সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা মৌয়ালরা জানান, ১৪ দিনের পাশ নিয়ে গত ১ এপ্রিল বনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এবার বনবিভাগের দ্বিগুণ রাজস্বসহ নৌকা ভাড়া, খাবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় ও সবমিলে দলের একজন সদস্যের খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। কিন্তু মধু না পেয়ে প্রথম চালানেই লোকসানে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এমনকি বনে যাওয়ার মতো হাতে টাকা না থাকায় এবার দ্বিতীয়বার আর বনে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মৌয়ালদের অনেক দল।
খুড়িয়াখালী গ্রামের মধু ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এবার এক লাখ টাকা মৌয়ালদের দিয়েছি। যে সংবাদ পাই তাতে চালান ফিরবে কিনা তা দুশ্চিন্তায় আছি।’
তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর সুন্দরবন অঞ্চলে এমন সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। এ কারণে বনের গাছগাছালিতে ফুল আসলেও তা শুকিয়ে ঝরে যায়। ফলে মৌমাছি ও কীটপতঙ্গের খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। তাই মধু না পেয়ে মৌমাছিও আসে না। গত বছরও প্রথম দিকে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে ভালোই মধু পাওয়া গেছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে বনে ফুল এবং মধু পাওয়া যাবে।’
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘পূর্ব সুন্দরবনে এ বছর এক হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৩৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নিয়ে শরণখোলা, চাঁদপাই, ঢাংমারী ও জিউধরা স্টেশন থেকে ১২৭টি পাশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ চলবে। প্রথম চালানে মধু কম হলেও মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কম বা বেশির হিসাব এখনই নির্ধারণ করা যাবে না।’
Md.Liton 











