আমার ডেক্স:ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর গত বৃহস্পতিবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা। শোবিজ তারকারা কী ভাবছেন নতুন করে তৈরি হতে যাওয়া বাংলাদেশ নিয়ে, কী তাঁদের প্রত্যাশা অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকারের কাছে? অনুলিখন করেছেন শিহাব আহমেদ
সিয়াম আহমেদসিয়াম আহমেদ
একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সময়
—সিয়াম আহমেদ, অভিনেতা
দেশটা এখন অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উন্নয়নের পথগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, লুটপাট করা হয়েছে। আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। এখন যদি আমাদের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ করি, তাহলে আমাদের পিছিয়ে যাওয়াটা আরও দীর্ঘায়িত হবে। এখন পেছানোর সময় নয়, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এই অবস্থা থেকে দ্রুততম সময়ে বের হয়ে আসতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে এই আন্দোলন সার্থক হবে না। সামনের সময়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন নতুন এক বাংলাদেশের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আগে এই দায়িত্ব শুধু সরকারের ছিল। নাগরিকদের অংশগ্রহণ ওয়েলকামিং ছিল না। কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে, শহর পরিষ্কার করছে। অভিভাবকেরাও তাদের সাপোর্ট করছেন। রাতে অনেক এলাকায় সহিংসতা বন্ধে সর্বসাধারণ নেমে পড়েছে। নিজেরা দলবদ্ধ হয়ে পাহারা দিচ্ছে। একটি প্রজন্মের এ রকম পলিটিক্যালি জাগ্রত হয়ে যাওয়া কিন্তু মিরাকেল। সব সময় এমনটা হয় না। এটা কাজে লাগাতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যাঁরা আছেন, তাঁদের একটা স্বচ্ছ ইমেজ আছে মানুষের মনে। তাঁরা যেন তাঁদের সততা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান—সেটাই প্রত্যাশা।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকীমোস্তফা সরয়ার ফারুকী
মানবিক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে এগিয়ে যাব
—মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্মাতা
আমাদের এখানে একটা গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। এখন আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন—এগুলোকে সংস্কারের ব্যবস্থা করে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাওয়া। এই সরকারের প্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা। আন্দোলনের সফলতার পর আইনশৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়েছে। চারদিকে নৈরাজ্যের কথা শোনা যাচ্ছে। আইনের শাসনকে শক্ত করে তুলতে হবে, যাতে কেউ এই সফল আন্দোলনের অপব্যবহার না করতে পারে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশ ভাই-বোনেরা কাজে যোগ দেবেন। নতুন দিনের নতুন পুলিশ হবেন তাঁরা—এটাই আশা আমাদের। বাংলাদেশে মন্দির থাকবে, মসজিদ থাকবে, প্যাগোডা থাকবে, গির্জা থাকবে, বোরকা থাকবে, জিনস থাকবে—সবকিছুই থাকবে বহুজনের এই সমাজে। আশার কথা, আমাদের তরুণসমাজের মধ্যে আমি এ বিষয়ে সচেতনতা দেখতে পাচ্ছি। নিশ্চয়ই আমরা একটা মানবিক গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাব।
সাবিলা নূরসাবিলা নূর
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে
—সাবিলা নূর, অভিনেত্রী
দেশের অনেক জায়গায় নৈরাজ্য চলছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। সব ধর্মের, সব বিশ্বাসের মানুষ যেন প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে পারে, তার জন্য সমতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। ভিন্নমতের হলেই কাউকে যেন কুক্ষিগত করে না রাখা হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। সবাই যেন নিজেদের কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষায় যা যা করা প্রয়োজন, সেগুলো যেন করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নতি প্রয়োজন। আমাদের দেশের অন্যতম বড় চিন্তার বিষয় দুর্নীতি। আমি চাইব অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি রোধে কাজ করবে। এখন থেকে কাউকে যেন কোনো কাজে ঘুষ দিতে না হয়। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক চেয়ে আন্দোলন করেছিল ছাত্ররা। নতুন সরকার নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করুক।
Md.Liton 











