Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

দশ লক্ষ টাকায়ও সুস্থ্য হয়নি হুজাইফা, পুনঃঅপারেশনে প্রয়োজন ৫ লক্ষ টাকা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:59:10 pm, Tuesday, 4 October 2022
  • 158 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:
১১ মাসে দশ লক্ষ টাকা ব্যয় ও হার্টের অপরেশনের পরেও সুস্থ হয়নি ১৯ মাস বয়সী হুজাইফা ইসলাম। দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে অবুঝ শিশুটি। বয়স ও শরীরের সাথে হার্টের বৃদ্ধি হচ্ছে না, উপরন্তু হার্টের ভাল্ব আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আবারও ওপেন হার্ট সার্জারির তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। যার জন্য ব্যয় হবে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। এই অবস্থায় সন্তানের চিকিৎসায় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন হুজাইফার বাবা বায়জিদুল ইসলাম সুমন।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার চরকাঠি গ্রামের সুমন ও শারমিন হোসেন দম্পতির ঘরে ১৯ মাস আগে জন্ম হয় হুজাইফার। জন্মের সময় সুস্থ ও সবল ছিলেন হুজাইফা। আট মাস বয়সে হওয়া সর্দি না কমায়, শিশু বিশেষজ্ঞের দারস্থ হন হুজাইফার বাবা-মা। চিকিৎসক প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারেন বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে খুলনা সিটি মেডিকেলে এক্সরেসহ বিভিন্ন ধরণের ডায়গনোসিসে জানা যায় হুজাইফার হার্টে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। সিটি মেডিকেল থেকে দ্রæত ঢাকা নিতে বলা হয়। হার্ট ফাউন্ডেশনে নানা ধরণের পরীক্ষার নিরিক্ষার পরে, ওপেন হার্ট সার্জারী হয় হুজাইফার। এক মাস দশদিন আইসিইউ এবং লাইফ সাপোর্টে থেকে হাসপাতাল ছাড়েন হুজাইফা। এত দিনে হুজাইফার বাবার জমি ও গাছ বিক্রির ১০ লক্ষাধিক টাকা শেষ। ছেলের চিকিৎসা ও দেখভালের জন্য ৮ মাস আগে বেসরকারি চাকুরীও ছেড়েছেন সুমন। এখন ছেলের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করা সুমনের পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
সুমনের প্রতিবেশী সাইদুল শেখ বলেন, ছেলেটার মুখের দিকে তাকানো যায় না। সব সময় মুখ কালো থাকে। ছেলের জন্য সুমনের পরিবারেরও সবার মন খারাপ থাকে। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সুমনরা আর্থিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাড়ির গাছ-মাঠের জমি সব বিক্রি করেছেন ছেলের জন্য। এখন আর সুমনদের তেমন কিছু নেই। সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়ালে শিশুটি বেঁচে যেত।
হুজাইফার বাবা বায়জিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ছেলেকে সুস্থ্য করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। চাকুরি ছেড়েছি, বাবার জমি বিক্রি করেছি। মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা গাছ বিক্রি করেছি। দিনের পর দিন হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। কিন্তু আমার ছেলে সুস্থ্য হয়নি। ছেলের কান্নায় রাতে ঘুম আসেনা। সমস্যা আরও গুরুত্বর হচ্ছে। কি হবে জানিনা। অপারেশনের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা লাগবে। কোথায় পাব এত টাকা। জমি-জিরাত যা ছিল, তাতো বিক্রি করেছি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হুজাইফার বাবা সুমন।
অসুস্থ্য হুজাইফার মা শারমিন হোসেন বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য জমি-বিক্রির পাশাপাশি প্রচুর ধার দেনা করেছি। তারপরও মানুষের কাছে হাত পাতিনি। কিন্তু এখন আর পারছিনা। কলিজার টুকরা হুজাইফার চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আল্লাহর রহমত এবং মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই বলেন এই মা।
সুমনের পরিবারে হুজাইফা ছাড়াও সুমনের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। হুজাইফাকে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করুণ বায়জিদুল ইসলাম সুমন-০১৯১১-৯২৫২২৪।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

