০ থেকে ১৫০ টাকাও বেড়েছে।
ফল আমদানিকারক মো. নাসের আহমেদ বলেন, আগে আমরা এলসি খুললে ব্যাংকে বাকি করতাম। এখন বাকির কোনো সিস্টেম নাই। আগে টাকা দেও, পরে সিরিয়ালে থাকো। ১০ কনটেইনার চাহিদা থাকলে দেয় দুই কনটেইনার। এতে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারি না। কোনো ব্যাংক যদি এলসি না দেয়, তাহলে খেজুর-ফল সব জিনিসেরই বাজারে সংকট থাকবে। এতে দাম এমনিতেই বেড়ে যাবে।

পল্টনের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রব মিয়া মানবজমিনকে বলেন, খেজুরের দাম যে নতুন বেড়েছে তা নয়। তিন চার মাস আগেই বেড়েছে। তবে রমজানের আগে আবার বাড়ানো হয়েছে। এখন জাতভেদে বিভিন্ন খেজুর কেজিতে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। তবে উন্নত জাতের খেজুর ১৫০ থকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। দাম বেশি হওয়ায় খেজুরের ক্রেতাও কমে গেছে। আগে রমজানের এক সপ্তাহ আগেই খেজুরের টান থাকতো, এখন কেউই খেজুর নিতে চায় না। দাম শুনেই, চলে যায়। দাম বাড়ায় ক্রেতাদের নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে আমাদের কিন্তু কিছু করার নেই।

কাওরান বাজারের খেজুর বিক্রেতা রহমত উল্যাহ মানবজমিনকে বলেন, সবাই কম দামে খেজুর ও ফলমূল কিনতে কাওরান বাজারে আসে। কিন্তু আমরাও এখন কম দামে দিতে পারছি না। তাই অনেকে দাম শুনে ফেরত যাচ্ছে। বেচা-বিক্রিও অর্ধেকে নেমে এসেছে। এভাবে চললে ব্যবসা লাটে উঠবে। আর সব জিনিসের দাম বাড়ছে, খেজুরের দাম তো বাড়বেই। এই দোকানি জানান, তার দোকানে ১০-১২ পদের খেজুর আছে। সব খেজুরেই কেজিতে গড়ে ৫০-১০০ টাকা দাম বেড়েছে।

বায়তুল মোকাররম ও কাওরান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে খেজুরের দাম অনেক বেড়েছে। মানভেদে ফলটির দাম বেড়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। জাত ও আকারভেদে দামে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। মাবরুর খেজুর প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, দাবাস প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, নাগাল খেজুর কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে, জাহিদী খেজুর প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, মেডজুল খেজুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, আম্বার খেজুর ৮০০ টাকা, কালমী খেজুর ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, আজওয়া কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, দাবাস খেজুর ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, সাদা খুরমা ৩২০ টাকা, তিউনিশিয়ান ফিট প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, মাশরুখ কেজি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, খালাশ ২২০ টাকা, বরই খেজুর ২৮০ টাকা, ফরিদা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, সুতকারি ৬০০ টাকা, মিনিখি ২৫০ টাকা, নারকেল ৩০০ টাকা।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম শেখ মানবজমিনকে বলেন, কয়েক মাস ধরেই এলসি খোলা যাচ্ছে না। ছোট ছোট আমদানিকারকরা বড় ইম্পোর্টারদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে এতে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ বড় ইম্পোর্টারদেরও খেজুর আনতে টাকা দিতে হচ্ছে। আবার ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বেশি দামে আমদানি করতে হচ্ছে। আমদানিতে যেটুকু খরচ বেড়েছে, খেজুরের দাম সেটুকু সমন্বয় হচ্ছে।