Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সাহায্য চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 10:01:07 pm, Tuesday, 26 April 2022
  • 184 বার
নিউজ ডেক্স: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসার পর ভারতের সাহায্য বাংলাদেশ চেয়েছে। ভারত বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে তারা বিষয়টি তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু ও ভারতীয় সম্প্রদায় র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল বলে।’

সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বার্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেটি বলেছে, সেটি হচ্ছে জবাবদিহি। বাংলাদেশে বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহি রয়েছে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় ফাঁসি হয়েছে। অনেকে চাকরিচ্যুত হয়েছে। আমাদের ভেতরে যে জবাবদিহি রয়েছে, বিষয়টি মার্কিনদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছায়নি।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে লাইন অব ডিউটিতে মানুষ মেরে ফেলে। আমাদের এখানেও লাইন অব ডিউটিতে মানুষ মরে। কিন্তু এগুলো ন্যায়সংগত হতে হবে।’ তবে এমন ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হয়নি বলেও জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো হয়তো আমাদের ব্যাখ্যায় (তারা) সন্তুষ্ট হয়নি। ভবিষ্যতে হয়তো হবে।’

ভূরাজনীতি প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিবের রাশিয়া সফরের বিষয়ে খুব আশাবাদী। আমরা চাই যাতে যুদ্ধ বন্ধ হয়। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মহাসচিবকে সব ধরনের উৎসাহ দেওয়া হবে বাংলাদেশ থেকে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা আসছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো একটা সুখবর নিয়ে আসবেন। তবে কি খবর নিয়ে আসবেন, তা এখনো আমরা জানি না। ভারতের গণমাধ্যমের বরাতে আমরা জেনেছি, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।’ তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার হয়তো তারিখসহ আমন্ত্রণ দেওয়া হবে।  ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের তারিখ ঠিক হবে জানিয়ে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি সাক্ষাৎ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েরও সাক্ষাৎ রয়েছে। সেখানে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সফরে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ‘সবকিছু নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অন্যান্য বিষয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য বিষয়ক বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ও রয়েছে। আমরা আরও বেশি বাণিজ্য বাড়াতে চাই। মে মাসের শেষ দিকে হয়তো জেসিসি বৈঠকটি হবে। বৈঠকটি করতে ভারতে যাব।’ তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জেসিসি বৈঠকের আগে কিছু বৈঠক শেষ করতে হয়। দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে। নদী কমিশনের বৈঠক এখনো শেষ হয়নি। ফলে এ ধরনের বৈঠকগুলো শেষ হলে জেসিসি বৈঠক হবে।’ দেশের মহাসড়ক নিয়ে আসন্ন এ বৈঠকে আলোচনায় ঢাকার আগ্রহ আছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের মধ্যে সড়ক পথে কানেকটিভিটি প্রতিষ্ঠিত করার কাজ চলছে। এই উদ্যোগে সংযুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ। আমরা তাদের আবার অনুরোধ করব। ইতিমধ্যে ভারত এ বিষয়ে রাজি হয়ে। থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন, তাদেরও কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব।’ চীনের ঋণ নিয়ে প্রশ্ন করলে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট যখন বাংলাদেশ এসেছিলেন, তখন আমরা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কতটুকু নিয়েছি, সেটি দেখতে হবে। ঋণ নেওয়ার সময়ে আমরা খুবই হিসাব করে নিই। আমাদের বেশির ভাগ ঋণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ও জাপান থেকে। চীন থেকে খুবই অল্প ঋণ নেওয়া হয়েছে, যা মোট ঋণের ৫ শতাংশেরও কম। সবাই শুধু চীনের ঋণের কথা বলে। জাপানের ঋণের কথা কেউ বলে না। বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার কোনো তুলনা হয় না।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সাহায্য চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট টাইম : 10:01:07 pm, Tuesday, 26 April 2022
নিউজ ডেক্স: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসার পর ভারতের সাহায্য বাংলাদেশ চেয়েছে। ভারত বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে তারা বিষয়টি তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু ও ভারতীয় সম্প্রদায় র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল বলে।’

সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বার্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেটি বলেছে, সেটি হচ্ছে জবাবদিহি। বাংলাদেশে বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহি রয়েছে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় ফাঁসি হয়েছে। অনেকে চাকরিচ্যুত হয়েছে। আমাদের ভেতরে যে জবাবদিহি রয়েছে, বিষয়টি মার্কিনদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছায়নি।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে লাইন অব ডিউটিতে মানুষ মেরে ফেলে। আমাদের এখানেও লাইন অব ডিউটিতে মানুষ মরে। কিন্তু এগুলো ন্যায়সংগত হতে হবে।’ তবে এমন ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হয়নি বলেও জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো হয়তো আমাদের ব্যাখ্যায় (তারা) সন্তুষ্ট হয়নি। ভবিষ্যতে হয়তো হবে।’

ভূরাজনীতি প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিবের রাশিয়া সফরের বিষয়ে খুব আশাবাদী। আমরা চাই যাতে যুদ্ধ বন্ধ হয়। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মহাসচিবকে সব ধরনের উৎসাহ দেওয়া হবে বাংলাদেশ থেকে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা আসছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো একটা সুখবর নিয়ে আসবেন। তবে কি খবর নিয়ে আসবেন, তা এখনো আমরা জানি না। ভারতের গণমাধ্যমের বরাতে আমরা জেনেছি, তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।’ তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার হয়তো তারিখসহ আমন্ত্রণ দেওয়া হবে।  ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের তারিখ ঠিক হবে জানিয়ে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি সাক্ষাৎ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়েরও সাক্ষাৎ রয়েছে। সেখানে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সফরে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে আবদুল মোমেন বলেন, ‘সবকিছু নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অন্যান্য বিষয়, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য বিষয়ক বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ও রয়েছে। আমরা আরও বেশি বাণিজ্য বাড়াতে চাই। মে মাসের শেষ দিকে হয়তো জেসিসি বৈঠকটি হবে। বৈঠকটি করতে ভারতে যাব।’ তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জেসিসি বৈঠকের আগে কিছু বৈঠক শেষ করতে হয়। দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে। নদী কমিশনের বৈঠক এখনো শেষ হয়নি। ফলে এ ধরনের বৈঠকগুলো শেষ হলে জেসিসি বৈঠক হবে।’ দেশের মহাসড়ক নিয়ে আসন্ন এ বৈঠকে আলোচনায় ঢাকার আগ্রহ আছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের মধ্যে সড়ক পথে কানেকটিভিটি প্রতিষ্ঠিত করার কাজ চলছে। এই উদ্যোগে সংযুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ। আমরা তাদের আবার অনুরোধ করব। ইতিমধ্যে ভারত এ বিষয়ে রাজি হয়ে। থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন, তাদেরও কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব।’ চীনের ঋণ নিয়ে প্রশ্ন করলে এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট যখন বাংলাদেশ এসেছিলেন, তখন আমরা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কতটুকু নিয়েছি, সেটি দেখতে হবে। ঋণ নেওয়ার সময়ে আমরা খুবই হিসাব করে নিই। আমাদের বেশির ভাগ ঋণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ও জাপান থেকে। চীন থেকে খুবই অল্প ঋণ নেওয়া হয়েছে, যা মোট ঋণের ৫ শতাংশেরও কম। সবাই শুধু চীনের ঋণের কথা বলে। জাপানের ঋণের কথা কেউ বলে না। বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার কোনো তুলনা হয় না।’