Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে কালু-ধলুর দাম ২৫ লক্ষ, ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষনা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:35:28 pm, Monday, 25 May 2026
  • 41 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:গোয়াল জোড়া বিশাল দুই গরু। ১০ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উচ্চতার কালুর ওজন ৩৫ থেকে ৩৬ মন। আর ৯ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট উচ্চতার ধলুর ওজন ২৬ মন। প্রতিদিন দুই বেলা গোসল ও চার বেলা খাবারে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মধ্যখাউলিয়া গ্রামের মোঃ তাজুল ইসলামের খামারে বড় হয়েছে বিশালাকৃতির এই দুই গরু।।
সাদা-কালা রংয়ের আড়াই বছর বয়সী দুই দাতের কালুর দাম চাওয়া হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে ২৫ মাস বয়সী ধলুর দাম চাওয়া হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। সাদা ও কালো রংয়ের ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালাকৃতির দুই গরু দিনে ১৫ হাজার টাকার খাবার খায়। খামারির বাবা, মা ও স্ত্রী এই গরু লালন-পালনে সহযোগিতা করেন। সন্তানের মত করে এই গরু লালন পালন করতে হয়। আকর্ষনীয় চেহারার এই গরু এখন ওই অঞ্চলের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। গরু দেখতে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দারাও আসেন তাজুলের বাড়িতে।
তাজুর খামারে গরু দেখতে আসা সেলিম মোল্লা বলেন, এত বড় গরু আমাদের গ্রামে আগে কখনও দেখিনি। প্রায়ই আসি আমরা এই গরু দেখতে, আমাদের ভাল লাগে।
তাজুর খামারে নিয়মিত খাবার পৌছে দেওয়া ভ্যান চালক হেমায়েত খান বলেন, বাজার থেকে প্রতি সপ্তাহেই বস্তা ভরে খৈল, ভূষি, ভুট্টা, কুড়া নিয়ে আসি। খাবার নামিয়ে কিছুক্ষন দাড়িয়ে গরু দেখে তারপর যাই। নিয়মিত খাবার এনে দিতে দিতে গরু দুটো আমার আপন হয়ে গেছে।
বাগেরহাটে কালু-ধলুর দাম ২৫ লক্ষ, ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষনা
খামারি তাজুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে গরু লালন-পালন করার জন্য ‘তাজু ডেইরী ফার্ম’ গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গরু লালন-পালন করলেও, এবারই প্রথম বড় গরু তৈরি করেছেন খামারি তাজুল ইসলাম। নিজের গোয়ালের গাভির বাচ্চা এই দুই ষাড়কে খৈল, কুড়া, ভূষি, কাঁচাঘাষ ও কুটা খাইয়ে বড় করেছেন তিনি। কাঙ্খিত দামে বিক্রি করতে পারলে, ক্রেতাকে ছাগল উপহার দেওয়া হবে বলে জানান খামারি মোঃ তাজুল ইসলাম।
তাজুল আরও বলেন, আসলে এই গরুই আমার আয়ের একমাত্র উৎস্য। গরু দুটোকে আমি সন্তানের মত লালন-পালন করি। এই গরু বড় করায় বেশি সময় দেওয়ার কারণে খামারে থাকা গাভীর কোন যত্নই হচ্ছে। আশাকরি কোরবানিতে বিক্রি করে আবার নতুন করে গরু লালন পালন শুরু করব।
বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে কোরবানির জন্য ৩৮ হাজার ৪৩৫ টি ষাড় লালন পালন করেছে খামারিরা। অনেক খামারেই বড় গরু রয়েছে। এর মধ্যে ‘তাজু ডেইরী ফার্ম’-এ দুটি বড় গরু রয়েছে। একদম দেশীয় পদ্ধতিতে তারা লালন পালন করেছে। জেলার বড় গরুগুলোর এখনও ভাল ক্রেতা পাওয়া যায়নি। তবে কোরবানির আগমুহুর্তে হলেও, ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে কালু-ধলুর দাম ২৫ লক্ষ, ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষনা

