বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাট সদর উপজেলার রনবিজয়পুর এলাকা থেকে মো. কালাম চাকলাদার (৫৮) নামের এক বিএনপি নেতা ও ঠিকাদারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজ ঘরের শয়নখাটে গলায় গামছা দিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত কালাম চাকলাদার ওই গ্রামের মৃত হাতেম চাকলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে আবুল কালাম সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কালাম চাকলাদারের স্ত্রী শিল্পী আক্তার পেশায় একজন এনজিও কর্মী। সম্প্রতি তিনি স্বামীকে ছেড়ে অন্য জায়গায় সংসার শুরু করেন। এ নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েন ও হতাশার বিষয়টি এলাকায় বেশ চর্চিত ছিল। নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ত্রী শিল্পী আক্তার সন্তানদের নিয়ে শহরে বসবাস করছিলেন। এ সময় আবুল কালাম চাকলাদার নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন।
প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে তার স্বজন ইয়াসমিন বেগম খাবার দিতে বাড়িতে যান। প্রথমে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান, জানালার সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় খাটে বসে আছেন আবুল কালাম চাকলাদার। কাছে গিয়ে তিনি তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
ইয়াসমিন বেগমের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে তার মনে হচ্ছে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল বলেন, আবুল কালাম চাকলাদার ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য ছিলেন। যতদূর জানি, গত কয়েক মাস ধরে তিনি পারিবারিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন। সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তার মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাই।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরিষ্কার হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
\
Md.Liton 











