Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 02:13:05 am, Monday, 20 February 2023
  • 131 বার

আমার ডেস্ক:খেলাপি ঋণ কমানো নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে গত এক বছরে এই ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিলো ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকার বেশি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল টাকার অঙ্কে নয়, খেলাপি বেড়েছে শতকরা হিসাবেও। ডিসেম্বরে মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ১৬ শতাংশই খেলাপি, যা গত বছরের একই সময়ে ছিলো ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ সময় ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালের একই সময়ে মোট ঋণ দেয়া হয়েছিল ১৩ লাখ ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান শর্ত ছিলো, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা। গত বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বাড়লেও চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তা কমে আসে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আজ থেকে আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। এ বিষয়ে ব্যাংক মালিকরা তাকে কথা দিয়েছেন। বরং এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

তবে অর্থমন্ত্রীর সেই কথার বাস্তব প্রতিফলন নেই। বরং তিন বছর ধরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে খেলাপি ঋণে ঊর্ধ্বগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

খেলাপির হার বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে

ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ও বেসিক- এই ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৫৬ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪২১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৫৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা, যা মোট ‍ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। এর আগে জুন শেষে তাদের খেলাপি ঋণ ছিল ৬২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশই খেলাপি হয়ে আছে। মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ৫৭ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিশেষায়িত তিন ব্যাংক

বিশেষায়িত কৃষি, প্রবাসীকল্যাণ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন- এ তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। এ অঙ্ক তাদের বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বিদেশি মালিকানার ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে। এসব ব্যাংকের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা, বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে

আপডেট টাইম : 02:13:05 am, Monday, 20 February 2023

আমার ডেস্ক:খেলাপি ঋণ কমানো নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে গত এক বছরে এই ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিলো ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকার বেশি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেবল টাকার অঙ্কে নয়, খেলাপি বেড়েছে শতকরা হিসাবেও। ডিসেম্বরে মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ১৬ শতাংশই খেলাপি, যা গত বছরের একই সময়ে ছিলো ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ সময় ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালের একই সময়ে মোট ঋণ দেয়া হয়েছিল ১৩ লাখ ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান শর্ত ছিলো, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা। গত বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বাড়লেও চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) তা কমে আসে।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আজ থেকে আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। এ বিষয়ে ব্যাংক মালিকরা তাকে কথা দিয়েছেন। বরং এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

তবে অর্থমন্ত্রীর সেই কথার বাস্তব প্রতিফলন নেই। বরং তিন বছর ধরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে খেলাপি ঋণে ঊর্ধ্বগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

খেলাপির হার বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে

ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ও বেসিক- এই ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৫৬ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ সময়ে ব্যাংকগুলো ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪২১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৫৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা।

সেপ্টেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা, যা মোট ‍ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। এর আগে জুন শেষে তাদের খেলাপি ঋণ ছিল ৬২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশই খেলাপি হয়ে আছে। মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ৫৭ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

বিশেষায়িত তিন ব্যাংক

বিশেষায়িত কৃষি, প্রবাসীকল্যাণ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন- এ তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। এ অঙ্ক তাদের বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বিদেশি মালিকানার ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে। এসব ব্যাংকের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।