Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

রামপাল-গোনাবেলাইয়ের ৫ কিমি সড়কটি তিন বছরেও নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি ; জনভোগান্তি চরমে

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 11:56:12 am, Monday, 23 May 2022
  • 151 বার
এম, এ সবুর রানা, বাগেরহাট: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা এলজিইডির গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস মোড় হতে বেলাইব্রীজ পর্যন্ত ৫.১০০ কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণ কাজ গত ৩ বছরেও শেষ করতে পারেনি। এতে মোংলাগামী ও এর আশপাশের এলাকার বহু মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী ও রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দের আবেদন নিবেদনেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

রামপাল উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেলাই ব্রীজ হতে রামপাল সদরের ফায়ার সার্ভিস মোড় পর্যন্ত ৫. ১০০ কি.মি. সড়কটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয় ৪ কোটি ৫৬ লক্ষ ৭২ হাজার ১৮৪ টাকা। খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম,এ জলিল খান সড়কটি নির্মাণ করছিলেন। স্থানীয়ভাবে কাজটির দেখভাল করছিলেন জিয়াউর রহমান নামের এক প্রতিনিধি। সড়কটি নির্মাণ শুরু হয় গত ইং ০৩-০৫-২০১৮ তারিখ। যা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল গত ইং ০২-০৫-২০১৯ সালে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ইং ৩০-১১-২০২০ সাল পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। এতেও তারা যথা সময়ে নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারেননি। এরপর রামপাল উপজেলা এলজিইডির পক্ষ থেকে তাদের ৩ বার নোটিশ পাঠানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেননি বলে এলজিইডি কর্মকর্তা মো. গোলজার হোসেন দাবী করেন। ইতিমধ্যে ওই সড়কটির ৬৫ ভাগ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিন শেখ জানান, বার বার তাগিদ দেয়ার পরও জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি এটা দুঃখজনক। ওই সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে রামপাল থেকে মোংলার দূরত্ব ১০ কিলোমিটার কমে যেত। এতে সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মোংলা ইপিজেডগামী শ্রমিকসহ মোংলা বন্দর ব্যাবহারকারী ও ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষের বিরাট উপকার হতো। তাদের যাতায়াতে পরিবহন ব্যয় ও সময়ের সাশ্রয় হতো। এতো জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণ কাজ গত ৩ বছরেও সম্পন্ন করা গেল না, এটা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আছে বলে মনে করেন ওই নেতা৷অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারককারী মো. জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত ০১৭১১-৯৫০৪৬৮ নম্বরে ফোনে কল করে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে গাফিলতি করেছেন। আমরা নোটিশ করেও তাদের দিয়ে কাজ করাতে ব্যর্থ হয়েছি। তাদের কার্যাদেশ বাতিলের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। স্থানীয়রা ওই সড়কের নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী সড়কটি দ্রুত নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

রামপাল-গোনাবেলাইয়ের ৫ কিমি সড়কটি তিন বছরেও নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি ; জনভোগান্তি চরমে

আপডেট টাইম : 11:56:12 am, Monday, 23 May 2022
এম, এ সবুর রানা, বাগেরহাট: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা এলজিইডির গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস মোড় হতে বেলাইব্রীজ পর্যন্ত ৫.১০০ কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণ কাজ গত ৩ বছরেও শেষ করতে পারেনি। এতে মোংলাগামী ও এর আশপাশের এলাকার বহু মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী ও রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দের আবেদন নিবেদনেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

রামপাল উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেলাই ব্রীজ হতে রামপাল সদরের ফায়ার সার্ভিস মোড় পর্যন্ত ৫. ১০০ কি.মি. সড়কটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয় ৪ কোটি ৫৬ লক্ষ ৭২ হাজার ১৮৪ টাকা। খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম,এ জলিল খান সড়কটি নির্মাণ করছিলেন। স্থানীয়ভাবে কাজটির দেখভাল করছিলেন জিয়াউর রহমান নামের এক প্রতিনিধি। সড়কটি নির্মাণ শুরু হয় গত ইং ০৩-০৫-২০১৮ তারিখ। যা সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল গত ইং ০২-০৫-২০১৯ সালে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ইং ৩০-১১-২০২০ সাল পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। এতেও তারা যথা সময়ে নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারেননি। এরপর রামপাল উপজেলা এলজিইডির পক্ষ থেকে তাদের ৩ বার নোটিশ পাঠানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেননি বলে এলজিইডি কর্মকর্তা মো. গোলজার হোসেন দাবী করেন। ইতিমধ্যে ওই সড়কটির ৬৫ ভাগ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিন শেখ জানান, বার বার তাগিদ দেয়ার পরও জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি এটা দুঃখজনক। ওই সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে রামপাল থেকে মোংলার দূরত্ব ১০ কিলোমিটার কমে যেত। এতে সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মোংলা ইপিজেডগামী শ্রমিকসহ মোংলা বন্দর ব্যাবহারকারী ও ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষের বিরাট উপকার হতো। তাদের যাতায়াতে পরিবহন ব্যয় ও সময়ের সাশ্রয় হতো। এতো জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণ কাজ গত ৩ বছরেও সম্পন্ন করা গেল না, এটা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আছে বলে মনে করেন ওই নেতা৷অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারককারী মো. জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত ০১৭১১-৯৫০৪৬৮ নম্বরে ফোনে কল করে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে গাফিলতি করেছেন। আমরা নোটিশ করেও তাদের দিয়ে কাজ করাতে ব্যর্থ হয়েছি। তাদের কার্যাদেশ বাতিলের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। স্থানীয়রা ওই সড়কের নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী সড়কটি দ্রুত নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।