গত ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে গভীর নলকূপের মাধ্যমে নতুন পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজ শেষে হাসপাতালে হস্তান্তরের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে তা অকেজ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার (১৪ মে) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অকেজো হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালের নতুন পানি সরবরাহ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাবিব এন্টারপ্রাইজের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্প শেষে তারা কাজের টাকা তুলে নিয়েছেন। প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়ে গেলেও এক ফোঁটা পানি পাচ্ছে না ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ২৪ নং বেডের রোগী আদুরী বেগম জানান, তিনি চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। রোগীদের গণশৌচাগারে মাত্র কিছু সময়ের জন্য পানি পাওয়া যায়। সরবরাহকৃত সেই লালচে মরিচাযুক্ত ময়লা পানি ব্যবহারের অনুপযুক্ত।
শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসারত ফারিহা আক্তারের অভিভাবক সালমা বেগম বলেন, বাথরুমের ট্যাপ খুললেই বালতি ও মেঝেতে ময়লা পানির ঘন আস্তরন পড়ে যায়। নিয়মিত পরিস্কারের জন্য তিনি হাসপাতালের শৌচাগারে যথেষ্ট পানি পাচ্ছেন না। ফলে ওয়ার্ডের বেডরুমের সাথে সংযুক্ত টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ আসায় দুর্বিসহ সময় পার করছেন। ওয়ার্ড গুলোতে খাবার পানি সরবরাহের জন্য একাধিক রিভার্স ওসমোসিস (আরও) মেশিন থাকলেও আয়রনযুক্ত পানিতে তা নষ্ট রয়েছে। ফলে রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে পানি কিনে আনতে হয়। কেউ কেউ গভীর নলকূপে গিয়ে পানি সংগ্রহ করেন। হাসপাতালে আসা অনেক রোগী অভিযোগ করে বলেন, পানির অভাবে পুরো পরিবেশটা নোংরা হয়ে থাকে। হাসপাতালে সুস্থ হতে এসে উল্টো আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে তাঁরা।
পানির অভাবে অনেক সময় হাসপাতালের মেঝে মুছতে না পেরে শুধু ঝাড়ু দিচ্ছেন বলে জানান পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঋতু বেগম।
হাসপাতালে কর্মরত নার্স সালমা আক্তার বলেন, রোগীদের সেবা দিয়ে এসে নিজেকে জীবানুমুক্ত করার জন্য প্রায় সময় হাত ধোয়ার পানি পাওয়া যায় না। ফলে ডায়রিয়া রোগীর কাছ থেকে এসে শিশু ওয়ার্ডে ও বৃদ্ধ রোগীদের কাছে সেবা দিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।
এই পানি সরবরাহ প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাবিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী মো. আল আমীন জানান, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। কিন্তু বার বার বৈদ্যুতিক লাইনে সমস্যা থাকার জন্য এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের সব টাকা তুলে নিয়েছেন বলে মুঠোফোনে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
বাগেরহাট জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. এনামূল কবির বলেন, বিদ্যুত সরবরাহে বিভ্রাটের কারণে ট্রান্সমিটার পুড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে আবার ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হবে। ফলে পানির সমস্যা দুর হবে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ্ মো. মহিবুল্লাহ্ বলেন, ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এসেছি। হাসপাতালে তীব্র পানি সংকট রয়েছে। রোগীদের দুর্দশা লাঘবে নিজ খরচে মিস্ত্রী ডেকে পাইপ লাইন ও পানির ট্যাঙ্ক পরিস্কার করিয়েছি। কিন্তু পানির অধিক আয়রনে পাইপগুলো মরিচা ধরে আটকে গিয়েছে। পুরো সিস্টেম পরিবর্তন না করলে স্থায়ী সমাধান হবে না বলে সেনিটেশন মিস্ত্রী জানিয়েছে। অকেজো হয়ে যাওয়া নতুন প্রকল্পের বিষয়টি তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানান।
Md.Liton 











