Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভিযাগ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 11:52:07 pm, Wednesday, 22 June 2022
  • 155 বার

রামপাল উপজলার সরকারি রেকর্ডিয় খালে বাঁধ দিয়ে এক শ্রেনীর লোক মাছ চাষ করে আসছেন।

রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা:বাগেরহাটের রামপাল উপজলার একটি এলাকায় সরকারি রেকর্ডিয় খালে বাঁধ দিয়ে এক শ্রেনীর লোক মাছ চাষ করে আসছেন। খালে বাঁধ থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সষ্টি হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের গিলাতলা দেয়ালডাঙ্গা এলাকার কয়েক ব্যাক্তি গিলাতলা পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্যাদলার খালে সেতুর কাছে বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলেছে খালে বাঁধ থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বর্ষা হলে পানিতে এলাকার বাড়ি ঘর তলিয়ে যাচ্ছে। সাধারন মানুষের চলাচল ব্যহত হচ্ছে। এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা বলেন দেয়ালডাঙ্গা এলাকার আবু বকর তরফদার গত ২/৩ বছর খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। আবু বকরের বাঁধের দক্ষিন পাশে ওই খালে রয়েছে মিজান মল্লিকের বাঁধ। তিনিও অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। মিজান মল্লিকের পাশাপাশি রয়েছে তায়েব আলী, বুলু মেম্বার , জাকার শেখ ও ইসরাফিল শেখ এর বাঁধ।

স্থানীয় লোকজন বলেন এরা দীর্ঘদিন ধরে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন।পানি সরবরাহ ঠিক মতো না করায় বর্ষাকালে পানিতে এলাকা তলিয়ে যায়। পানি সরবরাহ ঠিক মতো না করায় রাস্তা-ঘাট পানিতে তলানো থাকে। লোকজন এক স্থান থেকে আরেক স্থানে চলাচল করতে পারেন না। এদিকে গিলাতলা- রামপাল সড়কের চন্ডিতলা নামক স্থানে বাবুল কাজি নামের আরো এক ব্যাক্তি ঘাটের খাল নামক একটি খালে বাঁধ দিয়ে রেখেছেন। এর ফলে এই এলাকায় পানি সরবরাহ ঠিক মতো হচ্ছে না। বর্ষা কালে এলাকায় পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন বলেন এ খালে বাঁধ থাকায় আমাদের বিশেষ করে বর্ষা কালে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। রাস্তা-ঘাট বাড়ি ঘরের চারপাশ পানিতে তলানো থাকে। সরোজমিন ওই বাঁধের কাছে গিয়ে দেখা গেছে পানি সরবরাহ করার জন্য ছোট একটি পাইপ বসানো হয়েছে। ওই পাইপ দিয়ে যে পানি বের হচ্ছে তা এলাকাবাসির তেমন কাজ আসছে না। এলাকাবাসি বলেছে এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ওই খালের বাঁধ কেটে না দিলে তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। এ ছাড়াও হুড়কা, পেড়িখালীর সাতপুকুরিয়া, ঝনঝনিয়ায় শাহীন, হাফিজুর রহমান ও সালাম মেম্বার বেশ কিছু খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেন এক শ্রেনীর লোক দীঘদিন ধরে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারনে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র বাগেরহাট জেলা নেতা এম, এ সবুর রানা বলেন, বাগেরহাটে নদী খাল দখলের মহোৎসব চলছে। প্রশাসন নির্বিকার। এক দিকে সরকার নদী খাল সচলের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ দিয়েছেন। অন্য দিকে সরকারি সংস্থাসহ নদী খাল খেকোরা বাঁধ দিয়ে ও স্থাপনা নির্মাণ করে নদী রক্ষা আইন অমান্য করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। প্রশাসনিক ভাবে এসব অবৈধ খাল দখল কারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগের খেসারত দিতে হয় সাধারন মানুষকে।

উপজেলা প্রশাসন বলছেন যেসব সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ আছে তা চিহ্নিত করে বাঁধ কাটার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সরকারি খালে থাকা অবৈধ বাঁধ কেট দেয়া হয়েছে। যে সব খালে এখনও বাঁধ আছে তা সহসা কেটে দেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভিযাগ

