Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:24:00 pm, Tuesday, 16 June 2026
  • 78 বার


বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ​বাগেরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছোট ভাই এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোড়ল এই অভিযোগ করেন। ​সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুর রহমান তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও হুমকির তীব্র অভিযোগ তোলেন।
​হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও মামলা
​লিখিত বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল ও ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল আড়পাড়া থেকে ফকিরহাট যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়ল নিহত হন এবং আব্দুল্লাহ মোড়ল গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ​এই ঘটনায় হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ১১ জুন ফকিরহাট থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
​হাফিজুর রহমান মোড়ল নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দাবি করে বলেন,​”আমার ভাইকে হত্যার আগে জামায়াত নেতারা আমাকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করে বলেছিল, ‘আব্দুল্লাহ মোড়ল ও বাদল মোড়ল মার্ডার হলে এর দায়ভার কে নেবে?’ তারা বার বার আমাদের জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যেতে নিষেধ করেছিল। এতেই প্রমাণিত হয় এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তারাই জড়িত।”
​তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াত নেতারা বিভিন্ন প্রতিবাদ সভায় মিথ্যাচার করছেন। জামায়াত নেতাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে তার ভাইকে ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলে’ হত্যা করা হয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তাও মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
​​মামলা দায়েরের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসামি গ্রেপ্তারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের ভাই। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রাজনীতি ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে যেন আমার ভাইয়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়।
​সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহবায়ক ইন্জি. আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম, থানা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহম্মেদ মালেক, সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু, যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তরিকুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েল, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাসুদ,সাধারণ সম্পাদক মান্নান হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে ভাই হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট টাইম : 05:24:00 pm, Tuesday, 16 June 2026


বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ​বাগেরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টায় বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছোট ভাই এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মোড়ল এই অভিযোগ করেন। ​সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুর রহমান তার ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও হুমকির তীব্র অভিযোগ তোলেন।
​হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও মামলা
​লিখিত বক্তব্যে হাফিজুর রহমান বলেন, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল ও ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল আড়পাড়া থেকে ফকিরহাট যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই বাদল মোড়ল নিহত হন এবং আব্দুল্লাহ মোড়ল গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ​এই ঘটনায় হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ১১ জুন ফকিরহাট থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
​হাফিজুর রহমান মোড়ল নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দাবি করে বলেন,​”আমার ভাইকে হত্যার আগে জামায়াত নেতারা আমাকে বিভিন্ন সময় সতর্ক করে বলেছিল, ‘আব্দুল্লাহ মোড়ল ও বাদল মোড়ল মার্ডার হলে এর দায়ভার কে নেবে?’ তারা বার বার আমাদের জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যেতে নিষেধ করেছিল। এতেই প্রমাণিত হয় এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তারাই জড়িত।”
​তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াত নেতারা বিভিন্ন প্রতিবাদ সভায় মিথ্যাচার করছেন। জামায়াত নেতাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে তার ভাইকে ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলে’ হত্যা করা হয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তাও মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
​​মামলা দায়েরের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসামি গ্রেপ্তারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের ভাই। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রাজনীতি ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে যেন আমার ভাইয়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হয়।
​সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহবায়ক ইন্জি. আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম, থানা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহম্মেদ মালেক, সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বুলু, যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তরিকুল ইসলাম, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েল, বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাসুদ,সাধারণ সম্পাদক মান্নান হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেন।