Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

মোড়েলগঞ্জের গ্রামে হামলার প্রধান দুই আসামিকে খুঁজছে পুলিশ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 11:01:41 pm, Friday, 22 April 2022
  • 186 বার
মোংলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলার পর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আমরবুনিয়া গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামি গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পাশাপাশি ওই যুবকের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল আমুরবুনিয়রা গ্রামে ওই হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন যুবকের বাবা। এই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ২০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আমরবুনিয়ার সুরেষ রায়ের স্ত্রী সিকা রায় বলেন, ‘গ্রামের পরিস্থিতি এখন ভালো। তবে ভয় ও আতঙ্ক কাটেনি। আমরা সবকিছু ভুলে আগের মতো হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে এই গ্রামে বসবাস করতে চাই।’

ওই যুবকের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে যে অপরাধ করেছিল তার জন্য গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়েছিল। তাকে আমি মারধর করেছিলাম। বিষয়টি তখনই মিটমাট হয়ে গেছে। এরপরও ছেলের অপরাধের জন্য শাস্তি চাই। দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। সেই সঙ্গে আমার বাড়িতে যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরও বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন যারা হামলা চালিয়েছে তাদের দেখতে পাইনি। ঘটনার পর থেকে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেছে। এখনও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে।’

আমরবুনিয়া গ্রামের শাহজাহান চাপরাশি বলেন, ‘ঘটনার দিন নুর জামান ও উজ্জলের নেতৃত্বে একটা মিছিল নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাদের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পুরো গ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করেছে তারা। তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বলেন, আমরবুনিয়া গ্রামে ১১০ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে হিন্দু পরিবার ৫৪টি। বাকিগুলো মুসলিম পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম পরিবারগুলো সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছিল। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু বাড়িটি ইউএনওর নির্দেশে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে নতুন পাকাঘর ও মন্দির সংস্কার করে দিতে বলেছেন ইউএনও। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন ঘর ও মন্দির সংস্কার করে দেওয়া হবে।’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খান খুবই দুর্ধর্ষ। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ নানা অপরাধে জড়িত তারা। দুই জনের উসকানিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্রামে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আমরা নিরীহ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করেছি, আসামি ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক  বলেন, ‘সেদিন যে ঘটনা ঘটলো তা জঘন্যতম এবং দুঃখজনক। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ। তবে ঘটনার উসকানিদাতাদের গ্রেফতার করা হবে।’

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মন্দিরটি সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, ‘ওই গ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা সেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন রেখেছি। মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করতো পারবো।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

মোড়েলগঞ্জের গ্রামে হামলার প্রধান দুই আসামিকে খুঁজছে পুলিশ

আপডেট টাইম : 11:01:41 pm, Friday, 22 April 2022
মোংলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলার পর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আমরবুনিয়া গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামি গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পাশাপাশি ওই যুবকের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল আমুরবুনিয়রা গ্রামে ওই হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন যুবকের বাবা। এই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ২০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আমরবুনিয়ার সুরেষ রায়ের স্ত্রী সিকা রায় বলেন, ‘গ্রামের পরিস্থিতি এখন ভালো। তবে ভয় ও আতঙ্ক কাটেনি। আমরা সবকিছু ভুলে আগের মতো হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে এই গ্রামে বসবাস করতে চাই।’

ওই যুবকের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে যে অপরাধ করেছিল তার জন্য গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়েছিল। তাকে আমি মারধর করেছিলাম। বিষয়টি তখনই মিটমাট হয়ে গেছে। এরপরও ছেলের অপরাধের জন্য শাস্তি চাই। দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। সেই সঙ্গে আমার বাড়িতে যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরও বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন যারা হামলা চালিয়েছে তাদের দেখতে পাইনি। ঘটনার পর থেকে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেছে। এখনও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে।’

আমরবুনিয়া গ্রামের শাহজাহান চাপরাশি বলেন, ‘ঘটনার দিন নুর জামান ও উজ্জলের নেতৃত্বে একটা মিছিল নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাদের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পুরো গ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করেছে তারা। তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বলেন, আমরবুনিয়া গ্রামে ১১০ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে হিন্দু পরিবার ৫৪টি। বাকিগুলো মুসলিম পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম পরিবারগুলো সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছিল। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু বাড়িটি ইউএনওর নির্দেশে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে নতুন পাকাঘর ও মন্দির সংস্কার করে দিতে বলেছেন ইউএনও। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন ঘর ও মন্দির সংস্কার করে দেওয়া হবে।’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খান খুবই দুর্ধর্ষ। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ নানা অপরাধে জড়িত তারা। দুই জনের উসকানিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্রামে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আমরা নিরীহ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করেছি, আসামি ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক  বলেন, ‘সেদিন যে ঘটনা ঘটলো তা জঘন্যতম এবং দুঃখজনক। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ। তবে ঘটনার উসকানিদাতাদের গ্রেফতার করা হবে।’

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মন্দিরটি সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, ‘ওই গ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা সেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন রেখেছি। মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করতো পারবো।’