স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট:গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে বাগেরহাট সদর, কচুয়া, মোংলা উপজেলা ও মোংলা পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণার করার অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত এই কমিটি বাতিল করে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তৃনমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাছির আহমেদ মালেক। সোমবার (২২ মে) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।
এসময়, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক প্রার্থী শহিদুল ইসলাম স্বপন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, আফজাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, তরফদার সজিবসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাছির আহমেদ মালেক বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে থাকা এটিএম আকরাম হোসেন তালিম ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে অদ্যাবধি জেলা কমিটির আওতাধীন ১২টি ইউনিটের একটি ইউনিটেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোন আগ্রহ দেখাননি, উপরন্ত সকল ইউনিট কমিটি বিলুপ্ত করে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর বাগেরহাট জেলার পৌর ও উপজেলা বিএনপিকে কমিটি বিহীন অবস্থায় রেখে জেলা ব্যাপি দলকে সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল করেছেন এবং আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহন অনিশ্চিত করেছেন। জেলা বিএনপির রাজনৈতিক এবং আন্দোলন সংগ্রামের স্থবিরতা বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে যা জাতীয় পত্রিকা গুলোতে ছাপা হয়েছে। এখন আহবায়ক সাহেব তার ব্যর্থতা ঢাকতে যেন তেন ভাবে ৪টি ইউনিটের কমিটি গঠন করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে । দীর্ঘ ৩ বছর আহবায়ক সাহেব সাংগঠনিক ভাবে নিরব থেকে হঠ্যৎ করে অসাংগঠনিক উপায়ে কমিটি গঠন করা সম্পূর্ন বেআইনী । সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠনের জন্য বিএনপির আহবায়ক কমিটির সভা ডেকে মতামত নেওয়া জরুরী । কিন্তু এ ক্ষেত্রে জেলা বিএনপি কোনরুপ সভা না ডেকে, তৃনমুলকে উপেক্ষা করে কমিটি গঠনের অগনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বের ফলে জেলা জুড়ে তৃনমুলের নেতা কর্মীদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাশ^বর্তী জেলা খুলনা ও যশোহর তৃনমুলের প্রত্যক্ষ ভোটে থানা,পৌর ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে সেখানে হঠ্যৎ করে দীর্ঘদিন নিরব থেকে অসাংগঠনিকভাবে কমিটি গঠনের তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক যা দলকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, জেলা বিএনপিকে বাচাতে আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের অংশ গ্রহনে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পৌর, উপজেলা কমিটি গঠনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানানোর জন্য আজকের এ সংবাদ সম্মেলন ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাগেরহাট সদর, কচুয়া, মোংলা উপজেলা ও মোংলা পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পারি। সেখানে কোন স্বাক্ষর ছাড়াই জেলা বিএনপির প্যাডে এই চারটি ইউনিটের আহবায়ক ও সদস্য সচিবের নাম দেখতে পাই। এতে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে ইউনিট কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার দাবি জানান তিনি। সেই সাথে আগামীতে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করতে তৃনমূলের নেতাকর্মীদে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই নেতা।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলম বলেন, যে চারটি ইউনিট নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্ধিত সভা করা হয়েছে। এরপরে যাচাই-বাছাই করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মূলত সৈয়দ নাছির আহমেদ মালেক বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক প্রার্থী ছিলেন। আহবায়ক না হতে পেরে তিনি এই অভিযোগ তুলেছেন।
Md.Liton 











