Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

পদোন্নতি হলো রত্না গর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলামের

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:37:50 pm, Sunday, 16 February 2025
  • 186 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:১১ তম বিসিএস ক্যাডার রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলাম। মাস্টার্স অধ্যায়নরত থাকাকালীন ১১ তম বিসিএসে চাকরি পাওয়া দারুন মেধাবী ড. ফরিদুল ইসলাম ১৯ বছর পর সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন। এর আগে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অবসরে পাঠিয়েছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি উন্নয়নের কারিগর খ্যাত বাগেরহাটের কৃতি সন্তান ড. ফরিদুল ইসলামকে ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

মাস্টার্স ডিগ্রির ইন্টারভিউর সময়ই খবর পান ১১তম বিসিএসে চাকরি হয়েছেতার। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই ১ম শ্রেণি পেয়ে এম.এস.সি (এগ্রিকালচার) ডিগ্রি অর্জন করেন। আইন পেশায়ও ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসি ল্যান্ড হিসেবে কর্মরত থাকার সময় টাঙ্গাইল কলেজ থেকে এলএলবি (প্রথম পার্ট) পাশ করেন। ১/১১ এর সময় ভুয়া অভিযোগে তদন্তের সম্মুখীন হন তিনি। টাস্কফোর্সের তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনা সে সময়। দ্বিতীয় দফায় তদন্ত শুরু হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আবারও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এবার তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাবলিক পলিসিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তাছাড়া লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক পলিসিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণসহ দেশ-বিদেশে বহু প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ড. ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে পিএইচডি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলে জাইকার অর্থায়নে ৪ বছরের স্কলারশিপ পান। কিন্তু চাকুরি স্থল থেকে অনুমতি না দেওয়ায় তার আশা ভঙ্গ হয়।

সরকারি নিয়মনীতি অনুসরন করে বিপিএটিসি ও সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রশিক্ষণ MAAT-1 এ পর্যাপ্ত যোগ্যতা অর্জন করায় MAAT-2 এ মনোনিত হয়ে London Wolver hampton Universityতে পড়াশোনা করার সুযোগ পান তিনি। জনপ্রশাসন থেকে অবসরে যাওয়া সাবেক ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১১৯ জন সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর মধ্যে কেউ ১৬ বছর পদোন্নতি পাননি, কেউ পাননি ১৯ বছর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বঞ্চনার শিকার ড. ফরিদুল ইসলাম তাদেরই একজন।

ফরিদুল ইসলাম ১১ বিসিএস ফোরামের সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমী (সাবেক আগারগাঁও কলেজ) এর সভাপতি, এবং বিসিএস প্রশাসন সমিতি, বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য গঠিত প্রত্যাশা সমবায় সমিতি, বাগেরহাট ডায়াবেটিস সমিতি, বাগেরহাট ফাউন্ডেশন, লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সেবার ব্রত নিয়ে বাবার নামে গড়ে তুলেছেন “লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন” নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। সকল ভাই-বোনেরা মিলে পৈতৃকসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দান করেছেন সেই ফাউন্ডেশনের নামে। গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ, এতিম ও বৃদ্ধা নিবাস, পাবলিক লাইব্রেরি, স্পোর্টিং ক্লাব ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রবীনদের জন্য থেরাপি সেন্টার। রয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। স্থায়ীভাবে পানির সংকট মেটাতে চলছে ওয়াটার প্লান্ট এর পরিকল্পনা। এ সব কিছু তাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বর্ণাঢ্য এই জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ফরিদুল ইসলাম বলেন, “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মনে হয় কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় আর স্বপ্নে অটুট থাকে, সৎভাবে সে যদি সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে থাকে, তাহলে কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। আমাকে আটকাতে একসময় রাষ্ট্রযন্ত্র সব চেষ্টাই করেছে। দীর্ঘদিন তদন্ত করেছে। কখনো নাজেহাল করেছে। কিন্তু দিন শেষে সততা, দক্ষতা আর নীতিতে অবিচল কর্মনিষ্ঠার কাছে কোনো কিছুই আমাকে লক্ষ্য থেকে পিছপা করতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, “আমি জীবনের এই অমোঘ শিক্ষা পেয়েছি আমার বাবার থেকে। নিজের নামে কোনো সম্পদ গড়ার ভাবনা কিংবা লালসা কখনো আমার আসেনি। বাকি জীবনে আসবেও না। এই দেশ আর দেশের মানুষের জন্য নিজের সবকিছু উৎসর্গ করেছি। এতেই আমার সুখ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

