Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

মোড়েলগঞ্জের গ্রামে হামলার প্রধান দুই আসামিকে খুঁজছে পুলিশ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 11:01:41 pm, Friday, 22 April 2022
  • 207 বার
মোংলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলার পর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আমরবুনিয়া গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামি গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পাশাপাশি ওই যুবকের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল আমুরবুনিয়রা গ্রামে ওই হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন যুবকের বাবা। এই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ২০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আমরবুনিয়ার সুরেষ রায়ের স্ত্রী সিকা রায় বলেন, ‘গ্রামের পরিস্থিতি এখন ভালো। তবে ভয় ও আতঙ্ক কাটেনি। আমরা সবকিছু ভুলে আগের মতো হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে এই গ্রামে বসবাস করতে চাই।’

ওই যুবকের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে যে অপরাধ করেছিল তার জন্য গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়েছিল। তাকে আমি মারধর করেছিলাম। বিষয়টি তখনই মিটমাট হয়ে গেছে। এরপরও ছেলের অপরাধের জন্য শাস্তি চাই। দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। সেই সঙ্গে আমার বাড়িতে যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরও বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন যারা হামলা চালিয়েছে তাদের দেখতে পাইনি। ঘটনার পর থেকে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেছে। এখনও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে।’

আমরবুনিয়া গ্রামের শাহজাহান চাপরাশি বলেন, ‘ঘটনার দিন নুর জামান ও উজ্জলের নেতৃত্বে একটা মিছিল নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাদের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পুরো গ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করেছে তারা। তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বলেন, আমরবুনিয়া গ্রামে ১১০ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে হিন্দু পরিবার ৫৪টি। বাকিগুলো মুসলিম পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম পরিবারগুলো সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছিল। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু বাড়িটি ইউএনওর নির্দেশে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে নতুন পাকাঘর ও মন্দির সংস্কার করে দিতে বলেছেন ইউএনও। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন ঘর ও মন্দির সংস্কার করে দেওয়া হবে।’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খান খুবই দুর্ধর্ষ। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ নানা অপরাধে জড়িত তারা। দুই জনের উসকানিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্রামে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আমরা নিরীহ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করেছি, আসামি ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক  বলেন, ‘সেদিন যে ঘটনা ঘটলো তা জঘন্যতম এবং দুঃখজনক। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ। তবে ঘটনার উসকানিদাতাদের গ্রেফতার করা হবে।’

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মন্দিরটি সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, ‘ওই গ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা সেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন রেখেছি। মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করতো পারবো।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোড়েলগঞ্জের গ্রামে হামলার প্রধান দুই আসামিকে খুঁজছে পুলিশ

আপডেট টাইম : 11:01:41 pm, Friday, 22 April 2022
মোংলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলার পর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আমরবুনিয়া গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামি গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পাশাপাশি ওই যুবকের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল আমুরবুনিয়রা গ্রামে ওই হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন যুবকের বাবা। এই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ২০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আমরবুনিয়ার সুরেষ রায়ের স্ত্রী সিকা রায় বলেন, ‘গ্রামের পরিস্থিতি এখন ভালো। তবে ভয় ও আতঙ্ক কাটেনি। আমরা সবকিছু ভুলে আগের মতো হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে এই গ্রামে বসবাস করতে চাই।’

ওই যুবকের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে যে অপরাধ করেছিল তার জন্য গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়েছিল। তাকে আমি মারধর করেছিলাম। বিষয়টি তখনই মিটমাট হয়ে গেছে। এরপরও ছেলের অপরাধের জন্য শাস্তি চাই। দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক। সেই সঙ্গে আমার বাড়িতে যারা হামলা চালিয়েছে তাদেরও বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন যারা হামলা চালিয়েছে তাদের দেখতে পাইনি। ঘটনার পর থেকে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেছে। এখনও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে।’

আমরবুনিয়া গ্রামের শাহজাহান চাপরাশি বলেন, ‘ঘটনার দিন নুর জামান ও উজ্জলের নেতৃত্বে একটা মিছিল নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাদের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটেছে। পুরো গ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করেছে তারা। তাদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বলেন, আমরবুনিয়া গ্রামে ১১০ পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে হিন্দু পরিবার ৫৪টি। বাকিগুলো মুসলিম পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম পরিবারগুলো সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছিল। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু বাড়িটি ইউএনওর নির্দেশে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে নতুন পাকাঘর ও মন্দির সংস্কার করে দিতে বলেছেন ইউএনও। কয়েকদিনের মধ্যে নতুন ঘর ও মন্দির সংস্কার করে দেওয়া হবে।’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খান খুবই দুর্ধর্ষ। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ নানা অপরাধে জড়িত তারা। দুই জনের উসকানিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্রামে এখন গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আমরা নিরীহ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করেছি, আসামি ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক  বলেন, ‘সেদিন যে ঘটনা ঘটলো তা জঘন্যতম এবং দুঃখজনক। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ। তবে ঘটনার উসকানিদাতাদের গ্রেফতার করা হবে।’

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরটি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মন্দিরটি সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, ‘ওই গ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আমরা সেখানে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন রেখেছি। মামলার আসামি ছাড়া নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলার নেতৃত্ব দেওয়া নুর জামান ও উজ্জল খানকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করতো পারবো।’