Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই

মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে ভূমিদস্যুদের বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা ভন্ডুল প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 01:57:39 pm, Sunday, 15 March 2026
  • 58 বার

রামপাল প্রতিনিধি:বাগেরহাটের রামপালে মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের একটি অংশে বাঁধ দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগের খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে বাঁধ নির্মাণ ভন্ডুল করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী।

জানা গেছে, মোংলা-ঘোষিয়াখালী ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির ৫ কিলোমিটার নদী খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। এক সময় চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার নদী ভরাটি জমি কথিত জমির মালিকেরা নদী ভাঙা জমির কাগজপত্র তৈরি করে হাজার একর জমি দখল করে নেয়। এছাড়াও সরকারি মালিকানা জমিও দখলবাজেরা দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে ও মৎস্য চাষ শুরু করে দখলে নেয়। বিগত সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাবে কোটি কোটি টাকার জমি এভাবে বেহাত হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে বিগত সেটেলমেন্ট জরিপের সময় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদী ভাঙা জমি রেকর্ড করায়। শিখস্তি বা পয়োস্তি দাবি করে আবার কেউ কেউ নদী ভরাটি জমি নিজের দাবি করে আদালত থেকে একতরফা রায় করিয়ে সরকারি জমি মালিকানায় নিয়েছে।

এভাবে মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার ৫ কিলোমিটার নদীর চর ভরাটি হাজার একর জমি দখল হয়ে গেছে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী নদীর তীরভূমি বা প্লাবনভূমি সরকারের মালিকানায় থাকার কথা। কিন্তু সেসব জমি এখন ভূমিদস্যুের পেটে। তারা এখানেই থামেনি। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে একের পর এক দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে নদী ও খাল।

গত ১২ মার্চ সকালে চ্যানেল দখলের বিষয়টি রামপাল-মোংলা আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামকে জানান এলাকাবাসী। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী তাৎক্ষণিকভাবে মুজিবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সরেজমিনে গিয়ে তিনি চ্যানেলে বাঁধ দিতে দেখেন।

জমির মালাকানা দাবি করা উপস্থিত ফকির রুহুল আমিনকে প্রশ্ন করা হয়, চ্যানেলে বাঁধ দিচ্ছেন কেন? সে জানায় জমি তার ভাই শাহাদাৎ, জাফর ও তাদের। তাই সে বাঁধ দিচ্ছে! কড়া ভাষায় বাঁধ দেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেন সহকারী কমিশনার।

ওই একই সময়ে স্যাদলার পাশ খালের বাঁধ দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়াও বাইনতলা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রাম জনৈক সৈয়দ জাহিদ হোসেনের দখলে থাকা কাটাখালির খাল এ গোহালটের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুসিয়ার করেন তিনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার

মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে ভূমিদস্যুদের বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা ভন্ডুল প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে

আপডেট টাইম : 01:57:39 pm, Sunday, 15 March 2026

রামপাল প্রতিনিধি:বাগেরহাটের রামপালে মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের একটি অংশে বাঁধ দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগের খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলামের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করে বাঁধ নির্মাণ ভন্ডুল করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী।

জানা গেছে, মোংলা-ঘোষিয়াখালী ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটির ৫ কিলোমিটার নদী খনন না করায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। এক সময় চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার নদী ভরাটি জমি কথিত জমির মালিকেরা নদী ভাঙা জমির কাগজপত্র তৈরি করে হাজার একর জমি দখল করে নেয়। এছাড়াও সরকারি মালিকানা জমিও দখলবাজেরা দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে ও মৎস্য চাষ শুরু করে দখলে নেয়। বিগত সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাবে কোটি কোটি টাকার জমি এভাবে বেহাত হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে বিগত সেটেলমেন্ট জরিপের সময় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদী ভাঙা জমি রেকর্ড করায়। শিখস্তি বা পয়োস্তি দাবি করে আবার কেউ কেউ নদী ভরাটি জমি নিজের দাবি করে আদালত থেকে একতরফা রায় করিয়ে সরকারি জমি মালিকানায় নিয়েছে।

এভাবে মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের মুজিবনগর এলাকার ৫ কিলোমিটার নদীর চর ভরাটি হাজার একর জমি দখল হয়ে গেছে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী নদীর তীরভূমি বা প্লাবনভূমি সরকারের মালিকানায় থাকার কথা। কিন্তু সেসব জমি এখন ভূমিদস্যুের পেটে। তারা এখানেই থামেনি। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে একের পর এক দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে নদী ও খাল।

গত ১২ মার্চ সকালে চ্যানেল দখলের বিষয়টি রামপাল-মোংলা আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামকে জানান এলাকাবাসী। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী তাৎক্ষণিকভাবে মুজিবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সরেজমিনে গিয়ে তিনি চ্যানেলে বাঁধ দিতে দেখেন।

জমির মালাকানা দাবি করা উপস্থিত ফকির রুহুল আমিনকে প্রশ্ন করা হয়, চ্যানেলে বাঁধ দিচ্ছেন কেন? সে জানায় জমি তার ভাই শাহাদাৎ, জাফর ও তাদের। তাই সে বাঁধ দিচ্ছে! কড়া ভাষায় বাঁধ দেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেন সহকারী কমিশনার।

ওই একই সময়ে স্যাদলার পাশ খালের বাঁধ দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়াও বাইনতলা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রাম জনৈক সৈয়দ জাহিদ হোসেনের দখলে থাকা কাটাখালির খাল এ গোহালটের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুসিয়ার করেন তিনি।