Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

চিংড়ি: জেলি-যুক্ত চিংড়ি চিনবেন কীভাবে? এটা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:47:50 pm, Sunday, 29 May 2022
  • 127 বার

বিবিসি বাংলা, ঢাকা:বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মাছের আড়তে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে যে অভ্যন্তরীণ বাজারে মাথায় জেলি-যুক্ত চিংড়ি বিক্রি করা হচ্ছেজেলি-যুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাছের আড়তের বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ নাদিম। মি. শাহ বলেন, তারা যাত্রাবাড়ীর বেশ কয়েকটি আড়তে গেছেন। এসব আড়তের যেসব দোকানি চিংড়ি মাছ বিক্রি করছিল, তাদের প্রায় সবার কাছ থেকেই জেলি দেয়া মাছ উদ্ধার করেছেন তারা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ নাদিম বলেন, জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবারের ওই অভিযানে ছিলেন ঢাকা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, জেলি থাকার কারণে দুই হাজার কেজির মতো চিংড়ি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

মি. রশিদ জানান, সাধারণত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট- যেখানে চিংড়ি উৎপাদিত হয়, সেখানে চিংড়ি ধরে বাজারে আনার আগেই সেগুলোতে এই জেলি পুশ করা হয়। তাই, বাজারে জেলি-যুক্ত চিংড়ি বিক্রি বন্ধ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। মূলত ওজন বাড়ানোর জন্যই বিক্রেতারা এমনটা করে বলে জানান মি. রশিদ। “চিংড়িকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ এর আগে রপ্তানির জন্য পাঠানো চিংড়িতে সাগু থাকার কারণে সেটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সেরকম কিছু যাতে আর না ঘটে,” বলছিলেন মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।

কীভাবে চিনবেন জেলিযুক্ত চিংড়ি?

বাজারে চিংড়ি কিনতে গেলে কোনটিতে জেলি আছে আর কোনটিতে জেলি নেই দেখে বোঝার তেমন কোন উপায় নেই বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তারা। তবে এক্ষেত্রে ক্রেতাকে সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান তারা।

মৎস্য কর্মকর্তা মি. রশিদ বলেন, খালি চোখে দূর থেকে দেখলে বোঝা যাবে না যে চিংড়িতে জেলি আছে কিনা। এর জন্য কাছে গিয়ে দেখতে হবে। তবে নিশ্চিত হতে হলে চিংড়ি মাছের মাথা ভেঙ্গে তারপর দেখতে হবে যে সেখানে কোন তরল পদার্থ আছে কিনা। যদি চিংড়ি মাছ প্রাকৃতিক হয়ে থাকে তাহলে মাথা ভাঙ্গার পরও সেখানে থাকা দ্রব্যগুলো সহজেই ছড়িয়ে পড়বে না।”আর যদি জেলি দেয়া থাকে তাহলে মাথা ভাঙ্গার সাথে সাথে সেখানে আলগা একটি বস্তু দেখা যাবে, নিচু করে ধরলে সেটা সবটা বেরিয়ে আসতে চাইবে।তখন দেখেই বোঝা যাবে যে আলাদা কোন বস্তু সেখানে প্রবেশ করানো হয়েছে। তবে অনেক সময় দোকানদার কিংবা মাছ-বিক্রেতারা মাথা ভেঙ্গে দেখতে দিতে চান না। তাই জেলি-যুক্ত চিংড়ির বাজারজাতকরণ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

জেলি-যুক্ত চিংড়ি কি ক্ষতিকর?

জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকাতেই প্রায় দুই কোটি মানুষ স্থানীয় বাজার থেকে মাছের চাহিদা পূরণ করে থাকেন। যার মধ্যে অন্যতম চিংড়ি। জনপ্রিয় এই মাছে জেলির উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের সাধারণ ভোক্তারাও।

সামান্তা খালিদ নামে এক ক্রেতা বলেন, চিংড়ি কিনে বাসায় আনার পর কাটলে বোঝা যায় যে ভেতরে কিছু একটা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় না জেনেই সেটা খেয়ে ফেলে অনেকে। এটা ক্ষতিকর সেটা তিনি জানতেন বলেও জানান।

খাদ্য ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, চিংড়ি মাছের ভেতরে যে জেলি পাওয়া যায় তা পুরোটাই প্লাস্টিক।

এছাড়া সাগু বা অনেক সময় সাদা পাথর এবং ধাতব পদার্থও পাওয়া যায়। আর এগুলো খেলে কিডনি ও পাকস্থলীর জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদ ইমদাদ হোসেন শপথ। পাথর এমনিতেই হজম হয় না। সেটা পাকস্থলীতে গিয়ে জমে থাকে। যার কারণে এক ধরনের অস্বস্তি এবং পাকস্থলীর প্রদাহ তৈরি করে।”জেলির যে কেমিক্যাল সাবস্ট্যান্স সেটা একেবারেই ডাইজেস্ট হবে না। এটা পাকিস্থলীতে থেকে ক্ষতিসাধন করতে পারে এবং এটা কিডনির জন্য ক্ষতিকর।”খাবারের সাথে যেকোনো অপ্রত্যাশিত বস্তু যা খাবার নয় সেটা থাকাটাই ক্ষতিকর। চিংড়ি ছাড়াও সাদা পোয়া মাছ লাল করতে লাল রং এবং শিং মাছের রং প্রাকৃতিক বানাতেও এগুলোর সাথে রং মিশ্রিত করা হয় বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

