Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসিডিডিআর-বি’র পরামর্শ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:10:34 pm, Tuesday, 29 March 2022
  • 143 বার

নিউজ ডেস্ক :

দেশে ডায়রিয়ার রোগী বেড়েই চলেছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে (আইসিডিডিআর,বি)  প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে সহস্রাধিক রোগী। আগে গড়পড়তায় দিনে ভর্তি হতো ৪০০-৫০০ জনের মতো। ২৭ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনলাইন বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, গ্রীষ্ম আসার আগেই দেশে ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে বেড়েছে বেশি। ডায়রিয়া মোকাবিলায় বিশুদ্ধ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসা শুরু করা উচিত। ডায়রিয়াজনিত রোগ এখনও বিলুপ্ত হয়নি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ অন্যান্য লজিস্টিকের সরবরাহ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আইসিডিডিআর,বি জানায়, গতকাল (২৮ মার্চ) এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছে এই হাসপাতালে গত ২৮ মার্চ ভর্তি হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক রোগ২২ মার্চে ভর্তি হয়েছিল এক হাজার ২৭২ জন। তবে ২২ মার্চের রেকর্ড ছাড়িয়ে সোমবার ২৮ মার্চ নতুন রেকর্ড হয়েছে। ২৮ মার্চ একদিনে রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৩৩৪ জন। তার আগে ২৫ মার্চে এক হাজার ১৩৪ জন, ২৬ মার্চে এক হাজার ২৪৫ জন, ২৭ মার্চে এক হাজার ২৩০ জন ও মঙ্গলবার ২৯ মার্চ দুপুর ২টা পর্যন্ত ভর্তি হয় ৭৬৯ জন রোগী। এর আগে গত ১৬ মার্চ এই হাসপাতালে ভর্তি হয় এক হাজার ৫৭ জন, ১৭ মার্চ এক হাজার ১৪১ জন, ১৮ মার্চ এক হাজার ১৭৪, ১৯ মার্চ এক হাজার ১৩৫, ২০ মার্চ এক হাজার ১৫৭, ২১ মার্চ এক হাজার ২১৬, ২২ মার্চ এক হাজার ২৭২, ২৩ মার্চ এক হাজার ২৩৩ ও ২৪ মার্চ এক হাজার ১৭৪ জন ভর্তি হয়। আইসিডিডিআর,বি জানাচ্ছে, যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছে তাদের অনেকের বয়স পাঁচ বছরের কম। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ডায়রিয়া থেকে তাৎক্ষণিক আরোগ্য লাভ হয় না। নিয়ম মেনে খাবার স্যালাইন আর পথ্য খেলে ধীরে ধীরে ভালো হয়।প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, ডায়রিয়া হলে এক প্যাকেট স্যালাইন আধা লিটার পানিতে গুলিয়ে খেতে হবে। ১০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতিবার পায়খানার পর ১ গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) স্যালাইন খেতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে, প্রতিবার পায়খানার পর শিশুর ওজন যত কেজি তত চা-চামচ বা যতটুকু পায়খানা হয়েছে আনুমানিক সেই পরিমাণ খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সেইসঙ্গে শিশু বমি করলে ধীরে ধীরে খাওয়াতে হবে। যেমন—৩ বা ৪ মিনিট পর পর ১ চা-চামচ করে।
ডায়রিয়াতে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি ২ বছরের নিচের শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ দিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই তা বন্ধ করা যাবে না। ছয় মাসের বেশি বয়সী রোগীকে স্যালাইনের পাশাপাশি সব ধরনের স্বাভাবিক খাবারও দিতে হবে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। ছয় মাস থেকে ৫ বছরের শিশুকে প্রতিদিন ১টি করে জিংক ট্যাবলেট পানিতে গুলিয়ে ১০ দিন খাওয়াতে হবে। রোগীকে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি বেশি বেশি তরল খাবার যেমন—ডাবের পানি, চিড়ার পানি, স্যুপ খাওয়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি বলছে, কোমল পানীয়, ফলের জুস, আঙ্গুর, বেদানা খাওয়ানো যাবে না। যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে দ্রুত হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথবা ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডায়রিয়া থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, পানি ফোটানোর সময় বলক ওঠার পর আরও পাঁচ মিনিট চুলায় রাখুন। এরপর ঠান্ডা হলে পান করুন। ফোটানোর ব্যবস্থা না থাকলে প্রতি ৩ লিটার পানিতে একটি পানি-বিশুদ্ধকরণ ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে পানি নিরাপদ করতে হবে। সেইসঙ্গে রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর ও উন্মুক্ত খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া খাবার আগে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাতও ধুয়ে নিতে হবে।
শিশুদের ফিডার এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। তবে যদি খাওয়াতেই হয়, তবে ফোটানো পানি ও সাবান দিয়ে ভালো করে ফিডারটি ধুয়ে নিতে বলা হয়েছে। ফিডারের নিপল-এর ছিদ্রটিও ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসিডিডিআর-বি’র পরামর্শ

