স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট: লতাপাতার ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার তরমুজ। বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তিন বন্ধুর। প্রথমবারের মতো উপজেলার বলেশ্বর নদীর বেড়িবাঁধের পাশে জিলবুনিয়া গ্রামের লোকমান, মামুন ও মানিক তিন বিঘা জমিতে এই তরমুজ চাষ করেছেন। ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী গ্রাম জিলবুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ বংশ পরম্পরায় মাছ ধরা পেশার সাথে জড়িত। সেই আদি পেশা মাছ ধরা বাদ দিয়ে তরমুজ চাষ করে চমক দেখিয়েছেন তিন বন্ধু। তাদের এই সাফল্যে দেখে এলাকার অনেকেই আগামীতে তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, এক ফসলী ও পতিত জমিতে তরমুজ চাষে সফলতা দেখে আগামীতে তিন ফসলী জমিতে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরমর্শ দেওয়া হচ্ছে। জিলবুনিয়া গ্রামে তিন বন্ধুর তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

লোকমান সরদার নামের অপর এক চাষি বলেন, তিন বন্ধু মিলে প্রতিবেশীদের তিন বিঘা জমি নগদ টাকায় বন্দোবস্ত নেই। আশা করছি মৌসুম শেষে খরচ বাদ আমাদের প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ থাকবে।
চাষি মামুন বলেন, এখানে তরমুজ আকারে যেমন বড় হয়, তেমনি খেতেও অনেক সুস্বাদু হয়। পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই প্রতি কেজি তরমুজ ৩০ টাকা ও প্রতি মণ ১২ হাজার টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন। আমাদের এলাকার জমিতে একবার আমন ধান ফলানোর পরে সারাবছর পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। তাই পতিত এ জমি ব্যবহার করে শরণখোলায় পরিকল্পিত তরমুজ চাষের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় নুর মুহাম্মদ বলেন, এই প্রথমবারের মতো আমাদের এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ হয়েছে। সামনের দিনে আমরাও পতিত জমিতে তরমুজের চাষ করবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, বলেশ্বর ও ভোলা নদীর তীরবর্তী শরণখোলা উপজেলায় তরমুজ চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলের পানিতে সহনশীল মাত্রার লবণাক্ততা আছে। যা তরমুজ চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ ছাড়া কম সময়ে, কম পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ার জন্য তরমুজ একটি ভালো অর্থকরী ফসল। তরমুজ চাষে আগ্রহী চাষিদের উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
Md.Liton 











