বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটে নাশকতার মামলায় বিএনপির ছয় নেতাকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. বিলাল হোসেন এ আদেশ দেন। বিএনপির ওই ছয় নেতা হলেন কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, বাগেরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শাহেদ আলী, জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল তরফদার, যুবনেতা মোশারেফ হোসেন ও মিরাজুল ইসলাম।
বিএনপির নেতাদের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন মন্টু বলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতিসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে এক সপ্তাহের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। আদালত দুই দিনের জন্য তাঁদের কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
এর আগে পুলিশের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য বিএনপির ওই ছয় নেতাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। বিএনপির ওই ৬ নেতাসহ ৩০ জনকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পদযাত্রা কর্মসূচির দিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করেছিল পুলিশ। সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে নাশকতা সৃষ্টির জন্য বিস্ফোরক দ্রব্যসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগে করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার ৩০ জনের মধ্যে ছয়জনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। মামলার এজাহারে নাম থাকা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৮ জনকে গতকাল বুধবার জামিন দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্টের প্রচেষ্টায় লিপ্ত থেকে সেই লক্ষ্যে সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধন, জনগণকে বিভ্রান্ত করাসহ বাসাবাড়ি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে বিস্ফোরক দ্রব্যসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিজেদের দখলে রেখে গোপন বৈঠক করছিল’ মর্মে স্বীকার করেন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পুলিশের একজন এসআই মামলাটি করেন।
তবে বিএনপির নেতাদের দাবি, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পরে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। নেতাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ আবার ওই বাড়িতে আসে। বাড়ির ছাদ থেকে দেশি অস্ত্র ও ককটেল-সদৃশ বস্তু উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। নিজেরা এগুলো এনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে পুলিশ।
Md.Liton 











