Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

বাগেরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মৃতের স্বজনদের ঘরে তালা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:31:32 pm, Tuesday, 4 February 2025
  • 585 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটে বিরোধপূর্ণ জমি দখলে রাখতে মৃতের স্বজনদের ঘরে প্রবেশ করতে বাঁধা, ঘরে এবং বাড়ি প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্ততায় বাড়ি প্রবেশের ফটক ও ঘরের তালা খুলে দেন তারা।ন্যাক্তার জনক এই ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাট সদর উপজেলার কালদিয়া গ্রামে।

জানাযায়, রবিবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার কালদিয়া গ্রামের মৃত শেখ ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে শেখ আব্দুর রাজ্জাক (৬৫) ঢাকায় থাকাকালীন অবস্থায় মারা যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে মৃতের চাচাতো ভাই একই বাড়ির বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বাবু ঝামেলা শুরু করেন । তিনি স্বজনদের বাড়ি প্রবেশ করতে বাঁধা দেয়। বাড়ি প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাখেন। পূর্বে থেকে নিহত ও তার ভাইদের বসত ঘরে দেওয়া তালা খুলতে রাজি হয় না। নিহতের মরদেহ নিয়ে নজরুল ইসলাম বাবুর বাড়ির সামনে রাখেন। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বাড়ি ও ফটকের তালা খোলা হয়। এবং মৃতের দাফন সম্পন্ন করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি জোরপূর্বক জমি দখলে রাখতে বছর দুয়েক ধরে এভাবেই অত্যাচার করছেন নজরুল ইসলাম বাবু।
বাগেরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মৃতের স্বজনদের ঘরে তালা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

মৃত শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই শেখ জিল্লুর রহমান বলেন, ১৯৫৫ সালে আমার বাবা মৃত শেখ ইয়াকুব আলী এই বাড়ি তৈরি করেন। এই জমির মালিকানার স্বপক্ষে সব ধরণের কাগজপত্র রয়েছে। এরপরেও ২০২৩ সাল থেকে আমাদের চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম বাবু ও তার ছেলে বাপ্পি শেখ আমাদের বাড়ি দখল করার চেষ্টা করেন। এজন্য আমাকে, আমার স্ত্রী সাবিনা বেগম ও আমার ছোট ভাই মোঃ রিপন শেখকেও মারধর করেছে। কয়েকদিন আগে আমাদের ঘরে থাকা ফ্রীজ, আলমিরা, খাট, পোশাক-আশাক সবকিছু রাতের আধারে নিয়ে যায়। এই অন্যায়কারীর বিচার চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই যুবক।

আব্দুর রাজ্জাকের আরেক ভাই মোঃ রিপন শেখ বলেন, গেল দুই বছরে থানা পুলিশ, আদালত ও স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালীস-মীমাংসা হয়েছে। কিন্তু নজরুল ইসলাম বাবু ও তার ছেলে বাপ্পি শেখ কোন শালীস মানেন না। একের পর এক আমাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার ভাই মারা গেছে, এর পরেও আমরা এসে আমার বাবার ঘরে প্রবেশ করতে পারিনি। এত অত্যাচার মানুষ, মানুষের উপর করে না।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে এটা আদালত বা স্থানীয় শালীস মিমাংসার মাধ্যমে সমাধান হবে। কিন্তু একজন মানুষের বসত ঘর তালা দিয়ে রাখা, বাড়ি প্রবেশের পথ ও মরদেহ আটকে রাখা তো কোন সমাধান হতে পারে না। নজরুলের বিচার হওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

ওই বাড়িতে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, নজরুল ইসলাম বাবু একজন অত্যাচারী মানুষ। তার অত্যাচারে এর আগে এখলাছ, রুপিয়া ও নজরুলের আপন ভাই এই বাড়ি থেকে চলে গেছে। নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার বংশের অন্য লোকদেরও মারধর ও অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। নিরহ ওই পরিবারের শান্তির জন্য নজরুলের হাত থেকে এদের বাঁচানো উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ওই জমির দলিল আমার, এ কারণে আমি ঘরে তালা মেরে ছিলাম। আর মরদেহটি রাস্তার উপর রাখা ছিল, যার কারণে আমি এনে আমার ঘরের সামনে রেখেছি। স্থানীয়রা বললে, গেটে তালা খুলে দিয়েছি। ঘরের তালা ওরা নিজেরা খুলেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, নজরুল ইসলাম বাবু ও তার চাচাতো ভাইদের জমি নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু নজরুল ইসলাম বাবু কারও কথা মানেন না। এর আগে নজরুল ইসলাম বাবু ও তার লোকজন শেখ জিল্লুর রহমানদের ঘর থেকে সব মালামালও নিয়ে গেছে। একটি মরা বাড়িতে তার ভাই-বোনদের প্রবেশে বাঁধা দিয়েছে। স্থানীয় সব বাসিন্দারা তার আচরণে হতবাক হয়ে গেছে। আমাদের সমঝোতায় মরদেহের দাফন ও ঘরের তালা খোলা হয়েছে। আশাকরি আলোচনা সাপেক্ষে একটি সমাধানে আসা যাবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মৃতের স্বজনদের ঘরে তালা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