চিংড়ি: জেলি-যুক্ত চিংড়ি চিনবেন কীভাবে? এটা কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

আপডেট টাইম : 09:47:50 pm, Sunday, 29 May 2022

বিবিসি বাংলা, ঢাকা:বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মাছের আড়তে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব অভিযানের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে যে অভ্যন্তরীণ বাজারে মাথায় জেলি-যুক্ত চিংড়ি বিক্রি করা হচ্ছেজেলি-যুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাছের আড়তের বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ নাদিম। মি. শাহ বলেন, তারা যাত্রাবাড়ীর বেশ কয়েকটি আড়তে গেছেন। এসব আড়তের যেসব দোকানি চিংড়ি মাছ বিক্রি করছিল, তাদের প্রায় সবার কাছ থেকেই জেলি দেয়া মাছ উদ্ধার করেছেন তারা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ নাদিম বলেন, জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবারের ওই অভিযানে ছিলেন ঢাকা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, জেলি থাকার কারণে দুই হাজার কেজির মতো চিংড়ি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

মি. রশিদ জানান, সাধারণত খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট- যেখানে চিংড়ি উৎপাদিত হয়, সেখানে চিংড়ি ধরে বাজারে আনার আগেই সেগুলোতে এই জেলি পুশ করা হয়। তাই, বাজারে জেলি-যুক্ত চিংড়ি বিক্রি বন্ধ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। মূলত ওজন বাড়ানোর জন্যই বিক্রেতারা এমনটা করে বলে জানান মি. রশিদ। “চিংড়িকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ এর আগে রপ্তানির জন্য পাঠানো চিংড়িতে সাগু থাকার কারণে সেটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সেরকম কিছু যাতে আর না ঘটে,” বলছিলেন মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ।

কীভাবে চিনবেন জেলিযুক্ত চিংড়ি?

বাজারে চিংড়ি কিনতে গেলে কোনটিতে জেলি আছে আর কোনটিতে জেলি নেই দেখে বোঝার তেমন কোন উপায় নেই বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তারা। তবে এক্ষেত্রে ক্রেতাকে সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান তারা।

মৎস্য কর্মকর্তা মি. রশিদ বলেন, খালি চোখে দূর থেকে দেখলে বোঝা যাবে না যে চিংড়িতে জেলি আছে কিনা। এর জন্য কাছে গিয়ে দেখতে হবে। তবে নিশ্চিত হতে হলে চিংড়ি মাছের মাথা ভেঙ্গে তারপর দেখতে হবে যে সেখানে কোন তরল পদার্থ আছে কিনা। যদি চিংড়ি মাছ প্রাকৃতিক হয়ে থাকে তাহলে মাথা ভাঙ্গার পরও সেখানে থাকা দ্রব্যগুলো সহজেই ছড়িয়ে পড়বে না।”আর যদি জেলি দেয়া থাকে তাহলে মাথা ভাঙ্গার সাথে সাথে সেখানে আলগা একটি বস্তু দেখা যাবে, নিচু করে ধরলে সেটা সবটা বেরিয়ে আসতে চাইবে।তখন দেখেই বোঝা যাবে যে আলাদা কোন বস্তু সেখানে প্রবেশ করানো হয়েছে। তবে অনেক সময় দোকানদার কিংবা মাছ-বিক্রেতারা মাথা ভেঙ্গে দেখতে দিতে চান না। তাই জেলি-যুক্ত চিংড়ির বাজারজাতকরণ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

জেলি-যুক্ত চিংড়ি কি ক্ষতিকর?

জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকাতেই প্রায় দুই কোটি মানুষ স্থানীয় বাজার থেকে মাছের চাহিদা পূরণ করে থাকেন। যার মধ্যে অন্যতম চিংড়ি। জনপ্রিয় এই মাছে জেলির উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের সাধারণ ভোক্তারাও।

সামান্তা খালিদ নামে এক ক্রেতা বলেন, চিংড়ি কিনে বাসায় আনার পর কাটলে বোঝা যায় যে ভেতরে কিছু একটা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় না জেনেই সেটা খেয়ে ফেলে অনেকে। এটা ক্ষতিকর সেটা তিনি জানতেন বলেও জানান।

খাদ্য ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, চিংড়ি মাছের ভেতরে যে জেলি পাওয়া যায় তা পুরোটাই প্লাস্টিক।

এছাড়া সাগু বা অনেক সময় সাদা পাথর এবং ধাতব পদার্থও পাওয়া যায়। আর এগুলো খেলে কিডনি ও পাকস্থলীর জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদ ইমদাদ হোসেন শপথ। পাথর এমনিতেই হজম হয় না। সেটা পাকস্থলীতে গিয়ে জমে থাকে। যার কারণে এক ধরনের অস্বস্তি এবং পাকস্থলীর প্রদাহ তৈরি করে।”জেলির যে কেমিক্যাল সাবস্ট্যান্স সেটা একেবারেই ডাইজেস্ট হবে না। এটা পাকিস্থলীতে থেকে ক্ষতিসাধন করতে পারে এবং এটা কিডনির জন্য ক্ষতিকর।”খাবারের সাথে যেকোনো অপ্রত্যাশিত বস্তু যা খাবার নয় সেটা থাকাটাই ক্ষতিকর। চিংড়ি ছাড়াও সাদা পোয়া মাছ লাল করতে লাল রং এবং শিং মাছের রং প্রাকৃতিক বানাতেও এগুলোর সাথে রং মিশ্রিত করা হয় বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা।