Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি
মূলহোতা গ্রেপ্তার

ধর্ষণের ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল, লোকলজ্জায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 07:06:09 pm, Friday, 25 April 2025
  • 81 বার

মোংলা প্রতিনিধি:মোংলা শহরের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্রী আত্মহনন ঘটনার ভিন্ন মোড় নিতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচার পেলেও এখন জানা যাচ্ছে, বখাটে এক যুবক ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরীর সাথে বিশেষ সখ্যতা তৈরি করে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন স্পষ্টে নিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণসহ তা ভিডিও করে রাখে। পরে ওই ভিডিও’র ভয় দেখিয়ে কিশোরীটিকে ব্লাক মেইল করে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে কিশোরীটি মানুসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ায় লজ্জা ও বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এক পর্যায়ে আত্মহননে বাধ্য হয়।

এ ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর মৃতের পিতা আলী হোসেন বাচ্চু এক নারীসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে বাগেরহাট আদালতে গত ৭ এপ্রিল ধর্ষণ ও আত্মহননে প্ররোচণার দায়ে এজাহার দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল মোংলা থানা পুলিশ এজাহারটিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণসহ আত্মহত্যার প্ররোচিত সংক্রান্ত ধারায় এফআইআর (মামলা) রেকর্ড করেন।

এদিকে পুলিশ এ মামলার প্রধান আসামি মোঃ আসহাবুল ইয়ামিন (২৪) কে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধবী কলনী এলাকা থেকে গত ২২ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের পিতা মোঃ সোহেল রানা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি নৌযানে মাষ্টার পদে কর্মরত রয়েছেন।

মামলা ও মৃতের পারিবারিক সূত্র জানা যায়, মোংলা শহরের সামসুর রহমান রোড়ের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি স্কলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলায় বেশ পারদর্শী ছিল। ক্রিকেট খেলার সুবাদে মোংলার বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় খেলার সূত্র ধরে স্থানীয় বন্দরের মাধবী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি নৌযানের মাষ্টার সোহেল রানার ছেলে মোঃ আসহাবুল ইয়ামিন ও তার কয়েক সহযোগীর সাথে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিচয়ের এক পর্যায়ে বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে। আর এই সখ্যতাই কাল হলো ওই ছাত্রীর জীবনে।

গড়ে ওঠা সখ্যতার কিছুদিন পর আসহাবুল ও তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে ট্রলারে করে সুন্দরবনের করমজল পিকনিক স্পষ্টে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে আসহাবুল ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সে দৃশ্য ও ছাত্রীর নগ্ন ছবি ভিডিও করে রাখে আসহাবুল ও তার সহযোগীরা। এরপরই শুরু হয় ওই ছাত্রীর উপর আসহাবুল ও তার সহযোগীদের নানা মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুক ও অভিভাবকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ওই ছাত্রীকে বেশ কয়েকবার আসহাবুল তার সহযোগীদের সহযোগীতায় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণসহ নানা অত্যাচার করে। এভাবে দিনকে দিন অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ১৪ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীকে তার এক সহযোগীর মোটরসাইকেলে করে আসহাবুল কাইনমারী এলাকায় একটি কফিশপে ডেকে নেয়। সেখানে কথাবার্তার এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্রী বিয়ের প্রস্তাব দিলে আসহাবুল তিরস্কার করে লজ্জাজনক ও অপমানমূলক নানা কথাবার্তা বলাসহ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার জানায়। এতে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে পরের দিন রাতে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে এ ঘটনায় প্রথমে মোংলা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়। পরে মৃতের অভিভাবকরা বিভিন্ন মাধ্যমে এসব ঘটনা জানতে পেরে আসহাবুলসহ তার কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে বাগেরহাট আদালতে গত ৭ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণসহ আত্মহত্যার প্ররোচিত সংক্রান্ত ধারায় এজাহার দাখিল করেন। পরে আদালত এজাহারটিকে মোংলা থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার জন্য আদেশ দেন।আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২১ এপ্রিল মোংলা থানা পুলিশ এজাহারটিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। ঘটনার অন্যতম হোতা আসহাবুল ইয়ামীনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আসহাবুল পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা ও তার নিজের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক নারীর ছবি ও ভিডিও রয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে জোর পুলিশী তৎপরতা চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