দশ লক্ষ টাকায়ও সুস্থ্য হয়নি হুজাইফা, পুনঃঅপারেশনে প্রয়োজন ৫ লক্ষ টাকা

আপডেট টাইম : 05:59:10 pm, Tuesday, 4 October 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:
১১ মাসে দশ লক্ষ টাকা ব্যয় ও হার্টের অপরেশনের পরেও সুস্থ হয়নি ১৯ মাস বয়সী হুজাইফা ইসলাম। দিন দিন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে অবুঝ শিশুটি। বয়স ও শরীরের সাথে হার্টের বৃদ্ধি হচ্ছে না, উপরন্তু হার্টের ভাল্ব আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আবারও ওপেন হার্ট সার্জারির তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। যার জন্য ব্যয় হবে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। এই অবস্থায় সন্তানের চিকিৎসায় বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন হুজাইফার বাবা বায়জিদুল ইসলাম সুমন।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার চরকাঠি গ্রামের সুমন ও শারমিন হোসেন দম্পতির ঘরে ১৯ মাস আগে জন্ম হয় হুজাইফার। জন্মের সময় সুস্থ ও সবল ছিলেন হুজাইফা। আট মাস বয়সে হওয়া সর্দি না কমায়, শিশু বিশেষজ্ঞের দারস্থ হন হুজাইফার বাবা-মা। চিকিৎসক প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারেন বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে খুলনা সিটি মেডিকেলে এক্সরেসহ বিভিন্ন ধরণের ডায়গনোসিসে জানা যায় হুজাইফার হার্টে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। সিটি মেডিকেল থেকে দ্রæত ঢাকা নিতে বলা হয়। হার্ট ফাউন্ডেশনে নানা ধরণের পরীক্ষার নিরিক্ষার পরে, ওপেন হার্ট সার্জারী হয় হুজাইফার। এক মাস দশদিন আইসিইউ এবং লাইফ সাপোর্টে থেকে হাসপাতাল ছাড়েন হুজাইফা। এত দিনে হুজাইফার বাবার জমি ও গাছ বিক্রির ১০ লক্ষাধিক টাকা শেষ। ছেলের চিকিৎসা ও দেখভালের জন্য ৮ মাস আগে বেসরকারি চাকুরীও ছেড়েছেন সুমন। এখন ছেলের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করা সুমনের পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
সুমনের প্রতিবেশী সাইদুল শেখ বলেন, ছেলেটার মুখের দিকে তাকানো যায় না। সব সময় মুখ কালো থাকে। ছেলের জন্য সুমনের পরিবারেরও সবার মন খারাপ থাকে। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সুমনরা আর্থিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাড়ির গাছ-মাঠের জমি সব বিক্রি করেছেন ছেলের জন্য। এখন আর সুমনদের তেমন কিছু নেই। সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতার হাত বাড়ালে শিশুটি বেঁচে যেত।
হুজাইফার বাবা বায়জিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ছেলেকে সুস্থ্য করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। চাকুরি ছেড়েছি, বাবার জমি বিক্রি করেছি। মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা গাছ বিক্রি করেছি। দিনের পর দিন হাসপাতালে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। কিন্তু আমার ছেলে সুস্থ্য হয়নি। ছেলের কান্নায় রাতে ঘুম আসেনা। সমস্যা আরও গুরুত্বর হচ্ছে। কি হবে জানিনা। অপারেশনের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা লাগবে। কোথায় পাব এত টাকা। জমি-জিরাত যা ছিল, তাতো বিক্রি করেছি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হুজাইফার বাবা সুমন।
অসুস্থ্য হুজাইফার মা শারমিন হোসেন বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য জমি-বিক্রির পাশাপাশি প্রচুর ধার দেনা করেছি। তারপরও মানুষের কাছে হাত পাতিনি। কিন্তু এখন আর পারছিনা। কলিজার টুকরা হুজাইফার চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। আল্লাহর রহমত এবং মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই বলেন এই মা।
সুমনের পরিবারে হুজাইফা ছাড়াও সুমনের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। হুজাইফাকে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করুণ বায়জিদুল ইসলাম সুমন-০১৯১১-৯২৫২২৪।