Dhaka , Saturday, 19 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে জাল পর্চা তৈরি করে জমি বিক্রির অভিযোগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:54:09 pm, Sunday, 9 October 2022
  • 164 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাল পর্চা তৈরি করে জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আঃ ছালাম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই দলিলের মাধ্যমে দোকান ভাড়ার চুক্তি করে জমির মূল মালিকদের হয়রানি করছেন জমির ক্রেতারা। উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের মূল ভলিউমে উক্ত খতিয়ানে দলিল প্রদানকারীর নামের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। দলিলের অনুকূলে ভুক্তভোগী পরিবারের করা নামজারি বাতিলের আবেদন বর্তমানে তদন্তনাধীন রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরের ১১৬ নং মৌজার কামারপট্টি ব্রিজ সংলগ্ন জায়গায় আমার বাবা মৃত আব্দুস সাত্তারের বসতবাড়ি। বসতবাড়ির সামনে রাস্তার পাশে এক শতাংশ জমিতে আমাদের ১৮ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া একটি দোকান ঘর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা দোকানটি ভাড়া দিয়ে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে প্রতিবেশী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান ওই জমি দাবি করেন। জমি দাবির স্বপক্ষে তিনি একটি দলিল দেখান। দলিলের নকল উঠিয়ে জানতে পারি আমার চাচা আব্দুস ছালাম ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর মোরেলেগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ৪৪১৫ নং দলিলের মাধ্যমে পাঁচ শতকের বেশি জমি মোঃ মেহেদী হাসানসহ তিনজনের কাছে বিক্রি করেছেন। যে দাগ ও খতিয়ান থেকে জমি বিক্রি করেছে, সেই দাগে চাচার কোন জমি নেই। দলিল যাচাই-বাছাই করে জানতে পারি আমাদের মালিকানাধীন ৬৫৬নং ডিপি খতিয়ানের কাগজ জাল করে নিজের নাম লিখে পর্চা তৈরির মাধ্যমে এই জমি দলিল করেছেন। মোরেলগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসের ভলিউম খাতায় দেখা যায়, ওই ডিপি পর্চায় সোয়া ১১ শতক জমি আছে। ওই জমির দলিল ও মাঠ জরিপ (ডিপি) আমার বাবা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার ও চাচা ইদ্রিস আলীর নামে রয়েছে। সেখানে আব্দুস ছালামের কোন নাম নেই। জমি ক্রেতারা খুব চালাক হওয়ায় ক্রয়ের পরেই অতিদ্রæত সহকারি কমিশনার ভূমির দপ্তর থেকে তাদের নামে নামজারি করিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা দোকানটি ভাড়া দিয়ে আসছি। এর ধারাবাহিকতায় লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অগ্রীম নিয়ে মোঃ শোয়াইব শেখ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে ১১ মাসের জন্য ভাড়া দেই। ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তার ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও না ছেড়ে তিনি জবরদস্তি শুরু করেন। উপরন্তু ভুয়া পর্চায় জমি ক্রেতা মোঃ মেহেদী হাসানের কাছ থেকে একটি ভুল চুক্তির মাধ্যমে ঘর দখল করে রেখেছেন তিনি। রাতের আধারে আমাদের উপর হামলা এবং মারধরও করেছে শোয়াইব ও তার লোকজন। হামলা ও মারধরের মামলায় শোয়াইব ও তার লোকজন ১৮দিন জেলও খেটেছে। তাকে দোকান থেকে নামিয়ে ঘর ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
পাশের দোকানের ভাড়াটিয়া বাচ্চু মাতুব্বর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জমির মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও তার চাচা ইদ্রিস আলী হাওলাদার। কিন্তু হঠাৎ করে শুনি মালিকানা না থাকা স্বত্তেও বাচ্চুর চাচা ওই জমি বিক্রি করেছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক হেলাল তালুকদার বলেন, বাচ্চুর বাবা থেকে এই জমি তারা ভোগ দখল করে। এখন শুনি তাদের জমি নেই, এটা অন্যায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ভাড়াটিয়া মোঃ শোয়াইব শেখ বলেন, আমি কাউকে মারিনি। আমার নামে মামলা দিয়েছে, আমি সেই মামলা আইনগত ভাবে মোকাবেলা করব।
জমি বিক্রেতা আব্দুস সালামের সাথে মুঠোফোনে বারবার ফোন করলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরে তার বাড়িতে যেয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

জমি ক্রেতা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, জমি ক্রয়ের আগে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করিনি। পরবর্তীতে যখন জানতে পারি ডিপি পর্চায় আব্দুস ছালামের নাম নেই। তখন ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এই পর্চা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছি।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সেখ মোস্তাক আহমেদ বলেন, ডিপি ৬৫৬ নং খতিয়ানে দুই জন মালিক রয়েছে। ওখানে আব্দুস ছালামের কোন স্বত্ত¡ নেই। কোনো ভাবে হয়ত জাল পর্চা তৈরি করেছে প্রতারক চক্র।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ আব্দুল মালেক বলেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ৪৪১৫ নং দলিলের বিপরীতে ১৬১৭ নং নামজারি বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে তহশীলদারকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখিত তথ্যের সত্যতা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে জাল পর্চা তৈরি করে জমি বিক্রির অভিযোগ