আপডেট টাইম : 09:10:34 pm, Tuesday, 29 March 2022

নিউজ ডেস্ক :

দেশে ডায়রিয়ার রোগী বেড়েই চলেছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে (আইসিডিডিআর,বি)  প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে সহস্রাধিক রোগী। আগে গড়পড়তায় দিনে ভর্তি হতো ৪০০-৫০০ জনের মতো। ২৭ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনলাইন বুলেটিনে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, গ্রীষ্ম আসার আগেই দেশে ডায়রিয়া রোগী বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে বেড়েছে বেশি। ডায়রিয়া মোকাবিলায় বিশুদ্ধ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, রোগের প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসা শুরু করা উচিত। ডায়রিয়াজনিত রোগ এখনও বিলুপ্ত হয়নি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ অন্যান্য লজিস্টিকের সরবরাহ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আইসিডিডিআর,বি জানায়, গতকাল (২৮ মার্চ) এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছে এই হাসপাতালে গত ২৮ মার্চ ভর্তি হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক রোগ২২ মার্চে ভর্তি হয়েছিল এক হাজার ২৭২ জন। তবে ২২ মার্চের রেকর্ড ছাড়িয়ে সোমবার ২৮ মার্চ নতুন রেকর্ড হয়েছে। ২৮ মার্চ একদিনে রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৩৩৪ জন। তার আগে ২৫ মার্চে এক হাজার ১৩৪ জন, ২৬ মার্চে এক হাজার ২৪৫ জন, ২৭ মার্চে এক হাজার ২৩০ জন ও মঙ্গলবার ২৯ মার্চ দুপুর ২টা পর্যন্ত ভর্তি হয় ৭৬৯ জন রোগী। এর আগে গত ১৬ মার্চ এই হাসপাতালে ভর্তি হয় এক হাজার ৫৭ জন, ১৭ মার্চ এক হাজার ১৪১ জন, ১৮ মার্চ এক হাজার ১৭৪, ১৯ মার্চ এক হাজার ১৩৫, ২০ মার্চ এক হাজার ১৫৭, ২১ মার্চ এক হাজার ২১৬, ২২ মার্চ এক হাজার ২৭২, ২৩ মার্চ এক হাজার ২৩৩ ও ২৪ মার্চ এক হাজার ১৭৪ জন ভর্তি হয়। আইসিডিডিআর,বি জানাচ্ছে, যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছে তাদের অনেকের বয়স পাঁচ বছরের কম। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ডায়রিয়া থেকে তাৎক্ষণিক আরোগ্য লাভ হয় না। নিয়ম মেনে খাবার স্যালাইন আর পথ্য খেলে ধীরে ধীরে ভালো হয়।প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে, ডায়রিয়া হলে এক প্যাকেট স্যালাইন আধা লিটার পানিতে গুলিয়ে খেতে হবে। ১০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতিবার পায়খানার পর ১ গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) স্যালাইন খেতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে, প্রতিবার পায়খানার পর শিশুর ওজন যত কেজি তত চা-চামচ বা যতটুকু পায়খানা হয়েছে আনুমানিক সেই পরিমাণ খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সেইসঙ্গে শিশু বমি করলে ধীরে ধীরে খাওয়াতে হবে। যেমন—৩ বা ৪ মিনিট পর পর ১ চা-চামচ করে।
ডায়রিয়াতে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি ২ বছরের নিচের শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ দিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই তা বন্ধ করা যাবে না। ছয় মাসের বেশি বয়সী রোগীকে স্যালাইনের পাশাপাশি সব ধরনের স্বাভাবিক খাবারও দিতে হবে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। ছয় মাস থেকে ৫ বছরের শিশুকে প্রতিদিন ১টি করে জিংক ট্যাবলেট পানিতে গুলিয়ে ১০ দিন খাওয়াতে হবে। রোগীকে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি বেশি বেশি তরল খাবার যেমন—ডাবের পানি, চিড়ার পানি, স্যুপ খাওয়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর,বি বলছে, কোমল পানীয়, ফলের জুস, আঙ্গুর, বেদানা খাওয়ানো যাবে না। যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে দ্রুত হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথবা ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডায়রিয়া থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, পানি ফোটানোর সময় বলক ওঠার পর আরও পাঁচ মিনিট চুলায় রাখুন। এরপর ঠান্ডা হলে পান করুন। ফোটানোর ব্যবস্থা না থাকলে প্রতি ৩ লিটার পানিতে একটি পানি-বিশুদ্ধকরণ ক্লোরিন ট্যাবলেট দিয়ে পানি নিরাপদ করতে হবে। সেইসঙ্গে রাস্তার পাশের অস্বাস্থ্যকর ও উন্মুক্ত খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া খাবার আগে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাতও ধুয়ে নিতে হবে।
শিশুদের ফিডার এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। তবে যদি খাওয়াতেই হয়, তবে ফোটানো পানি ও সাবান দিয়ে ভালো করে ফিডারটি ধুয়ে নিতে বলা হয়েছে। ফিডারের নিপল-এর ছিদ্রটিও ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।