আপডেট টাইম : 06:35:28 pm, Monday, 25 May 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি:গোয়াল জোড়া বিশাল দুই গরু। ১০ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উচ্চতার কালুর ওজন ৩৫ থেকে ৩৬ মন। আর ৯ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট উচ্চতার ধলুর ওজন ২৬ মন। প্রতিদিন দুই বেলা গোসল ও চার বেলা খাবারে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মধ্যখাউলিয়া গ্রামের মোঃ তাজুল ইসলামের খামারে বড় হয়েছে বিশালাকৃতির এই দুই গরু।।
সাদা-কালা রংয়ের আড়াই বছর বয়সী দুই দাতের কালুর দাম চাওয়া হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে ২৫ মাস বয়সী ধলুর দাম চাওয়া হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। সাদা ও কালো রংয়ের ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালাকৃতির দুই গরু দিনে ১৫ হাজার টাকার খাবার খায়। খামারির বাবা, মা ও স্ত্রী এই গরু লালন-পালনে সহযোগিতা করেন। সন্তানের মত করে এই গরু লালন পালন করতে হয়। আকর্ষনীয় চেহারার এই গরু এখন ওই অঞ্চলের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। গরু দেখতে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দারাও আসেন তাজুলের বাড়িতে।
তাজুর খামারে গরু দেখতে আসা সেলিম মোল্লা বলেন, এত বড় গরু আমাদের গ্রামে আগে কখনও দেখিনি। প্রায়ই আসি আমরা এই গরু দেখতে, আমাদের ভাল লাগে।
তাজুর খামারে নিয়মিত খাবার পৌছে দেওয়া ভ্যান চালক হেমায়েত খান বলেন, বাজার থেকে প্রতি সপ্তাহেই বস্তা ভরে খৈল, ভূষি, ভুট্টা, কুড়া নিয়ে আসি। খাবার নামিয়ে কিছুক্ষন দাড়িয়ে গরু দেখে তারপর যাই। নিয়মিত খাবার এনে দিতে দিতে গরু দুটো আমার আপন হয়ে গেছে।
বাগেরহাটে কালু-ধলুর দাম ২৫ লক্ষ, ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষনা
খামারি তাজুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে গরু লালন-পালন করার জন্য ‘তাজু ডেইরী ফার্ম’ গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গরু লালন-পালন করলেও, এবারই প্রথম বড় গরু তৈরি করেছেন খামারি তাজুল ইসলাম। নিজের গোয়ালের গাভির বাচ্চা এই দুই ষাড়কে খৈল, কুড়া, ভূষি, কাঁচাঘাষ ও কুটা খাইয়ে বড় করেছেন তিনি। কাঙ্খিত দামে বিক্রি করতে পারলে, ক্রেতাকে ছাগল উপহার দেওয়া হবে বলে জানান খামারি মোঃ তাজুল ইসলাম।
তাজুল আরও বলেন, আসলে এই গরুই আমার আয়ের একমাত্র উৎস্য। গরু দুটোকে আমি সন্তানের মত লালন-পালন করি। এই গরু বড় করায় বেশি সময় দেওয়ার কারণে খামারে থাকা গাভীর কোন যত্নই হচ্ছে। আশাকরি কোরবানিতে বিক্রি করে আবার নতুন করে গরু লালন পালন শুরু করব।
বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, বাগেরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে কোরবানির জন্য ৩৮ হাজার ৪৩৫ টি ষাড় লালন পালন করেছে খামারিরা। অনেক খামারেই বড় গরু রয়েছে। এর মধ্যে ‘তাজু ডেইরী ফার্ম’-এ দুটি বড় গরু রয়েছে। একদম দেশীয় পদ্ধতিতে তারা লালন পালন করেছে। জেলার বড় গরুগুলোর এখনও ভাল ক্রেতা পাওয়া যায়নি। তবে কোরবানির আগমুহুর্তে হলেও, ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।