পদোন্নতি হলো রত্না গর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলামের

আপডেট টাইম : 09:37:50 pm, Sunday, 16 February 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি:১১ তম বিসিএস ক্যাডার রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান ড. ফরিদুল ইসলাম। মাস্টার্স অধ্যায়নরত থাকাকালীন ১১ তম বিসিএসে চাকরি পাওয়া দারুন মেধাবী ড. ফরিদুল ইসলাম ১৯ বছর পর সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন। এর আগে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অবসরে পাঠিয়েছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি উন্নয়নের কারিগর খ্যাত বাগেরহাটের কৃতি সন্তান ড. ফরিদুল ইসলামকে ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

মাস্টার্স ডিগ্রির ইন্টারভিউর সময়ই খবর পান ১১তম বিসিএসে চাকরি হয়েছেতার। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই ১ম শ্রেণি পেয়ে এম.এস.সি (এগ্রিকালচার) ডিগ্রি অর্জন করেন। আইন পেশায়ও ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসি ল্যান্ড হিসেবে কর্মরত থাকার সময় টাঙ্গাইল কলেজ থেকে এলএলবি (প্রথম পার্ট) পাশ করেন। ১/১১ এর সময় ভুয়া অভিযোগে তদন্তের সম্মুখীন হন তিনি। টাস্কফোর্সের তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনা সে সময়। দ্বিতীয় দফায় তদন্ত শুরু হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আবারও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এবার তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাবলিক পলিসিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। তাছাড়া লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক পলিসিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণসহ দেশ-বিদেশে বহু প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ড. ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে পিএইচডি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলে জাইকার অর্থায়নে ৪ বছরের স্কলারশিপ পান। কিন্তু চাকুরি স্থল থেকে অনুমতি না দেওয়ায় তার আশা ভঙ্গ হয়।

সরকারি নিয়মনীতি অনুসরন করে বিপিএটিসি ও সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রশিক্ষণ MAAT-1 এ পর্যাপ্ত যোগ্যতা অর্জন করায় MAAT-2 এ মনোনিত হয়ে London Wolver hampton Universityতে পড়াশোনা করার সুযোগ পান তিনি। জনপ্রশাসন থেকে অবসরে যাওয়া সাবেক ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১১৯ জন সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর মধ্যে কেউ ১৬ বছর পদোন্নতি পাননি, কেউ পাননি ১৯ বছর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বঞ্চনার শিকার ড. ফরিদুল ইসলাম তাদেরই একজন।

ফরিদুল ইসলাম ১১ বিসিএস ফোরামের সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমী (সাবেক আগারগাঁও কলেজ) এর সভাপতি, এবং বিসিএস প্রশাসন সমিতি, বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য গঠিত প্রত্যাশা সমবায় সমিতি, বাগেরহাট ডায়াবেটিস সমিতি, বাগেরহাট ফাউন্ডেশন, লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সেবার ব্রত নিয়ে বাবার নামে গড়ে তুলেছেন “লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন” নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। সকল ভাই-বোনেরা মিলে পৈতৃকসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দান করেছেন সেই ফাউন্ডেশনের নামে। গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ, এতিম ও বৃদ্ধা নিবাস, পাবলিক লাইব্রেরি, স্পোর্টিং ক্লাব ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রবীনদের জন্য থেরাপি সেন্টার। রয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। স্থায়ীভাবে পানির সংকট মেটাতে চলছে ওয়াটার প্লান্ট এর পরিকল্পনা। এ সব কিছু তাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বর্ণাঢ্য এই জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে ফরিদুল ইসলাম বলেন, “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মনে হয় কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় আর স্বপ্নে অটুট থাকে, সৎভাবে সে যদি সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে থাকে, তাহলে কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। আমাকে আটকাতে একসময় রাষ্ট্রযন্ত্র সব চেষ্টাই করেছে। দীর্ঘদিন তদন্ত করেছে। কখনো নাজেহাল করেছে। কিন্তু দিন শেষে সততা, দক্ষতা আর নীতিতে অবিচল কর্মনিষ্ঠার কাছে কোনো কিছুই আমাকে লক্ষ্য থেকে পিছপা করতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, “আমি জীবনের এই অমোঘ শিক্ষা পেয়েছি আমার বাবার থেকে। নিজের নামে কোনো সম্পদ গড়ার ভাবনা কিংবা লালসা কখনো আমার আসেনি। বাকি জীবনে আসবেও না। এই দেশ আর দেশের মানুষের জন্য নিজের সবকিছু উৎসর্গ করেছি। এতেই আমার সুখ।