Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই

বাগেরহাটের একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্ধেক বাসিন্দা আশ্রয়ন ছেড়ে চলে গেছে: ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 02:30:03 pm, Tuesday, 17 May 2022
  • 166 বার

রামপাল প্রতিনিধি: বাগেরহাট সংস্কারের অভাবে রামপাল উপজেলার একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্ধেক বাসিন্দা আশ্রয়নের ঘর ছেড়ে চলে গেছেন। ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কার না করা গেলে যারা এখনও বসবাস করছেন তাদেরও আশ্রয়ন ছেড়ে চলে যেতে হতে পারে এমন কথা জানালেন আশ্রয়নের কয়েকজন বাসিন্দা।আশ্রয়নের সব কয়টি ব্যারাক ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ব্যারাকের টিনের চালা ফুটা হয়ে গেছে। উপরের দিকে তাকালে আকাশ দেখা যায়। মরিচায় খয়ে টিনের বেড়া ভেঙ্গে গেছে। দরজা জানালা জোড়া তালি দিয়ে কোনমতে রাত কাটাচ্ছেন তারা।

আশ্রায়ন প্রকল্প

বৃষ্টি হলেই পানিতে ভিতর সয়লাভ হয়ে যায়। রাতে বৃষ্টিতে তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে প্রায় সব ঘরের বাসিন্দাদের টিনের চালে পলিথিন দিয়ে রাখতে দেখা গেছে। ভারী বৃষ্টি হলে পলিথিনেও ঠেকানো যায় না। বেশির ভাগ রান্না ঘর স্যাঁতসেতে। বৃষ্টি হলে রান্নাবান্না বন্ধ রাখতে হয়। পায়খানা প্রসাবখানা একেবারেই নোংড়া, অস্বাস্থ্যকর। ব্যারাকের অবকাঠামোগত অবস্থা নড়বড়ে হওয়ায় আকাশে মেঘ দেখলেই বাসিন্দারা ভয়ে আতঙ্কে থাকে। ঘুর্ণিঝড়ের সংকেত পেলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাবার কোন ব্যবস্থা নেই। বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সামান্য বাতাস হলেই বেশির ভাগ ঘরের টিন উড়ে যেতে পারে। ঝড়ের খবর পেলে আমরা ভয়ের মধ্যে থাকি।

আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে আশ্রয়নের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারি খাস জমিতে ভুমিহীনদের পুণর্বাসনের জন্য বিগত ২০০২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রানালয়ের অধীনে একটি আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মান করা হয়। এ প্রকল্পে ১০ কক্ষ বিশিষ্ট ৮টি ঘর নির্মান করে ৮০ টি ভুমিহীন পরিবারকে পুণর্বাসন করা হয়েছিল।

আশ্রয়নের বাসিন্দারা জানান, নির্মানের পর এ পর্যন্ত ব্যারাক গুলোতে কোন সংস্কার করা হয়নি। তারা আরও জানান, ঘরের কক্ষ বুঝে দেয়ার সময় মেঝেতে কোন মাটি ছিল না। ছিলনা কোন রান্না ঘর। কক্ষ পাওয়ার পর তারা নিজেদের উদ্যোগে মেঝের মাটি ভরাটের পাশাপাশি রান্না ঘর নির্মান করেন।
আশ্রয়নের ৮ টি ব্যারাকের সব কয়টি এখন বসবাসের জন্য একবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বসবাস করতে না পেরে ৩৯ টি পরিবার আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এদের মধ্যে ৭-৮ টি পরিবার কুমারখালি নদীর চরে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছেন।
আশ্রয়নে বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় অর্ধেক পরিবার আশ্রয়ন ছেড়ে চলে যাওয়ায় অর্ধেক ঘর পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শত সমস্যা মাথায় নিয়ে পড়ে থাকা বাসিন্দারা জানান, তাদের যাবার জায়গা না থাকায় তারা এখানে পড়ে আছেন। বেশ কয়েকজন নারী পুরুষ বলেন, এর আগে কয়েকবার আশ্রয়ন সংস্কারের আশ্বাস দেয়া হলেও আজও কোন সংস্কার করা হয়নি। এরফলে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি।
স্থানীয় বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল এ আশ্রয়নের দুরাবস্থার কথা উপজেলা পরিষদের গত মাসিক সমন্বয় সভায় তুলে ধরে আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে সংস্কারের দাবী করেন।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, ওই আশ্রয়ন প্রকল্পসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল আবাসন প্রকল্পের ঘর সংস্কারের জন্য আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে পেড়িখালীর সিকিরডাঙ্গা, গৌরম্ভাসহ ৩ টি আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন এবং যথা সম্ভব শীগ্রই আবাসনের বাসিন্দাদের ঘর পুননির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরও জানান, সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সকল আবাসন প্রকল্পের ঘর সংস্কার করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার

