Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

বাগেরহাটে ২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 02:15:52 pm, Tuesday, 25 August 2026
  • 71 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ও পিরোজপুরের নাজিরপুর সীমান্তবর্তী মরা বলেশ্বর নদীর ওপর প্রায় ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১৪ মিটার দীর্ঘ একটি আর্চ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সেতুর নাজিরপুর প্রান্তে যানবাহন চলাচলের উপযোগী কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সেতুটি নির্মাণ শেষ হলেও তা কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আন্দারমানিক ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শেখমাঠিয়া এলাকার সীমান্তে মরা বলেশ্বর নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নদীর যে অংশের ওপর সেতুটি নির্মিত হচ্ছে, তার প্রস্থ প্রায় ২০ মিটার। অথচ সেতুটির দৈর্ঘ্য ১১৪ মিটার। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে সেতুটির নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এআরসি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম জানিয়েছেন, সেতুর প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কচুয়া প্রান্তে সেতুর সঙ্গে ১২ ফুট প্রশস্ত একটি পাকা সড়ক রয়েছে। অন্যদিকে নাজিরপুর প্রান্তে নদীর তীর পর্যন্ত যাওয়ার জন্য সরু একটি কাঁচা পথ ছাড়া কোনো প্রশস্ত বা পাকা সড়ক নেই। ওই পথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলও সম্ভব নয়। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, মাত্র ২০ মিটার প্রশস্ত নদীর ওপর কেন ১১৪ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেতুর এক প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের পাশাপাশি দুই প্রান্তে কার্যকর সংযোগ সড়ক না হলে বিচ্ছিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে না। তাই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই নাজিরপুর প্রান্তে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সেতুটির অবস্থান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, ম্যাপ অনুযায়ী নদীর একটি অংশ বাগেরহাট জেলার মধ্যে পড়েছে। সে অনুযায়ী বাগেরহাট থেকে সেতুটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

অন্যদিকে নাজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আসিফ এহসান বলেন, তিনি সম্প্রতি ওই পদে যোগ দিয়েছেন। সেতুটির অনুমোদন ও প্রকল্প প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানা নেই।
২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

স্থানীয়দের দাবি, নদীটি নাজিরপুরের শেখমাঠিয়া এলাকার ৫৪ নম্বর জেএল ও ৬৭ নম্বর মৌজার মধ্যে পড়েছে। এ কারণে সেতুটির প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সেতু নির্মাণে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার, পর্যাপ্ত রড না দেওয়া এবং পাইলের দৈর্ঘ্য নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এআরসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালামের কাছে প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণকাজের সিডিউল দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে রাজি হননি। নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, ‘কাজের অনিয়ম ও সিডিউল গোপনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।’

সংযোগ সড়ক ছাড়া প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি সম্প্রতি ওই পদে যোগ দিয়েছেন। তাঁর আগে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তারা বিষয়টি দেখে কাজ করেছেন।

২০ মিটার নদীর ওপর ১১৪ মিটার সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রশিদ বলেন, প্রাথমিক প্রস্তাবে সেতুটি এত লম্বা ছিল না। পরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প শ্রেণিবিন্যাসের কারণে সেতুটির দৈর্ঘ্য বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অফিসে আসেন, আমি বিষয়টি বুঝিয়ে দেব।’

২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইআরডি প্রকল্পটির বিষয়ে অবগত নয় কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানার কথা। দুই উপজেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে যৌথভাবে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি তাদের জানার কথা বলে মন্তব্য করেন।

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ এসব সড়ক নির্মাণ হবে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি সেতুর নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং নাজিরপুর প্রান্তে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে জনগণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

বাগেরহাটে ২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

আপডেট টাইম : 02:15:52 pm, Tuesday, 25 August 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ও পিরোজপুরের নাজিরপুর সীমান্তবর্তী মরা বলেশ্বর নদীর ওপর প্রায় ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১৪ মিটার দীর্ঘ একটি আর্চ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সেতুর নাজিরপুর প্রান্তে যানবাহন চলাচলের উপযোগী কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে সেতুটি নির্মাণ শেষ হলেও তা কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার আন্দারমানিক ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শেখমাঠিয়া এলাকার সীমান্তে মরা বলেশ্বর নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নদীর যে অংশের ওপর সেতুটি নির্মিত হচ্ছে, তার প্রস্থ প্রায় ২০ মিটার। অথচ সেতুটির দৈর্ঘ্য ১১৪ মিটার। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে সেতুটির নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এআরসি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম জানিয়েছেন, সেতুর প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কচুয়া প্রান্তে সেতুর সঙ্গে ১২ ফুট প্রশস্ত একটি পাকা সড়ক রয়েছে। অন্যদিকে নাজিরপুর প্রান্তে নদীর তীর পর্যন্ত যাওয়ার জন্য সরু একটি কাঁচা পথ ছাড়া কোনো প্রশস্ত বা পাকা সড়ক নেই। ওই পথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলও সম্ভব নয়। বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, মাত্র ২০ মিটার প্রশস্ত নদীর ওপর কেন ১১৪ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেতুর এক প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতু নির্মাণের পাশাপাশি দুই প্রান্তে কার্যকর সংযোগ সড়ক না হলে বিচ্ছিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে না। তাই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই নাজিরপুর প্রান্তে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সেতুটির অবস্থান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, ম্যাপ অনুযায়ী নদীর একটি অংশ বাগেরহাট জেলার মধ্যে পড়েছে। সে অনুযায়ী বাগেরহাট থেকে সেতুটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

অন্যদিকে নাজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আসিফ এহসান বলেন, তিনি সম্প্রতি ওই পদে যোগ দিয়েছেন। সেতুটির অনুমোদন ও প্রকল্প প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানা নেই।
২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

স্থানীয়দের দাবি, নদীটি নাজিরপুরের শেখমাঠিয়া এলাকার ৫৪ নম্বর জেএল ও ৬৭ নম্বর মৌজার মধ্যে পড়েছে। এ কারণে সেতুটির প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সেতু নির্মাণে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার, পর্যাপ্ত রড না দেওয়া এবং পাইলের দৈর্ঘ্য নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এআরসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালামের কাছে প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণকাজের সিডিউল দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে রাজি হননি। নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, ‘কাজের অনিয়ম ও সিডিউল গোপনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে।’

সংযোগ সড়ক ছাড়া প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি সম্প্রতি ওই পদে যোগ দিয়েছেন। তাঁর আগে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তারা বিষয়টি দেখে কাজ করেছেন।

২০ মিটার নদীর ওপর ১১৪ মিটার সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রশিদ বলেন, প্রাথমিক প্রস্তাবে সেতুটি এত লম্বা ছিল না। পরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প শ্রেণিবিন্যাসের কারণে সেতুটির দৈর্ঘ্য বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অফিসে আসেন, আমি বিষয়টি বুঝিয়ে দেব।’

২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইআরডি প্রকল্পটির বিষয়ে অবগত নয় কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানার কথা। দুই উপজেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে যৌথভাবে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি তাদের জানার কথা বলে মন্তব্য করেন।

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ এসব সড়ক নির্মাণ হবে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি সেতুর নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং নাজিরপুর প্রান্তে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে জনগণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।