আগামী প্রজন্মের জন্য বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির বন্যপ্রানীর পরিচিতি লাভের আশায় সুন্দরবনের মৃত্যু প্রানীর দেহবশেষ সংরক্ষনের উদ্দ্যোগ নেয় বন মন্ত্রনালয়।
মোংলা প্রতিনিধি:দেশ-বিদেশী পর্যটকট ও শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা, গবেষনা ও বিনোদনের উদ্দোশ্যে মৃত্যু বন্যপ্রানী সংরক্ষনে ইন্টারপিটিশন ও তথ্য কেন্দ্র তৈরী করছে বন বিভাগ। মোংলার সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র সংলগ্নে এক একর জায়গা নিয়ে বন মন্ত্রনালয়ের অধিনে এ প্রতিষ্ঠানটি তৈরী করা হচ্ছে। বন বিভাগ বলছে, এই প্রথম সুন্দরবনে থাকা সব ধরণের বন্যপ্রানী এবং বিলুপ্ত প্রজাতির প্রানীদের দেহবশেষ সংরক্ষন করা হবে, যা দেখে সহজেই পরিচিত হতে পারে বনের সৌন্দার্য উপভোগ করতে আসা ভ্রমন পিাশুরা। সুন্দরবন থেকে আয় বাড়বে সরকারে রাজস্ব ক্ষাতে।
বন বিভাগ সুত্রে জানায়, প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক সুন্দরবন, বনের এক একটি গাছ উজার হওয়ার সংঙ্গে সংঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রানী, ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে প্রানীর সংখ্যাও। এরই মধ্যে সুন্দরবন থেকে বহু বন্যপ্রানী বিলুপ্ত হয়েছে, যার অস্তিত্বও খুজেই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির বন্যপ্রানীর পরিচিতি লাভের আশায় সুন্দরবনের মৃত্যু প্রানীর দেহবশেষ সংরক্ষনের উদ্দ্যোগ নেয় বন মন্ত্রনালয়। এরই মধ্যে একটি প্রকল্পও গ্রহন করা হয়েছে। বন্যপ্রানীদের দুই ধরনের সংরক্ষন করা হয়, যেমন জীবিত ও মৃত। দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবিত বন্য প্রানীদের সংরক্ষন কর হলেও সুন্দরবনে সরকারী ভাবে এই প্রথম সকল ধরণেল মৃত বন্যপ্রানীদের দেহবাশেষ সংরক্ষন করার জন্য এক একর জমির উপর ইন্টারপিটিশন ও তথ্য কেন্দ্র তৈরী করা হচ্ছে। যার কাজও চলমান রয়েছে।
সুন্দরবনের পর্যটক ষ্পট করমজলে পশ্চিম পাশে নতুন নির্মিত দ্বিতলা বভনের এ কেন্দ্রটি ২০২২ সালের জুনে এর কার্যক্রম শুরু হয়, যা ২০২২-২৩ অর্থ বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানায় বন বিভাগ। সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশ থেকে প্রাকৃতিক ভাবে যে বন্যপ্রানী মারা যাবে সেগুলো করমজলের এ কেন্দ্রেটিতে সংরক্ষন করা হবে। ভবিষ্যতে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র রক্ষায় করমজল পর্যটক স্পটে ভ্রমনে আসা দেশ-বিদেশী দর্শনার্থীদের জ্ঞান অর্জন সহ শিক্ষা, গবেষনা ও বিনোদনের উদ্দোশ্যেই সরকার এ প্রকল্পটি গ্রহন করেছে। প্রথমে একটি কুমির ও ২টি মৃত বাঘের কংঙ্কাল দিয়ে এ কেন্দ্রটির শুভ সুচনা করতে যাচ্ছে বন বিভাগ। এখানে পরিবেশ সংরক্ষন কাজের প্রতিনিধি মোঃ আরাফাত রহমান ও বঙ্গবন্ধু সেতু অঞ্চলের যাদু ঘরের সংরক্ষনকারী প্রানী বিশেষজ্ঞ মোঃ জুয়েল রানা সহ বন বিভাগের কয়েজন বনরক্ষীরা “ইন্টারপিটিশন এন্ড ইনফরমেশন সেন্টার কাম ছুবেনিয়র সপ” বা সুন্দরবনের বন্যপ্রানীদের তথ্য কেন্দ্র’র কাজের সহায়তা করছে।
এ কেন্দ্রটি বভিষ্যতে দেশ-বিদেশী বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষনাকে কাজে লাগানো ছাড়াও আগামীতে সুন্দরবনে একটি বড় মিউযিয়াম তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের বলেও জানায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, এই সুন্দরবনে থাকা বড় বড় প্রানী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়া স্প্রতি সময়ও এ বনের অনেক প্রানী হারিয়ে যেতে বসেছে, যা মানুষ এখন না দেখলে চিনতে পারছেন না। তাই অতিতের হারিয়ে যাওয়ার বন্য প্রানীদের কথা চিন্তা করে সরকার এ গবেষনা কেন্দ্র তৈরীর পরিকল্পনা হাতে নেয়।
পুর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনের বন্যপ্রানীদের প্রতিকৃতি সংরক্ষন করা হবে। এছাড়া বনের যাবতীয় তথ্য সেখানে সংরক্ষ থাকবে, যাতে পর্যটক ও গবেষকরা এসে সুন্দরবনের বন্যপ্রানী সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা নিতে পারে এবং সুন্দরবন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তারা জানতে পারে এ উদ্দোশ্য ও লক্ষ নিয়ে বন বিভাগ এ কেন্দ্রটি নির্মান করছে।
২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে বন বিভাগের উদ্যোগে ৮ একর জমির ওপর সরকার গড়ে তোলে দেশের একমাত্র বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রটি। সাথে এখন নতুন আরো একটি প্রকল্প যোগ হলো।
Md.Liton 