আপডেট টাইম : 06:31:32 pm, Tuesday, 4 February 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটে বিরোধপূর্ণ জমি দখলে রাখতে মৃতের স্বজনদের ঘরে প্রবেশ করতে বাঁধা, ঘরে এবং বাড়ি প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্ততায় বাড়ি প্রবেশের ফটক ও ঘরের তালা খুলে দেন তারা।ন্যাক্তার জনক এই ঘটনা ঘটেছে বাগেরহাট সদর উপজেলার কালদিয়া গ্রামে।

জানাযায়, রবিবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার কালদিয়া গ্রামের মৃত শেখ ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে শেখ আব্দুর রাজ্জাক (৬৫) ঢাকায় থাকাকালীন অবস্থায় মারা যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে মৃতের চাচাতো ভাই একই বাড়ির বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বাবু ঝামেলা শুরু করেন । তিনি স্বজনদের বাড়ি প্রবেশ করতে বাঁধা দেয়। বাড়ি প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাখেন। পূর্বে থেকে নিহত ও তার ভাইদের বসত ঘরে দেওয়া তালা খুলতে রাজি হয় না। নিহতের মরদেহ নিয়ে নজরুল ইসলাম বাবুর বাড়ির সামনে রাখেন। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বাড়ি ও ফটকের তালা খোলা হয়। এবং মৃতের দাফন সম্পন্ন করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি জোরপূর্বক জমি দখলে রাখতে বছর দুয়েক ধরে এভাবেই অত্যাচার করছেন নজরুল ইসলাম বাবু।
বাগেরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মৃতের স্বজনদের ঘরে তালা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

মৃত শেখ আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই শেখ জিল্লুর রহমান বলেন, ১৯৫৫ সালে আমার বাবা মৃত শেখ ইয়াকুব আলী এই বাড়ি তৈরি করেন। এই জমির মালিকানার স্বপক্ষে সব ধরণের কাগজপত্র রয়েছে। এরপরেও ২০২৩ সাল থেকে আমাদের চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম বাবু ও তার ছেলে বাপ্পি শেখ আমাদের বাড়ি দখল করার চেষ্টা করেন। এজন্য আমাকে, আমার স্ত্রী সাবিনা বেগম ও আমার ছোট ভাই মোঃ রিপন শেখকেও মারধর করেছে। কয়েকদিন আগে আমাদের ঘরে থাকা ফ্রীজ, আলমিরা, খাট, পোশাক-আশাক সবকিছু রাতের আধারে নিয়ে যায়। এই অন্যায়কারীর বিচার চাই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই যুবক।

আব্দুর রাজ্জাকের আরেক ভাই মোঃ রিপন শেখ বলেন, গেল দুই বছরে থানা পুলিশ, আদালত ও স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালীস-মীমাংসা হয়েছে। কিন্তু নজরুল ইসলাম বাবু ও তার ছেলে বাপ্পি শেখ কোন শালীস মানেন না। একের পর এক আমাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার ভাই মারা গেছে, এর পরেও আমরা এসে আমার বাবার ঘরে প্রবেশ করতে পারিনি। এত অত্যাচার মানুষ, মানুষের উপর করে না।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে এটা আদালত বা স্থানীয় শালীস মিমাংসার মাধ্যমে সমাধান হবে। কিন্তু একজন মানুষের বসত ঘর তালা দিয়ে রাখা, বাড়ি প্রবেশের পথ ও মরদেহ আটকে রাখা তো কোন সমাধান হতে পারে না। নজরুলের বিচার হওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

ওই বাড়িতে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, নজরুল ইসলাম বাবু একজন অত্যাচারী মানুষ। তার অত্যাচারে এর আগে এখলাছ, রুপিয়া ও নজরুলের আপন ভাই এই বাড়ি থেকে চলে গেছে। নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার বংশের অন্য লোকদেরও মারধর ও অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। নিরহ ওই পরিবারের শান্তির জন্য নজরুলের হাত থেকে এদের বাঁচানো উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ওই জমির দলিল আমার, এ কারণে আমি ঘরে তালা মেরে ছিলাম। আর মরদেহটি রাস্তার উপর রাখা ছিল, যার কারণে আমি এনে আমার ঘরের সামনে রেখেছি। স্থানীয়রা বললে, গেটে তালা খুলে দিয়েছি। ঘরের তালা ওরা নিজেরা খুলেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, নজরুল ইসলাম বাবু ও তার চাচাতো ভাইদের জমি নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। কিন্তু নজরুল ইসলাম বাবু কারও কথা মানেন না। এর আগে নজরুল ইসলাম বাবু ও তার লোকজন শেখ জিল্লুর রহমানদের ঘর থেকে সব মালামালও নিয়ে গেছে। একটি মরা বাড়িতে তার ভাই-বোনদের প্রবেশে বাঁধা দিয়েছে। স্থানীয় সব বাসিন্দারা তার আচরণে হতবাক হয়ে গেছে। আমাদের সমঝোতায় মরদেহের দাফন ও ঘরের তালা খোলা হয়েছে। আশাকরি আলোচনা সাপেক্ষে একটি সমাধানে আসা যাবে।