আপডেট টাইম : 11:52:07 pm, Wednesday, 22 June 2022

রামপাল উপজলার সরকারি রেকর্ডিয় খালে বাঁধ দিয়ে এক শ্রেনীর লোক মাছ চাষ করে আসছেন।

রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা:বাগেরহাটের রামপাল উপজলার একটি এলাকায় সরকারি রেকর্ডিয় খালে বাঁধ দিয়ে এক শ্রেনীর লোক মাছ চাষ করে আসছেন। খালে বাঁধ থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সষ্টি হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়নের গিলাতলা দেয়ালডাঙ্গা এলাকার কয়েক ব্যাক্তি গিলাতলা পশ্চিম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্যাদলার খালে সেতুর কাছে বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বলেছে খালে বাঁধ থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বর্ষা হলে পানিতে এলাকার বাড়ি ঘর তলিয়ে যাচ্ছে। সাধারন মানুষের চলাচল ব্যহত হচ্ছে। এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা বলেন দেয়ালডাঙ্গা এলাকার আবু বকর তরফদার গত ২/৩ বছর খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। আবু বকরের বাঁধের দক্ষিন পাশে ওই খালে রয়েছে মিজান মল্লিকের বাঁধ। তিনিও অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। মিজান মল্লিকের পাশাপাশি রয়েছে তায়েব আলী, বুলু মেম্বার , জাকার শেখ ও ইসরাফিল শেখ এর বাঁধ।

স্থানীয় লোকজন বলেন এরা দীর্ঘদিন ধরে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন।পানি সরবরাহ ঠিক মতো না করায় বর্ষাকালে পানিতে এলাকা তলিয়ে যায়। পানি সরবরাহ ঠিক মতো না করায় রাস্তা-ঘাট পানিতে তলানো থাকে। লোকজন এক স্থান থেকে আরেক স্থানে চলাচল করতে পারেন না। এদিকে গিলাতলা- রামপাল সড়কের চন্ডিতলা নামক স্থানে বাবুল কাজি নামের আরো এক ব্যাক্তি ঘাটের খাল নামক একটি খালে বাঁধ দিয়ে রেখেছেন। এর ফলে এই এলাকায় পানি সরবরাহ ঠিক মতো হচ্ছে না। বর্ষা কালে এলাকায় পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন বলেন এ খালে বাঁধ থাকায় আমাদের বিশেষ করে বর্ষা কালে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। রাস্তা-ঘাট বাড়ি ঘরের চারপাশ পানিতে তলানো থাকে। সরোজমিন ওই বাঁধের কাছে গিয়ে দেখা গেছে পানি সরবরাহ করার জন্য ছোট একটি পাইপ বসানো হয়েছে। ওই পাইপ দিয়ে যে পানি বের হচ্ছে তা এলাকাবাসির তেমন কাজ আসছে না। এলাকাবাসি বলেছে এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ওই খালের বাঁধ কেটে না দিলে তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। এ ছাড়াও হুড়কা, পেড়িখালীর সাতপুকুরিয়া, ঝনঝনিয়ায় শাহীন, হাফিজুর রহমান ও সালাম মেম্বার বেশ কিছু খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি বলেন এক শ্রেনীর লোক দীঘদিন ধরে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারনে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র বাগেরহাট জেলা নেতা এম, এ সবুর রানা বলেন, বাগেরহাটে নদী খাল দখলের মহোৎসব চলছে। প্রশাসন নির্বিকার। এক দিকে সরকার নদী খাল সচলের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ দিয়েছেন। অন্য দিকে সরকারি সংস্থাসহ নদী খাল খেকোরা বাঁধ দিয়ে ও স্থাপনা নির্মাণ করে নদী রক্ষা আইন অমান্য করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। প্রশাসনিক ভাবে এসব অবৈধ খাল দখল কারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগের খেসারত দিতে হয় সাধারন মানুষকে।

উপজেলা প্রশাসন বলছেন যেসব সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ আছে তা চিহ্নিত করে বাঁধ কাটার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সরকারি খালে থাকা অবৈধ বাঁধ কেট দেয়া হয়েছে। যে সব খালে এখনও বাঁধ আছে তা সহসা কেটে দেয়া হবে।