হেদায়েত হোসেন,বাগেরহাট:বাগেরহাটের কৃতিসন্তান মো: আলী হোসেন ফকির পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পাওয়ায় জেলাব্যাপী সর্বস্তরের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করছেন। নতুন সরকারের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এ চৌকশ এ কর্মকর্তাকে আইজিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান। এরপর আবার আওয়ামী লীগ আমলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে আইনি প্রক্রিয়ায় এসপি পদমর্যাদায় চাকরি ফিরে পান আলী হোসেন ফকির। এরপর সুপার নিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।
আইজিপি হিবেবে তাঁর পদায়নে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহব্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সমন্বয়ক এম এ সালাম, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোজাফ্ফর রহমান আলম, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো: রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা শাহেদ আলী রবি, সৈয়দ নাসির আহম্মেদ মালেক, নারীনেত্রী শাহিদা বেগম, নার্গিস আক্তার লুনা, এ্যাড: শিরিনা আক্তার, ইভা রহমান,আইনজীবী সমিতির নেতা মাহাবুব মোর্শেদ লালন, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, সাবেক সভাপতি এ্যাড: শাহ্ আলম টুকু,আহসানুল করিম, মো: কামরুজ্জামান, বাবুল সরদার, বিএমও নেতা ডা: শাহনেওয়াজ, ডা: লুৎফুল কবির, বাগেরহাট চেম্বার আব কমার্সের সচিব নূরুল আলম পিন্টু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জোৎ¯œা দেবনাথ, ব্যবসায়ী নেতা শংকর সেন, আসলাম মোল্লা, হিন্দু কমিউনিটি নেতা প্রদীপ বসু সন্তু, নিলয় কুমার ভদ্র, মোহন হালদার, বাবলা হালদার বিপ্লব, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম দেবনাথ, ডিপিএফ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ-সহ দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার নেতৃবৃন্দ উচ্ছাস প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করে বলেন, বাগেরহাটের এ কৃতিসন্তানের কর্মকালে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে পুলিশ দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করবে। জনবান্ধব-পুলিশ’ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। তাঁদের ভাষায়, আমরা বাগেরহাটের মানুষ আনন্দিত ও গর্বিত।’
আলী হোসেন ফকিরের জীবন বৃত্তান্ত আলী হোসেন ফকির ১৯৬৮ সালের ৫ এপ্রিল বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন এক সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বি.কম অনার্স, এম.কম এবং এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী সুপার (এএসপি) পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ডিআইজি-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও ডিআইজি-এসপিবিএন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার এবং নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলার এসপি হিসেবেও কর্তরত ছিলেন। আলী হোসেন বাংলাদেশ পুলিশে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কসোভো ও আইভরি কোস্ট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রশিক্ষণ এবং সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন।
বর্তমানে তিনি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের আহ্বায়ক, খুলনা ক্লাব এবং ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সদস্য। এছাড়া তিনি ঢাকার এপিবিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি, বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবল ক্লাবের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।
তার সহধর্মিণী প্রফেসর নাসিমা ফেরদৌসী সরকারি তিতুমীর কলেজে ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি এক পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তার ছেলে কুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং কন্যা বুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত আছেন।
Md.Liton 