বাগেরহাটের একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্ধেক বাসিন্দা আশ্রয়ন ছেড়ে চলে গেছে: ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা

আপডেট টাইম : 02:30:03 pm, Tuesday, 17 May 2022

রামপাল প্রতিনিধি: বাগেরহাট সংস্কারের অভাবে রামপাল উপজেলার একটি আশ্রয়ন প্রকল্পের অর্ধেক বাসিন্দা আশ্রয়নের ঘর ছেড়ে চলে গেছেন। ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কার না করা গেলে যারা এখনও বসবাস করছেন তাদেরও আশ্রয়ন ছেড়ে চলে যেতে হতে পারে এমন কথা জানালেন আশ্রয়নের কয়েকজন বাসিন্দা।আশ্রয়নের সব কয়টি ব্যারাক ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ব্যারাকের টিনের চালা ফুটা হয়ে গেছে। উপরের দিকে তাকালে আকাশ দেখা যায়। মরিচায় খয়ে টিনের বেড়া ভেঙ্গে গেছে। দরজা জানালা জোড়া তালি দিয়ে কোনমতে রাত কাটাচ্ছেন তারা।

আশ্রায়ন প্রকল্প

বৃষ্টি হলেই পানিতে ভিতর সয়লাভ হয়ে যায়। রাতে বৃষ্টিতে তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে প্রায় সব ঘরের বাসিন্দাদের টিনের চালে পলিথিন দিয়ে রাখতে দেখা গেছে। ভারী বৃষ্টি হলে পলিথিনেও ঠেকানো যায় না। বেশির ভাগ রান্না ঘর স্যাঁতসেতে। বৃষ্টি হলে রান্নাবান্না বন্ধ রাখতে হয়। পায়খানা প্রসাবখানা একেবারেই নোংড়া, অস্বাস্থ্যকর। ব্যারাকের অবকাঠামোগত অবস্থা নড়বড়ে হওয়ায় আকাশে মেঘ দেখলেই বাসিন্দারা ভয়ে আতঙ্কে থাকে। ঘুর্ণিঝড়ের সংকেত পেলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাবার কোন ব্যবস্থা নেই। বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সামান্য বাতাস হলেই বেশির ভাগ ঘরের টিন উড়ে যেতে পারে। ঝড়ের খবর পেলে আমরা ভয়ের মধ্যে থাকি।

আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে আশ্রয়নের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারি খাস জমিতে ভুমিহীনদের পুণর্বাসনের জন্য বিগত ২০০২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রানালয়ের অধীনে একটি আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মান করা হয়। এ প্রকল্পে ১০ কক্ষ বিশিষ্ট ৮টি ঘর নির্মান করে ৮০ টি ভুমিহীন পরিবারকে পুণর্বাসন করা হয়েছিল।

আশ্রয়নের বাসিন্দারা জানান, নির্মানের পর এ পর্যন্ত ব্যারাক গুলোতে কোন সংস্কার করা হয়নি। তারা আরও জানান, ঘরের কক্ষ বুঝে দেয়ার সময় মেঝেতে কোন মাটি ছিল না। ছিলনা কোন রান্না ঘর। কক্ষ পাওয়ার পর তারা নিজেদের উদ্যোগে মেঝের মাটি ভরাটের পাশাপাশি রান্না ঘর নির্মান করেন।
আশ্রয়নের ৮ টি ব্যারাকের সব কয়টি এখন বসবাসের জন্য একবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বসবাস করতে না পেরে ৩৯ টি পরিবার আশ্রয়ন প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এদের মধ্যে ৭-৮ টি পরিবার কুমারখালি নদীর চরে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছেন।
আশ্রয়নে বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় অর্ধেক পরিবার আশ্রয়ন ছেড়ে চলে যাওয়ায় অর্ধেক ঘর পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শত সমস্যা মাথায় নিয়ে পড়ে থাকা বাসিন্দারা জানান, তাদের যাবার জায়গা না থাকায় তারা এখানে পড়ে আছেন। বেশ কয়েকজন নারী পুরুষ বলেন, এর আগে কয়েকবার আশ্রয়ন সংস্কারের আশ্বাস দেয়া হলেও আজও কোন সংস্কার করা হয়নি। এরফলে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি।
স্থানীয় বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল এ আশ্রয়নের দুরাবস্থার কথা উপজেলা পরিষদের গত মাসিক সমন্বয় সভায় তুলে ধরে আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে সংস্কারের দাবী করেন।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, ওই আশ্রয়ন প্রকল্পসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল আবাসন প্রকল্পের ঘর সংস্কারের জন্য আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে পেড়িখালীর সিকিরডাঙ্গা, গৌরম্ভাসহ ৩ টি আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন এবং যথা সম্ভব শীগ্রই আবাসনের বাসিন্দাদের ঘর পুননির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরও জানান, সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া গেলে সকল আবাসন প্রকল্পের ঘর সংস্কার করা হবে।