নিউজ ডেক্স: শিগগিরই পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুরের কৃষি উদ্যোক্তা শাহীদা বেগমের পেঁয়াজ বীজ মাঠ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ ও বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কৃষকের সঙ্গে দেশব্যাপী কাজ করছে কৃষি বিভাগ। গ্রীষ্মকালসহ সারাবছর চাষ করার যায় এমন জাত উদ্ভাবন করেছেন আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা। পেঁয়াজ পচনশীল মসলা জাতীয় ফসল। তবে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশব্যাপী কৃষক পেঁয়াজের আবাদ করে। সমস্যা দেখা দেয় সংরক্ষণ নিয়ে। আলুর মতো কোল্ডস্টরেজে এটি রাখা যায় না। এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণের লাগসই কোনো প্রযুক্তি আমরা উদ্ভাবন করতে পারিনি। এজন্য পেঁয়াজ চাষিদের সতর্ক হতে হবে।
পেঁয়াজ আমদানি সম্পর্কে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রমজানে পেঁয়াজের দাম যাতে লাগামহীন না হয় সেজন্য আমদানি খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল দাম কমে গেছে, ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কৃষি মন্ত্রণালয় উভয় সংকটে থাকে। কারণ আমরা কৃষকে বাঁচাতে চাইলে ক্রেতারা অখুশি হন, আবার ক্রেতাকে খুশি করতে গেলে কৃষক দাম পায় না। কৃষক অনেক টাকা খরচ করে পেঁয়াজের বীজ ও পেঁয়াজ আবাদ করে। তারা যদি সঠিক দাম না পায় তাহলে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
ফরিদপুরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনকারী নারী উদ্যোক্তা শাহীদা বেগমের উদাহরণ টেনে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে এমন হাজারও সাহিদা বেগমকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই দেশের কৃষিতে অবদান রাখবে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি উদ্যোক্তারা যাতে সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋণ পায় তার ব্যবস্থা করছে সরকার। আমরা কৃষি উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাদের জন্য সরকারের সহযোগিতার হাত সর্বদাই প্রশস্ত রয়েছে।
কৃষির যান্ত্রিকীকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অন্যান্য ফসলের মতো পেঁয়াজের বীজও যাতে ক্ষেত থেকে মেশিন দিয়ে যাতে আহরণ করা যায় সেই প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। খুব শিগরিরই আপনারা সেটি মাঠে পাবেন।
মাঠ পরিদর্শন শেষে উদ্যোক্তা শাহীদা বেগমের বাড়িতে পেঁয়াজ বীজ সংরক্ষণাগার ঘুরে দেখেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বেনজির আলম, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. হজরত আলী ও বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক বক্তার হোসেন খান প্রমুখ।
এরপর কৃষিমন্ত্রী ফরিদপুর মসলা গবেষণা উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে বারি-৪ আম গাছের চারা রোপন করেন। পরে কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের আদা, মরিচ, হলুদ, বারি-৫ পেঁয়াজের চারা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেন। এ সময় মসলা গবেষণা উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলাউদ্দিন খান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: মুশফিকুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Md.Liton 