আপডেট টাইম : 05:54:09 pm, Sunday, 9 October 2022

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাল পর্চা তৈরি করে জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আঃ ছালাম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই দলিলের মাধ্যমে দোকান ভাড়ার চুক্তি করে জমির মূল মালিকদের হয়রানি করছেন জমির ক্রেতারা। উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের মূল ভলিউমে উক্ত খতিয়ানে দলিল প্রদানকারীর নামের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। দলিলের অনুকূলে ভুক্তভোগী পরিবারের করা নামজারি বাতিলের আবেদন বর্তমানে তদন্তনাধীন রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরের ১১৬ নং মৌজার কামারপট্টি ব্রিজ সংলগ্ন জায়গায় আমার বাবা মৃত আব্দুস সাত্তারের বসতবাড়ি। বসতবাড়ির সামনে রাস্তার পাশে এক শতাংশ জমিতে আমাদের ১৮ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া একটি দোকান ঘর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা দোকানটি ভাড়া দিয়ে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে প্রতিবেশী মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান ওই জমি দাবি করেন। জমি দাবির স্বপক্ষে তিনি একটি দলিল দেখান। দলিলের নকল উঠিয়ে জানতে পারি আমার চাচা আব্দুস ছালাম ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর মোরেলেগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ৪৪১৫ নং দলিলের মাধ্যমে পাঁচ শতকের বেশি জমি মোঃ মেহেদী হাসানসহ তিনজনের কাছে বিক্রি করেছেন। যে দাগ ও খতিয়ান থেকে জমি বিক্রি করেছে, সেই দাগে চাচার কোন জমি নেই। দলিল যাচাই-বাছাই করে জানতে পারি আমাদের মালিকানাধীন ৬৫৬নং ডিপি খতিয়ানের কাগজ জাল করে নিজের নাম লিখে পর্চা তৈরির মাধ্যমে এই জমি দলিল করেছেন। মোরেলগঞ্জ সেটেলমেন্ট অফিসের ভলিউম খাতায় দেখা যায়, ওই ডিপি পর্চায় সোয়া ১১ শতক জমি আছে। ওই জমির দলিল ও মাঠ জরিপ (ডিপি) আমার বাবা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার ও চাচা ইদ্রিস আলীর নামে রয়েছে। সেখানে আব্দুস ছালামের কোন নাম নেই। জমি ক্রেতারা খুব চালাক হওয়ায় ক্রয়ের পরেই অতিদ্রæত সহকারি কমিশনার ভূমির দপ্তর থেকে তাদের নামে নামজারি করিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা দোকানটি ভাড়া দিয়ে আসছি। এর ধারাবাহিকতায় লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অগ্রীম নিয়ে মোঃ শোয়াইব শেখ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে ১১ মাসের জন্য ভাড়া দেই। ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তার ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও না ছেড়ে তিনি জবরদস্তি শুরু করেন। উপরন্তু ভুয়া পর্চায় জমি ক্রেতা মোঃ মেহেদী হাসানের কাছ থেকে একটি ভুল চুক্তির মাধ্যমে ঘর দখল করে রেখেছেন তিনি। রাতের আধারে আমাদের উপর হামলা এবং মারধরও করেছে শোয়াইব ও তার লোকজন। হামলা ও মারধরের মামলায় শোয়াইব ও তার লোকজন ১৮দিন জেলও খেটেছে। তাকে দোকান থেকে নামিয়ে ঘর ফিরে পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
পাশের দোকানের ভাড়াটিয়া বাচ্চু মাতুব্বর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জমির মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও তার চাচা ইদ্রিস আলী হাওলাদার। কিন্তু হঠাৎ করে শুনি মালিকানা না থাকা স্বত্তেও বাচ্চুর চাচা ওই জমি বিক্রি করেছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক হেলাল তালুকদার বলেন, বাচ্চুর বাবা থেকে এই জমি তারা ভোগ দখল করে। এখন শুনি তাদের জমি নেই, এটা অন্যায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ভাড়াটিয়া মোঃ শোয়াইব শেখ বলেন, আমি কাউকে মারিনি। আমার নামে মামলা দিয়েছে, আমি সেই মামলা আইনগত ভাবে মোকাবেলা করব।
জমি বিক্রেতা আব্দুস সালামের সাথে মুঠোফোনে বারবার ফোন করলেও, তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরে তার বাড়িতে যেয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

জমি ক্রেতা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, জমি ক্রয়ের আগে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করিনি। পরবর্তীতে যখন জানতে পারি ডিপি পর্চায় আব্দুস ছালামের নাম নেই। তখন ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এই পর্চা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছি।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সেখ মোস্তাক আহমেদ বলেন, ডিপি ৬৫৬ নং খতিয়ানে দুই জন মালিক রয়েছে। ওখানে আব্দুস ছালামের কোন স্বত্ত¡ নেই। কোনো ভাবে হয়ত জাল পর্চা তৈরি করেছে প্রতারক চক্র।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ আব্দুল মালেক বলেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ৪৪১৫ নং দলিলের বিপরীতে ১৬১৭ নং নামজারি বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে তহশীলদারকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখিত তথ্যের সত্যতা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।