আমার ডেক্স:পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফুটবলের বড় বড় প্রায় সব রেকর্ড ব্রাজিলের দখলে। এই ব্রাজিল জন্ম দিয়েছে পেলে, সক্রেটিস, জিকো, গারিঞ্চা, রোমিরিও, রোনালদিনহো, রোনাল্ডোর মতো কিংদন্তি ফুটবলারদের। সেই দলটিই এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে রীতিমত অচেনা। বিশ্বকাপ জিতেছিল ২১ বছর আগে। ২০১৯ কোপা আমেরিকার পর জেতেনি কোনো মেজর ট্রফি।ব্রাজিলের ফুটবল ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এর মধ্যে আবার ফুটবল ফেডারেশনে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ফিফার নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে রেকর্ড বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফুটবলের সম্রাটখ্যাত পেলে একাই জিতেছিলেন তিনটি বিশ্বকাপ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পরলোকগমন করেন ব্রাজিল তথা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা।
গত বছর কাতার বিশ্বকাপের সময় অসুস্থ ছিলেন পেলে। বেশিরভাগ খেলাই দেখেছেন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। সে বিশ্বকাপে ৯ ডিসেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ছিটকে পড়ে ব্রাজিল। এর ২০ দিন পরই ৮২ বছর বয়সে মারা যান পেলে।
আজ শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) পেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তার আগে ‘এএফপি’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছেলে এডিনহোর কণ্ঠে ঝরে পড়ে আক্ষেপ। বলেন, বাবা বেঁচে থাকলে ব্রাজিলের এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট পেতেন।
ব্রাজিলের ফুটবলে সর্বশেষ সুপারস্টার নেইমার। তবে ইনজুরির কারণে তিনি মাঠের বাইরে। ব্রাজিল ধুঁকছে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাইয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে তারা। ফলে বিশ্বকাপ খেলাও অনিশ্চয়তায়।
সেলেসাওদের এই দুর্দশা নিয়ে এডিনহো বলেন, ‘এই বিপর্যয় তো রাতারাতি হয়নি। এর পেছনে অনেক বড় এবং জটিল সমস্যা আছে।’
৫৩ বছর বয়সী এডিনহো যোগ করেন, ‘আমরা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছি। এখনও আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। কিন্তু আগে এখনকার তুলনায় অনেক বেশি উঁচুমানের খেলোয়াড় ছিল।’
পেলের সাত সন্তানের একজন এডিনহো, মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন। ১৯৭৫ সালে পেলে নিউইয়র্ক কসমসে নাম লেখানোর পর এডিনহোর মায়ের থেকে আলাদা হয়ে যান পেলে। শেষ সময়ে অবশ্য বাবার সান্নিধ্য পেয়েছেন এডিনহো।
সেই সময়েই দেখেছেন, ব্রাজিলের ফুটবলকে কতটা ভালোবাসতেন পেলে। সেই দেখা থেকেই তিনি বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, তিনি (পেলে) যদি এ বছর বেঁচে থাকতেন, অনেক কষ্ট পেতেন।’
বাবাকে নিয়ে এডিনহোর কথা, ‘তিনি আসলে অনন্য। আমরা তাকে অনেক মিস করি। ফুটবলের মাধ্যমে তিনি আমাদের দেশকে বয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা এটা নিয়ে গর্ব করি।’
Md.Liton 










