স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় শোলমারী সেতুর নিচে কাজীবাছা নদীতে চালু হয়েছে ভাসমান রেস্টুরেন্ট। প্লাস্টিকের ড্রাম, কাঠ, টিন ও লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই রেস্টুরেন্ট। এক সঙ্গে ৬০ জন বসতে পারছে এই রেস্টুরেন্টে। উদ্বোধনের ২ দিনের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে রেস্টুরেন্টটি। বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীরা ছুটে যাচ্ছেন সেখানে।
বটিয়াঘাটায় কাজীবাছা নদীতে ১৫ এপ্রিল চালু করা এই রেস্টুরেন্টের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেঘবিন্দু ভাসমান রেস্টুরেন্ট’। বটিয়াঘাটার জলমার এলাকার বাসিন্দা মেঘনাথ সরকার ও তার চাচাতো ভাই শিবেন্দু কবিরাজ চালু করেছেন এটি। রেস্টুরেন্ট মালিক মেঘনাথ সরকার জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে রেস্টুরেন্ট তৈরির কাজ শুরু করা হয় এবং গত ১৪ এপ্রিল কাজ শেষ হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়েছে। এই রেস্টুরেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ১০০টি প্লাস্টিকের ড্রাম। ১২টি রুমে মোট ৬০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।
তিনি জানান, রোজার মাস হওয়ায় প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র চা-কফি বিক্রি করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে চালু করা হবে চাইনিজ খাবার আইটেম। পরবর্তীতে বাঙালি খাবার চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে। ছোট পরিসরে হলেও রেস্টুরেন্টটি ‘ইউনিক’। খুলনা বিভাগে এ ধরনের কোনো রেস্টুরেন্ট নেই।
তিনি আরও জানান, রেস্টুরেন্টটি আপাতত নদীর চরে করা হয়েছে। জোয়ারের সময় এটি পানির ওপর ভেসে থাকে। আবার ভাটার সময় পানি নেমে যায়। শিগগিরই রেস্টুরেন্টটিকে মূল নদীর মধ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। আপাতত নদীর চরে খাস জমিতে রেস্টুরেন্ট চালানোর ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
রেস্টুরেন্টটির আরেক মালিক শিবেন্দু কবিরাজ বলেন, বিভিন্ন স্থানে ভাসমান সেতু দেখে ভাসমান রেস্টুরেন্ট করার পরিকল্পনা মাথায় আসে। সে অনুযায়ী এই রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে। তিনি এবং তার চাচাতো ভাই মেঘনাথ সরকার ২ জনই মাস্টার্সের ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি আয় করার উদ্দেশ্যে এই রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন। তিনি জানান, রেস্টুরেন্টর পাশাপাশি এখানে আসা লোকজন ইচ্ছা করলে নৌকায় করে নদীতে ঘুরে বেড়াতে পারবে। এজন্য তাদের ৬টি নৌকা ও ২টি ট্রলার রয়েছে।
সরেজমিনে শনিবার দুপুর ১২টায় ভাসমান রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০-২৫ জন রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছেন। তাদের সবাই-ই যে চা-কফি খাচ্ছেন এমন নয়। কেউ চা-কফি খাচ্ছেন, আবার বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীই ছবি তোলায় ব্যস্ত। নদী দিয়ে বড় কোনো জলযান গেলে রেস্টুরেন্ট হালকা দুলছে।
রেস্টুরেন্টে আসা নগরীর বিএল কলেজের ছাত্র সুমন দে ও তার সহপাঠী শিউলি বলেন, তারা এখানে এসে কফি খেয়েছেন। তবে রেস্টুরেন্টের খাবারের প্রতি যতটা না আকর্ষণ তার চেয়ে বেশি আকর্ষণ ঘুরে দেখার জন্য। তারা এখানে এসে ছবি তুলেছেন, ফেসবুকে দিয়েছেন, এতেই যেন তৃপ্তি। নদীর মধ্যে বাতাসে মনোমুঙ্কর পরিবেশ।
বটিয়াঘাটা উপজেলার বিরাট গ্রামের কামাল হোসেন ও তার বন্ধু মশিউর শেখ বলেন, তারা মোটরসাইকেলে করে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। সেতুর উপর থেকে ভাসমান রেস্টুরেন্ট দেখে এখানে আসেন। সেতুর উপর থেকে রেস্টুরেন্টটিকে সুন্দর দেখা যায়।
Md.Liton 











