Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

খালি হাতে ফিরছেন মৌয়ালরা, কপালে চিন্তার ভাঁজ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 10:54:26 pm, Friday, 22 April 2022
  • 129 বার

সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা মৌয়ালরা জানান, ১৪ দিনের পাশ নিয়ে গত ১ এপ্রিল বনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এবার বনবিভাগের দ্বিগুণ রাজস্বসহ নৌকা ভাড়া, খাবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় ও সবমিলে দলের একজন সদস্যের খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। কিন্তু মধু না পেয়ে প্রথম চালানেই লোকসানে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এমনকি বনে যাওয়ার মতো হাতে টাকা না থাকায় এবার দ্বিতীয়বার আর বনে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মৌয়ালদের অনেক দল।

শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের মৌয়াল ইউসুফ মুন্সী জানান, ‘প্রথম গোনে (১৪ দিনে) তার ১০ জনের দলে মধু পেয়েছি মাত্র ১৭ কেজি। জনপ্রতি ভাগে পেয়েছে এক কেজি ৭০০ গ্রাম করে। গত তিন যুগে সুন্দরবনে মধুর এমন বিপর্যয় দেখিনি।’

খুড়িয়াখালী গ্রামের মধু ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এবার এক লাখ টাকা মৌয়ালদের দিয়েছি। যে সংবাদ পাই তাতে চালান ফিরবে কিনা তা দুশ্চিন্তায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর সুন্দরবন অঞ্চলে এমন সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। এ কারণে বনের গাছগাছালিতে ফুল আসলেও তা শুকিয়ে ঝরে যায়। ফলে মৌমাছি ও কীটপতঙ্গের খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। তাই মধু না পেয়ে মৌমাছিও আসে না। গত বছরও প্রথম দিকে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে ভালোই মধু পাওয়া গেছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে বনে ফুল এবং মধু পাওয়া যাবে।’

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘পূর্ব সুন্দরবনে এ বছর এক হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৩৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নিয়ে শরণখোলা, চাঁদপাই, ঢাংমারী ও জিউধরা স্টেশন থেকে ১২৭টি পাশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ চলবে। প্রথম চালানে মধু কম হলেও মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কম বা বেশির হিসাব এখনই নির্ধারণ করা যাবে না।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

খালি হাতে ফিরছেন মৌয়ালরা, কপালে চিন্তার ভাঁজ

আপডেট টাইম : 10:54:26 pm, Friday, 22 April 2022

সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা মৌয়ালরা জানান, ১৪ দিনের পাশ নিয়ে গত ১ এপ্রিল বনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এবার বনবিভাগের দ্বিগুণ রাজস্বসহ নৌকা ভাড়া, খাবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় ও সবমিলে দলের একজন সদস্যের খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। কিন্তু মধু না পেয়ে প্রথম চালানেই লোকসানে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এমনকি বনে যাওয়ার মতো হাতে টাকা না থাকায় এবার দ্বিতীয়বার আর বনে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মৌয়ালদের অনেক দল।

শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের মৌয়াল ইউসুফ মুন্সী জানান, ‘প্রথম গোনে (১৪ দিনে) তার ১০ জনের দলে মধু পেয়েছি মাত্র ১৭ কেজি। জনপ্রতি ভাগে পেয়েছে এক কেজি ৭০০ গ্রাম করে। গত তিন যুগে সুন্দরবনে মধুর এমন বিপর্যয় দেখিনি।’

খুড়িয়াখালী গ্রামের মধু ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এবার এক লাখ টাকা মৌয়ালদের দিয়েছি। যে সংবাদ পাই তাতে চালান ফিরবে কিনা তা দুশ্চিন্তায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর সুন্দরবন অঞ্চলে এমন সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। এ কারণে বনের গাছগাছালিতে ফুল আসলেও তা শুকিয়ে ঝরে যায়। ফলে মৌমাছি ও কীটপতঙ্গের খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। তাই মধু না পেয়ে মৌমাছিও আসে না। গত বছরও প্রথম দিকে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে ভালোই মধু পাওয়া গেছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে বনে ফুল এবং মধু পাওয়া যাবে।’

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ‘পূর্ব সুন্দরবনে এ বছর এক হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৩৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নিয়ে শরণখোলা, চাঁদপাই, ঢাংমারী ও জিউধরা স্টেশন থেকে ১২৭টি পাশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ চলবে। প্রথম চালানে মধু কম হলেও মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কম বা বেশির হিসাব এখনই নির্ধারণ করা যাবে না।’