Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

মাজার দিঘি থেকে কুমিরের টেনে নেওয়া সেই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:34:47 pm, Tuesday, 2 June 2026
  • 73 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের ঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান। এর বাইরে তার আর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
যেভাবে উদ্ধার হলো মরদেহ

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের কাছে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধারকারীরা তা তীরে নিয়ে আসেন।

ঘাটের পাশে থাকা স্থানীয় দোকানি বিনা বেগম জানান, “ভোরে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের গভীর ক্ষত ও নখের দাগ রয়েছে।”

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। শিশু ফাতেমা ঘাটে নামার পরপরই দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি তাকে আচমকা আক্রমণ করে গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। ওই সময় শিশুটি এবং ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলেও, ভয়ে এবং আতঙ্কে কেউ পানিতে নেমে শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায় কুমিরটি।
দাফনের প্রস্তুতি ও মাজার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। সে যেহেতু একজন ভবঘুরে ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান এবং তার সুনির্দিষ্ট কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি, তাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে তার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মাজার ও আশেপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাজার দিঘির ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

মাজার দিঘি থেকে কুমিরের টেনে নেওয়া সেই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট টাইম : 06:34:47 pm, Tuesday, 2 June 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের ঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান। এর বাইরে তার আর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
যেভাবে উদ্ধার হলো মরদেহ

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের কাছে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধারকারীরা তা তীরে নিয়ে আসেন।

ঘাটের পাশে থাকা স্থানীয় দোকানি বিনা বেগম জানান, “ভোরে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের গভীর ক্ষত ও নখের দাগ রয়েছে।”

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। শিশু ফাতেমা ঘাটে নামার পরপরই দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি তাকে আচমকা আক্রমণ করে গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। ওই সময় শিশুটি এবং ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলেও, ভয়ে এবং আতঙ্কে কেউ পানিতে নেমে শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায় কুমিরটি।
দাফনের প্রস্তুতি ও মাজার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। সে যেহেতু একজন ভবঘুরে ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান এবং তার সুনির্দিষ্ট কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি, তাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে তার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মাজার ও আশেপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাজার দিঘির ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে।