Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

মোল্লাহাটে অনাবৃষ্টি ও খরায় চিংড়ি চাষাবাদ অনিশ্চিত

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 08:00:30 pm, Thursday, 1 September 2022
  • 132 বার

মোল্লাহাট প্রতিনিধি:মোল্লাহাটে অনাবৃষ্টি ও খরায় সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার চুনখোলা, গাংনী, কুলিয়া ইউনিয়নের সাত হাজারেরও বেশি মাছের ঘেরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েছে চিংড়ি চাষীরা। ঘেরে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মারা যেতে শুরু করেছে মাছ। এতে চিংড়ি শিল্পের উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এবারের মতো খরা ও অনাবৃষ্টি দেখেনি এখানকার কৃষকরা। যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চিংড়ি উৎপাদনে। এ উপজেলায় সাধারনত ধান এবং চিংড়ি মাছ একই সাথে চাষাবাদ করা হয়। শীতকালে ধান রোপনোর সময় ঘেরের পানি কমিয়ে ক্যানেলে নামিয়ে রাখা হয়। কিন্তু চলমান অনাবৃষ্টি ও খড়ায় ক্যানেলের পানি শুকিয়ে গেছে। এতে ক্যানেলে মাছের ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারনে ক্যানেলের পানিতে অক্সিজেনের পরিমান কমে যাচ্ছে। এতে চিংড়ি মাছসহ অন্যান্য মাছ মারা যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, এ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ১৪ হাজারের বেশি চিংড়ি ঘের রয়েছে। বাগদা চিংড়ির চাষ হয় ৪০৯৩ হেক্টর জমিতে এবং গলদা চিংড়ি চাষ হয় ৫৩১.৮৪ হেক্টর জমিতে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে এ উপজেলায় বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ২২৬১ মেট্রিক টন এবং গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ২৮৬ মেট্রিক টন ।কিন্তু এবছর পানির অভাবে চিংড়ি উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষীরা। একই সাথে এ লোকসান কিভাবে পোষাবেন তা নিয়ে তারা আছেন দুশ্চিন্তায়।

উপজেলার দারিয়ালা গ্রামের মৎস্য চাষী মোল্লা জসিম উদ্দিন জানান, আমি ধান বিক্রি করে এবং লোন নিয়ে ৫০ হাজার রেনু পোনা ঘেরে ছেড়েছি। চলমান আবহাওয়ার কারণে আমার পুরাতন এবং নতুন সব মাছ মারা গেছে আমি একটি মাছ ও বিক্রি করতে পারি নাই। এখন সরকারিভাবে যদি সহযোগীতা করেলে তাহলে ঘুরে দাড়াতে পারবো।

উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামের মৎস্য চাষী কিবরিয়া শেখ বলেন, বিগত ৪০ বছরেও এত রোদ দেখিনি। এখন ভাদ্র মাস চলে ঘেরে মাজা পর্যন্ত পানি থাকার কথা। সেখানে শিশুরা ঘেরের মধ্যে খেলাধুলা করছে। এঅবস্থায় মৎস্য চাষ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মোল্লাহাট সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম জানান, বর্তমানে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে মৎস্য চাষীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। অত্র মোল্লাহাটে ১৪ হাজারের বেশী বাগদা ও গলদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজারের বেশী ঘের পানি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে মাছ এবং চিংড়ির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে । এ অবস্থায় আমরা চাষীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চলমান মৌসুম শেষে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের তালিকা করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে তাদের যদি সাহায্য সহযোগী করা যায় তাহলে আমরা সেই ব্যবস্থা করবো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোল্লাহাটে অনাবৃষ্টি ও খরায় চিংড়ি চাষাবাদ অনিশ্চিত

আপডেট টাইম : 08:00:30 pm, Thursday, 1 September 2022

মোল্লাহাট প্রতিনিধি:মোল্লাহাটে অনাবৃষ্টি ও খরায় সাদা সোনাখ্যাত চিংড়ি চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার চুনখোলা, গাংনী, কুলিয়া ইউনিয়নের সাত হাজারেরও বেশি মাছের ঘেরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েছে চিংড়ি চাষীরা। ঘেরে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মারা যেতে শুরু করেছে মাছ। এতে চিংড়ি শিল্পের উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এবারের মতো খরা ও অনাবৃষ্টি দেখেনি এখানকার কৃষকরা। যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চিংড়ি উৎপাদনে। এ উপজেলায় সাধারনত ধান এবং চিংড়ি মাছ একই সাথে চাষাবাদ করা হয়। শীতকালে ধান রোপনোর সময় ঘেরের পানি কমিয়ে ক্যানেলে নামিয়ে রাখা হয়। কিন্তু চলমান অনাবৃষ্টি ও খড়ায় ক্যানেলের পানি শুকিয়ে গেছে। এতে ক্যানেলে মাছের ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারনে ক্যানেলের পানিতে অক্সিজেনের পরিমান কমে যাচ্ছে। এতে চিংড়ি মাছসহ অন্যান্য মাছ মারা যাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, এ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ১৪ হাজারের বেশি চিংড়ি ঘের রয়েছে। বাগদা চিংড়ির চাষ হয় ৪০৯৩ হেক্টর জমিতে এবং গলদা চিংড়ি চাষ হয় ৫৩১.৮৪ হেক্টর জমিতে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে এ উপজেলায় বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ২২৬১ মেট্রিক টন এবং গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ২৮৬ মেট্রিক টন ।কিন্তু এবছর পানির অভাবে চিংড়ি উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষীরা। একই সাথে এ লোকসান কিভাবে পোষাবেন তা নিয়ে তারা আছেন দুশ্চিন্তায়।

উপজেলার দারিয়ালা গ্রামের মৎস্য চাষী মোল্লা জসিম উদ্দিন জানান, আমি ধান বিক্রি করে এবং লোন নিয়ে ৫০ হাজার রেনু পোনা ঘেরে ছেড়েছি। চলমান আবহাওয়ার কারণে আমার পুরাতন এবং নতুন সব মাছ মারা গেছে আমি একটি মাছ ও বিক্রি করতে পারি নাই। এখন সরকারিভাবে যদি সহযোগীতা করেলে তাহলে ঘুরে দাড়াতে পারবো।

উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামের মৎস্য চাষী কিবরিয়া শেখ বলেন, বিগত ৪০ বছরেও এত রোদ দেখিনি। এখন ভাদ্র মাস চলে ঘেরে মাজা পর্যন্ত পানি থাকার কথা। সেখানে শিশুরা ঘেরের মধ্যে খেলাধুলা করছে। এঅবস্থায় মৎস্য চাষ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মোল্লাহাট সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম জানান, বর্তমানে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে মৎস্য চাষীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। অত্র মোল্লাহাটে ১৪ হাজারের বেশী বাগদা ও গলদা চিংড়ি ঘের রয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজারের বেশী ঘের পানি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে মাছ এবং চিংড়ির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে । এ অবস্থায় আমরা চাষীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চলমান মৌসুম শেষে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের তালিকা করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো। পরবর্তী সিদ্ধান্তের আলোকে তাদের যদি সাহায্য সহযোগী করা যায় তাহলে আমরা সেই ব্যবস্থা করবো।