Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে নলকুপ ও সরকারি ঘর দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:21:10 pm, Wednesday, 6 September 2023
  • 183 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:সরকারিভাবে বসতঘর ও গভীর নলকুপ বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে গ্রামের হত-দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ঘুষ হিসাবে নগদ টাকা নিয়ে প্রতারণা করছেন বাগেরহাটের খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমনই অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ খানপুর গ্রামের হত-দরিদ্র নারী মুসলিমা খাতুন।

দক্ষিণ খানপুর গ্রামের শারিরিকভাবে কর্মক্ষমহীন নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এবং সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তার স্বামী গত ৩ বছর ধরে শারীরিকভাবে কর্মহীন হয়ে রয়েছে। এক মাত্র ছেলেকে নিয়ে মুসলিমা খাতুন দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালায়। এ অবস্থায় প্রতিদিন কিছু করে একটি বসতঘর ও একটি গভীর নলকুপের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। মুসলিমা খাতুন পরিবার আওয়ামী মতাদর্শের হওয়ায় খান পুর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সভাপতি ফকির ফহম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ইউপি সদস্য খাদিজা পারভীন শিলার সাথে সম্পর্ক হয়। ফলে দুই লাখ টাকা সঞ্চয়ের বিষয়টি জানতে পেরে সরকারি ঘর বরাদ্দর জন্য উপর মহলে ঘুষ দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অথচ সঞ্চয়ের বেশীরভাগ অর্থ স্বামীর চিকিৎসায় খরচ হয়েছে। এরপরও এনজিও থেকে লোন ও ধার-দেনা করে দাবি অনুযায়ী ঘর বাবদ অগ্রিম ৩০ হাজার ও নলকুপ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন মুসলিমা খাতুন। অথচ বসতঘর ও গভীর নলকুপ না পাওয়ায় গত এক মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ঘর ও নলকুপ কবে পাবো জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য জনসম্মুখে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে গ্রাম পুলিশ ও তার পোষ্য ক্যাডার দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেয়। তারা আমার পরিধেয় কাপড় খুলে শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ অবস্থায় উপায়ন্তর না পেয়ে মুসলিমা খাতুন বাড়িতে গিয়ে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর পরামর্শে আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করে গত ২৪ আগস্ট বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ অভিযোগে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না জানিনা। তাই ঘুষখোর ও অ-জনপ্রিয় দলীয় প্রতিকের ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিনের বিচার দাবিতে সরকারের উপর মহলের দৃষ্টি কামনায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন বলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে নলকুপ ও সরকারি ঘর দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট টাইম : 06:21:10 pm, Wednesday, 6 September 2023

বাগেরহাট প্রতিনিধি:সরকারিভাবে বসতঘর ও গভীর নলকুপ বরাদ্দ দেয়ার কথা বলে গ্রামের হত-দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ঘুষ হিসাবে নগদ টাকা নিয়ে প্রতারণা করছেন বাগেরহাটের খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমনই অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ খানপুর গ্রামের হত-দরিদ্র নারী মুসলিমা খাতুন।

দক্ষিণ খানপুর গ্রামের শারিরিকভাবে কর্মক্ষমহীন নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এবং সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তার স্বামী গত ৩ বছর ধরে শারীরিকভাবে কর্মহীন হয়ে রয়েছে। এক মাত্র ছেলেকে নিয়ে মুসলিমা খাতুন দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালায়। এ অবস্থায় প্রতিদিন কিছু করে একটি বসতঘর ও একটি গভীর নলকুপের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। মুসলিমা খাতুন পরিবার আওয়ামী মতাদর্শের হওয়ায় খান পুর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সভাপতি ফকির ফহম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ইউপি সদস্য খাদিজা পারভীন শিলার সাথে সম্পর্ক হয়। ফলে দুই লাখ টাকা সঞ্চয়ের বিষয়টি জানতে পেরে সরকারি ঘর বরাদ্দর জন্য উপর মহলে ঘুষ দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। অথচ সঞ্চয়ের বেশীরভাগ অর্থ স্বামীর চিকিৎসায় খরচ হয়েছে। এরপরও এনজিও থেকে লোন ও ধার-দেনা করে দাবি অনুযায়ী ঘর বাবদ অগ্রিম ৩০ হাজার ও নলকুপ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন মুসলিমা খাতুন। অথচ বসতঘর ও গভীর নলকুপ না পাওয়ায় গত এক মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ঘর ও নলকুপ কবে পাবো জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য জনসম্মুখে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে গ্রাম পুলিশ ও তার পোষ্য ক্যাডার দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেয়। তারা আমার পরিধেয় কাপড় খুলে শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ অবস্থায় উপায়ন্তর না পেয়ে মুসলিমা খাতুন বাড়িতে গিয়ে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর পরামর্শে আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করে গত ২৪ আগস্ট বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ অভিযোগে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না জানিনা। তাই ঘুষখোর ও অ-জনপ্রিয় দলীয় প্রতিকের ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিনের বিচার দাবিতে সরকারের উপর মহলের দৃষ্টি কামনায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দিন বলেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।