মূলহোতা গ্রেপ্তার

ধর্ষণের ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল, লোকলজ্জায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট টাইম : 07:06:09 pm, Friday, 25 April 2025

মোংলা প্রতিনিধি:মোংলা শহরের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্রী আত্মহনন ঘটনার ভিন্ন মোড় নিতে শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সাথে অভিমান করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচার পেলেও এখন জানা যাচ্ছে, বখাটে এক যুবক ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরীর সাথে বিশেষ সখ্যতা তৈরি করে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন স্পষ্টে নিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণসহ তা ভিডিও করে রাখে। পরে ওই ভিডিও’র ভয় দেখিয়ে কিশোরীটিকে ব্লাক মেইল করে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে কিশোরীটি মানুসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ায় লজ্জা ও বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা পেতে এক পর্যায়ে আত্মহননে বাধ্য হয়।

এ ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর মৃতের পিতা আলী হোসেন বাচ্চু এক নারীসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে বাগেরহাট আদালতে গত ৭ এপ্রিল ধর্ষণ ও আত্মহননে প্ররোচণার দায়ে এজাহার দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল মোংলা থানা পুলিশ এজাহারটিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণসহ আত্মহত্যার প্ররোচিত সংক্রান্ত ধারায় এফআইআর (মামলা) রেকর্ড করেন।

এদিকে পুলিশ এ মামলার প্রধান আসামি মোঃ আসহাবুল ইয়ামিন (২৪) কে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধবী কলনী এলাকা থেকে গত ২২ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের পিতা মোঃ সোহেল রানা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি নৌযানে মাষ্টার পদে কর্মরত রয়েছেন।

মামলা ও মৃতের পারিবারিক সূত্র জানা যায়, মোংলা শহরের সামসুর রহমান রোড়ের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি স্কলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলায় বেশ পারদর্শী ছিল। ক্রিকেট খেলার সুবাদে মোংলার বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় খেলার সূত্র ধরে স্থানীয় বন্দরের মাধবী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি নৌযানের মাষ্টার সোহেল রানার ছেলে মোঃ আসহাবুল ইয়ামিন ও তার কয়েক সহযোগীর সাথে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিচয়ের এক পর্যায়ে বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে। আর এই সখ্যতাই কাল হলো ওই ছাত্রীর জীবনে।

গড়ে ওঠা সখ্যতার কিছুদিন পর আসহাবুল ও তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে ট্রলারে করে সুন্দরবনের করমজল পিকনিক স্পষ্টে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে আসহাবুল ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সে দৃশ্য ও ছাত্রীর নগ্ন ছবি ভিডিও করে রাখে আসহাবুল ও তার সহযোগীরা। এরপরই শুরু হয় ওই ছাত্রীর উপর আসহাবুল ও তার সহযোগীদের নানা মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুক ও অভিভাবকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ওই ছাত্রীকে বেশ কয়েকবার আসহাবুল তার সহযোগীদের সহযোগীতায় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণসহ নানা অত্যাচার করে। এভাবে দিনকে দিন অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ১৪ ডিসেম্বর ওই ছাত্রীকে তার এক সহযোগীর মোটরসাইকেলে করে আসহাবুল কাইনমারী এলাকায় একটি কফিশপে ডেকে নেয়। সেখানে কথাবার্তার এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্রী বিয়ের প্রস্তাব দিলে আসহাবুল তিরস্কার করে লজ্জাজনক ও অপমানমূলক নানা কথাবার্তা বলাসহ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার জানায়। এতে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে পরের দিন রাতে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে এ ঘটনায় প্রথমে মোংলা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়। পরে মৃতের অভিভাবকরা বিভিন্ন মাধ্যমে এসব ঘটনা জানতে পেরে আসহাবুলসহ তার কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে বাগেরহাট আদালতে গত ৭ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধর্ষণসহ আত্মহত্যার প্ররোচিত সংক্রান্ত ধারায় এজাহার দাখিল করেন। পরে আদালত এজাহারটিকে মোংলা থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার জন্য আদেশ দেন।আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২১ এপ্রিল মোংলা থানা পুলিশ এজাহারটিকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করা হয়েছে। ঘটনার অন্যতম হোতা আসহাবুল ইয়ামীনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আসহাবুল পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা ও তার নিজের সম্পৃক্তার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক নারীর ছবি ও ভিডিও রয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে জোর পুলিশী তৎপরতা চলছে।